‘খালেদাকে নিয়ে চলচ্চিত্র বানালে সেটা হবে ভৌতিক মুভি’

0
644

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে চলচ্চিত্র বানালে একটা হরর মুভি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ। এসময় তিনি বলেন, ‘ভৌতিক ছবিতে আপনারা দেখেছেন-মানুষ না পোড়ালে নায়িকার ঘুম হয় না। খালেদা জিয়াকে নিয়ে চলচ্চিত্র বানালে এগুলোই উঠে আসবে। সেজন্যই শেখ হাসিনাকে নিয়ে বানানো ছবি নিয়ে বিএনপি এবং রিজভী আহমেদের এত গাত্রদাহ।’রোববার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেছেন ড. হাছান মাহমুদ। নির্বাচনের আগে তফসিল ঘোষণার পর শেখ হাসিনাকে নিয়ে নির্মিত ডকু ড্রামা ‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’ এর প্রচারণা ও তা প্রদর্শনের কারণে নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন রিজভী আহমেদ। তারই জবাবে বিএনপি চেয়ারপাসনকে নিয়ে এসব মন্তব্য করেছেন হাছান মাহমুদ।

Advertisement

শেখ হাসিনাকে নিয়ে নির্মিত ডকু-ড্রামা ‘হাসিনা: অ্যা ডটা ‘স টেল’ সম্পর্কে রিজভী আহমেদের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ওপর একটি ডকুমেন্টারি মুক্তি পেয়েছে। শেখ হাসিনার সাধারণ জীবনযাপন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড, তারপর তিনি যে সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে, হার্ডশিপের মধ্যে দিয়ে তার যে জীবন অতিক্রান্ত হয়েছে, দেশের মানুষের প্রতি তার যে মমত্ববোধ, মানুষের অধিকার আদায়ে তার যে সংগ্রাম, এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

ছবিটি দেখার জন্য আজকে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে, প্রেক্ষাগৃহে জায়গা পাচ্ছে না, এটা নিছক একটি শিল্পকর্ম। এর সঙ্গে রাজনীতি কিংবা ভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। এটার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ এই ছবির প্রদর্শনী নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ নির্বাচন আচরণবিধির কী খুঁজে পেলেন সেটা আমার বোধগম্য নয়।’

এসময় তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে চলচ্চিত্র বানানোর কিছু নেই। তাই বিএনপির গাত্রদাহ। বিএনপির গাত্রদাহের মূল কারণ হচ্ছে-তাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে এমন কোনো শিল্পকর্ম বানানোর সুযোগ নেই। খালেদা জিয়ার জীবনী লিখতে গেলে কিংবা জীবনী নিয়ে চলচ্চিত্র বানাতে গেলে তো বলতে হবে- নিজের জন্মদিন না হওয়া সত্ত্বেও, ১৫ আগস্ট তিনি কেক কাটেন। একটি মানুষের পাঁচটি জন্ম তারিখ।

খালেদা জিয়াকে নিয়ে যদি কোনো চলচ্চিত্র বানাতে হয় তাহলে বলতে হবে-তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পরপর পাঁচ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তিনি কালো টাকা সাদা করেছেন, তার দুই পুত্রের দুর্নীতি বিদেশে উদ্ঘাটিত হয়েছে। দুর্নীতির দায়ে তার ১০ বছর জেল হয়েছে।’নিভু নিভু প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতেই সমাবেশের ডাক দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট ঐক্যফ্রন্টের মধ্যেই ঐক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, তারা তাদের নিভু নিভু প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতেই সমাবেশের ডাক দিয়েছে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের চতুর্থ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঐক্যফ্রন্ট গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচিতরা শপথ নিয়েছেন। এমনকি মহিলা এমপি কোটাও তারা পূর্ণ করেছেন। এমপি হিসেবে সংসদ থেকে সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আবার সেই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলা তাদের নিজেদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। আন্দোলন-সমাবেশের আগে তাদের উচিত ছিল পদত্যাগ করা।

বিএনপি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা এবং সরকারবিরোধী ‘তুমুল’ আন্দোলনের ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপির তুমুল আন্দোলন’ আমরা দেখেছি। তাদের যত সমাবেশ, নিজেদের মধ্যে মারামারিও তত। নেতাদের ওপর কর্মীদের আস্থা নেই। যে নেতারা বোরখা পরে আদালতে জামিন নিতে যান, তাদের ওপর কর্মীদের আস্থা না থাকাই স্বাভাবিক। তাদের আন্দোলনের ডাক শুনে মনে হয় এ জন্যই লোকে বলে- ‘খালি কলসি, বাজে বেশি’।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, খালেদা জিয়া রাজনৈতিক কোনো বন্দি নন, যে তাকে আন্দোলন করে মুক্ত করা যাবে। বিএনপির আন্দোলন কার বিরুদ্ধে-এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, দুর্নীতির দায়ে তাকে সাজা দিয়েছেন আদালত। দন্ডপ্রাপ্ত আসামিকে মুক্ত করতে বিএনপির আন্দোলনের হুমকি আইন ও আদালত অবমাননার শামিল।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ জাতির পিতার স্বপ্নপূরণের পথে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে মন্তব্য করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য রফতানির দেশ, দুর্যোগে সাহায্য গ্রহীতা থেকে সাহায্য প্রদানকারী, গত এক দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বের সর্বোচ্চ দেশে রূপান্তরিত হওয়া যারা সহ্য করতে পারে না, তারাই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here