শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গোবিন্দনগর সরকার বাড়ি মোড়ে গত শনিবার রাতে এক কিশোরী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সোমবার ভোরে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন গোবিন্দনগর গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে আল আমিন (৩৫) ও মো. সাইমুদ্দিনের ছেলে রিকশাচালক আবদুল জলিল শাহিন (২২)। অপর অভিযুক্ত আবদুল কাদেরের ছেলে সোহাগ মিয়া বর্তমানে পলাতক।
এদিকে বিকেলে শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দুই অভিযুক্ত ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানববন্দি দিয়েছে। শেরপুর জেলা হাসপাতালে নির্যাতিতা কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ জানায়, উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নের নানা বাড়ি থেকে শনিবার সন্ধ্যার পর ওই কিশোরী নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলো। পথে সরকার বাড়ি মোড়ে কিশোরীর সঙ্গে পূর্বপরিচিত দুই যুবকের দেখা হয়। তারা রিকশা করে যাচ্ছিল। এসময় আলামিন ওই কিশোরীকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার জন্য রিকশায় উঠতে বলে। কিন্ত সে তাতে সায় না দিলে আলামিন ও সোহাগ জোড় করে মেয়েটিকে রিকশায় তোলে ভোগাই নদীর তীরে নির্জন বাঁশেঝাড়ে নিয়ে যায়। এ সময় মেয়েটি চিৎকার করলে হত্যার ভয় দেখিয়ে আলামিন, সোহাগ ও রিকশাচালক শাহীন পর্যায়ক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। রাত সাড়ে ১১টার মেয়েটির কান্নাকাটি শুনে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রহুল কুদ্দুস মেয়েটিকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি পৌঁছে দেন। এসময় সে বাবা-মার কাছে ধর্ষণের কথা জানায়। পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় রোববার রাতে কিশোরীর বাবা নালিতাবাড়ী থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আল আমিন ও শাহিনকে গ্রেফতার করে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নালিতাবাড়ী থানার ওসি মো. ফসিহুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুজন ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

