ক্রিসেন্ট গ্রুপ ৯১৯ কোটি টাকা পাচার করেছে

0
984

জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজের মালিকানাধীন ক্রিসেন্ট গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৯১৯ কোটি টাকা পাচার করেছে।

Advertisement

 

এ ঘটনায় আবদুল আজিজসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। মামলার অন্যতম আসামি ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লি. ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লি.-এর চেয়ারম্যান এমএ কাদেরকে গতকাল বিকালে কাকরাইল থেকে আটক করা হয়েছে। জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে বুধবার এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া এসব কথা বলেন। এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজধানীর চকবাজার মডেল থানায় ৩টি মামলা করা হয়েছে। মামলা নং যথাক্রমে ৫৪, ৫৫ ও ৫৬। মামলায় আবদুল আজিজ, জনতা ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ ও ৫৬ নং মামলার অন্যতম  আসামি ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লি. ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লি.-এর চেয়ারম্যান এম এ কাদেরকে বিকেলে কাকরাইল থেকে আটক করা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমপ্রতি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লি., রিমেক্স ফুটওয়্যার লি. ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লি.র বিরুদ্ধে যথাক্রমে ৪২২.৪৬ কোটি টাকা, ৪৮১.২৬ কোটি টাকা ও ১৫.৮৪ কোটি টাকা অর্থাৎ সর্বমোট ৯১৯.৫৬ কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর কর্তৃক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) অনুযায়ী রিমেক্স ফুটওয়্যার লি.-এর চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস লিটুল জাহান (মিরা) এবং অন্য দুটি প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লি. ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লি.র চেয়ারম্যান এম এ কাদের এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস সুলতানা বেগম (মনি) ও জনতা ব্যাংক লি.র সংশ্লিষ্ট ১৩ জন কর্মকর্তাকে  আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস থেকে জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ করপোরেট শাখা যে রপ্তানি বিল কেনে, তার মধ্যে চার মাসে টাকা ফেরেনি, এমন বিলের সংখ্যা ২১৫টি এবং টাকার পরিমাণ ৪২৮.৫৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত ২১৫টি বিলের মধ্যে মাত্র তিন বিলের বিপরীতে ৫.৯৭ কোটি টাকা প্রত্যাবাসিত হয়েছে। ফলে ২১২টি বিলের বিপরীতে ৪২২.৪৬ কোটি টাকা অপ্রত্যাবাসিত রয়েছে।  এনবিআরের তদন্তে উঠে এসেছে কোম্পানি এবং ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ৪২২.৪৬ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার হয়েছে। এছাড়া রিমেক্স ফুটওয়্যারেরও জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখা থেকে ২৪০টি বিলের বিপরীতে ৪৮১.২৬ কোটি টাকা অপ্রত্যাবাসিত রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, টাকা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক ফার্ম নিয়োগ দেয়ার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে বিদেশি কয়েকটি ফার্মের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে বলা হয়, মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িতদের সম্পদের হিসাব নেয়া হবে।

 

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here