মোঃ রিয়াজ উদ্দীন: খুলনায় প্রতিনিয়ত আয়না দর্পন, ঝাড় ফুঁক, পানি পড়া, তাবিজ কবজ সহ জ্বীনের নামে চাঁদাবাজি করে আসছে একজন কবিরাজ নামে প্রতারক। অত্র জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ০৩ নং রুদ্রাঘরা ইউনিয়নের ০৭ নং ওয়ার্ডের মিকশিমিল গ্রামের মৃত হাকিম ফকিরের ছেলে (০১) মোঃ আঃ মজিদ (৫৫) ও তার একমাত্র সহযোগী ভ্যানচালক (০২) মোঃ হানেফ মোড়ল (৬০) এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সহজ সরল মানুষের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে।
উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে গিয়ে এসকল প্রতারণার সাথে তাদেরকে সম্পূর্ণ জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। তার দাওয়াখানায় গিয়ে অন্যদের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে স্ত্রী বাড়ীতে থাকা সত্ত্বেও কবিরাজ মোঃ মজিদ ফকিরের কাছে স্ত্রী বাড়ীতে নেই বলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তোর স্ত্রীকে কালো জ্বীন নিয়ে গেছে। আর এটা তোর শত্রু কাওরা মুচি কবিরাজ দিয়ে তদবির করিয়েছে। এখন এই তদবির তুলতে হবে। আমি তদবির তুলতে পারি না এটা বলে জোর পূর্বক সিরিয়ালের ফিস নিয়ে আয়না ভরণ করাতে সহযোগী কবিরাজ ভ্যানচালক মোঃ হানেফ মোড়লের মোবাইল নাম্বার দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন।
তিনি আবার শনি ও মঙ্গলবার ছাড়া আয়না দেখেন না। পুনরায় শনিবার সেখানে গেলে ভন্ড হানেফ মোড়ল বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে ৩৫০০ শত টাকা চুক্তি করে অগ্রিম ২০০০ টাকা দাবি করেন। অর্থ্যাৎ মজিদ ফকির নিজে সে ঝাঁড় ফুঁক, তেল ও পানিপড়া দেয় দিয়ে আয়না ভরণ করায় তার সহযোগী হানিফ মোড়লকে দিয়ে। সেখানেও চলে আসল বানিজ্যে রোগী চিকিৎসা নিতে আসলে সে রোগ অনুয়ায়ী রোগীর সাথে চুক্তি করে। চুক্তিতে উল্লেখ থাকে অর্ধেক অংশ অগ্রিম দিতে হবে বাকি অর্ধেক কাজের পর। সেই টাকা থেকেও মজিদ ফকির পকেটে ঢুকায়। কোন কাজ না হলে অগ্রিম টাকা আর সেবাগ্রহীতারা ফেরত পান না। ফলে রোগ না সারলেও চিকিৎসার কথা বলে হাতিয়ে নেওয়া শুরু করেছে হাজার হাজার টাকা।
চিহ্নিত উক্ত প্রতারক চক্র সমাজে ভাল মানুষ সেজে সুচিকিৎসা দেয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহজ সরল নারী পুরুষের বোকা বানিয়ে দুঃপ্রাপ্য বস্তু যেমনঃ সিন্দুর, আমলকী, ব্লেড, সরিষা, মোমবাতি, সুচ কর্পুরসহ প্রভৃতি জিনিসপত্র দিয়ে প্রবাসী চাকরি, বিয়ে, জায়গা জমি সংক্রান্ত সমস্যা, স্বামী-স্ত্রীর কলহ, হারানো জিনিস ফিরে পাওয়া, প্রেম ভালোবাসা সহ নানা সমস্যা সমাধান করে দেয়ার কথা বলে প্রতারণা করে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। এছাড়াও নকল করা, শরীরে জ্বীন ধারণ, উপকারী গাছ ব্যবহার করে, তাবিজ কবজের বই সামনে রাখা, আয়নার দিকে তাকিয়ে কথা বলা, শনিবার ও মঙ্গলবার দিন ধার্য্য করা, ফুঁক দিয়ে কেমিক্যালের মাধ্যমে কাগজ জ্বালানো ও হাড়ি ফোটানো, হাত ও চোখ দেখেই কালো জাদু বা তদবির বানিজ্যের মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণা করে আসছে। প্রথমে কালো জাদু কাঁটা, বাড়ী থেকে তদরির তোলাসহ প্রভৃতি ভয় দেখিয়ে অগ্রিম টাকা দাবি করে।
এ গুলো আসলে তাদের সোর্স ও সেবাগ্রহীতার বক্তব্যের সাথে তাল মিলিয়ে মনগড়া ও কাল্পনিক সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কাছে প্রদান করে আসছে। এ বিষয়ে মোঃ মজিদ ফকির (৫৫) তার বক্তব্যে বলেন, আমার কোন শিক্ষাদীক্ষা নেই। বাপ দাদার আমল থেকে হয়ে আসছে এই কবিরাজি। বর্তমানে আমার কোন কাগজপত্র বা ট্রেড লাইসেন্স নেই। আমি সর্বশেষ গত আট ০৮ বছর আগে চেয়ারম্যানের ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছিলাম। আমি ভবিষ্যতে অহেতুক তথ্য দিয়ে মানুষের সাথে এমন প্রতারণামূলক কোন কাজ আর করবো না বলেও তিনি জানান। উপস্থিত কবিরাজি চিকিৎসা নিতে আসা সেবাগ্রহীতারা বলেন, বিভিন্ন মারফতে জানতে পেরে আমরা এখানে এসেছি চিকিৎসা নিতে। অনেকেই বললেন ‘আমরা বেশ কয়েক সপ্তাহ যাবত এখানে আসছি।
তবে রোগ সেরে যাওয়ার কোন লক্ষণ এখনও পায়নি। তবুও এক বুক আশা নিয়ে আমরা এখানে আসছি। এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শিকদার আলী আকবর ও খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ সুজিত আহমেদ এর নিকট বার বার ফোন দিলেও ফোনটি রিসিভ করেননি। এই ভূয়া কবিরাজ নামে প্রতারক চক্র ছাড়াও সমাজের আনাছেকানাছে লুকিয়ে থাকা সকল প্রতারকদের তথ্য অনুসন্ধান করে ধারাবাহিক ভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হবে।

