কৌশল পাল্টাচ্ছেন মহা দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিরবতা প্রশ্নবিদ্ধ

0
859

মো: আবদুল আলীম:
অনিয়ম ও দুর্নীতির কৌশল পাল্টিয়ে ফেলছেন ঢাকার উত্তর যাত্রাবাড়িতে অবস্থিত শহীদ জিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদ। তার লাগামহীন অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে এ পর্যন্ত অসংখ্যবার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু টাকার বিনিময়ে সবই ম্যানেজ হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের নিকট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে ১। মহাপরিচালক, মাধ্যমকি ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর,

Advertisement

২। সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ৩। চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ৪। জেলা শিক্ষা অফিসার, ৫। জেলা প্রশাসক এবং ৬। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা)। মজার ব্যাপার হচ্ছে এতগুলো প্রতিষ্ঠানের কাছে একের পর এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরও উক্ত দুর্নীতিবাজ অধ্যেক্ষের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে ভুক্তভোগীরা আজ হতাশ। ভুক্তভোগীরা বলছেন যতই এ দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হচ্ছে ততই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের টাকা খাওয়ার রাস্তা প্রসারিত হচ্ছে। অভিযোগকারিগণের মধ্যে রয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও ৪৮ নং ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর আবুল কালাম অনু। অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারা হতাশা ব্যাক্ত করে বলছেন,“বাংলাদেশ হচ্ছে সব সম্ভবের দেশ”, বিশালাকারের দুর্নীতি করেও এদেশে পার পাওয়া যায় যার এক উজ্জল উদাহারন যাত্রবাড়িতে অবস্থিত শহীদ জিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদ”। মহা দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও অর্থ আত্মসাতের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রী সংখ্যা ক্রমশঃ কমে আসছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে প্রবেশ করলে মনে হবে এটা যেন পরিত্যক্ত একটি ময়লার গুদাম ঘর। তবে অধ্যক্ষের কামরায় প্রবেশ করলে মনে হবে এটা যেন উন্নত এক অন্যরকম জগৎ। কারন ছাত্রীদের বসার জন্য কামরা ভেঙে তিনি নিজের কামরা প্রসারিত করেছেন এবং সেখানে দামি টাইলস, এয়ার ফ্রেসনার, হাই কমোড ও দামি পর্দা লাগিয়েছেন। অথচ ছাত্রীদের বসার বেঞ্চগুলো ভাঙা, শ্রেনীকক্ষের জানালাগুলো ভাঙা এবং বৈদ্যুতিক পাখাও ঠিকমত কাজ করছে না। ছাত্রীদের ব্যবহার করার জন্য টয়লেটগুলো দুর্গন্ধে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। মশার কামড়ে ছাত্রীরা বসতে পারছে না। অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদ ছাত্রীদের এমন দুরাবস্থার দিকে মোটেই নজর দিচ্ছন না। তার নজর হচ্ছে কিভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি লুটে খাওয়া যায়। দেড় যুগেরও বিশি সময় তিনি এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পার করেছেন ও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। তিনি স্কুল কাম কলেজ থেকে গাড়ি কেনার নামে ১৫ লাখ টাকা তুলে নেন। তারপর ৫ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কিনে বাকি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির দেয়াল ঘেঁষে চারটি দোকান নির্মান করেছেন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া। এ দোকানগুলা নির্মান খরচ স্কুল কাম কলেজ থেকে তুলে আজ পর্যন্ত কোন ভাউচার জমা দেন নাই বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে। সভাপতি নজরূল ইসলামের স্বাক্ষর জাল করে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা সনদ নিজে তৈরি করেন। এলাকা সূত্রে ও কলেজের একাধিক শিক্ষকদের কাছ থেকে জানা যায় শিক্ষা জীবনে তিনি একটিতে তৃতীয় বিভাগ নিয়ে অধ্যক্ষ পদে বহাল তবিয়তে আছেন। অথচ প্রচলিত নিয়মে একটি তৃতীয় বিভাগ থাকলে কোন শিক্ষক অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিতে পারে না। ফাতেমা রশিদের ক্ষেত্রে প্রশাসন এ বিষয়টি ছাড় দিচ্ছে। কেন ছাড় দিচ্ছেন তা স্পষ্ট। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক ও এলাকার অভিভাবক এ প্রতিবেদকে জানান ফাতেমা রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর তদন্ত করতে যেসব কর্মকর্তা এ পর্যন্ত এসেছিলেন তাদেরকে মোটা অংকের টাকা অর্থাৎ খাম দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলছেন। এভাবে ম্যানেজ করতে করতে তিনি বেপরওয়া হয়ে গেছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে অর্থাৎ শিক্ষা ভবনে গিয়ে তিনি প্রতিটি টেবিলে টাকা বিলি করেন যা অন্যায়ভাবে স্কুল থেকে তুলছেন। তিনি সকলকে জিম্মি করে বহাল তবিয়তে থাকার জন্য কৌশল পাল্টাচ্ছেন। একদিকে খাম দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করছে অপরদিকে ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক সকলের ওপর চালাচ্ছেন জুলুমের হাতিয়ার। কী অদ্ভুত এক ভুতুরে পরিবেশ বিরাজ করছে যাত্রাবাড়ি শহীদ জিয়া স্কুল এন্ড কলেজে। তদন্তকারি কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করার জন্য ইতোমধ্যে ফাতেমা রশিদ শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ধার হিসেবে নিচ্ছেন। কারন এ পর্যন্ত তিনি ম্যানেজ ব্যবসায়ে প্রচুর টাকা খরচ করছেন বলে কলেজ সূত্রে প্রকাশ। ওপর মহলকে খুশি করে যদি যাচ্ছে তাই করে যাচ্ছেন। অবস্থা দেখে প্রতিয়মান হচ্ছে মহা দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদ এখন দুর্নীতির এক দানবে পরিণত হয়েছেন। কোন ছাত্রী একদিন গড়হাজির থাকলে তার কাছ থেকে ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করেন। এভাবে দেড় যুুগে তিনি প্রায় আট লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে আদায়কৃত টাকা কলেজ তহবিলে জমা না করে সম্পুর্ন টাকা আত্মসাৎ করেন। এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বেশ কিছু শিক্ষক তার রোষানলে পড়ে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত হয়েছেন। ফাতেমা রশিদের এতটাই প্রভাব যে আজ পর্যন্ত বরখাস্তকৃত শিক্ষকগণ বরখাস্ত অবস্থা থেকে উঠতে পারছেন না। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে তিনি সম্পূর্ণরুপে হাত করে ফেলেছেন। তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি প্রিন্ট মিডয়াতে বেশ কয়েকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়। অথচ সকল তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে তিনি আজ অধ্যক্ষ হিসেবে দাপটের সাথে চলছেন। ফাতেমা রশিদ শিক্ষকদেরকে প্রতিদিনই গলিগালাজ করছেন, ছাত্রীদেরকে হুমকি ধমকি দিচ্ছেন এমনকি অভিভাবকদের সাথেও অত্যন্ত আপত্তিকর আচরন করছেন। ফুঁসে উঠছে ছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষকগণ। যে কোন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ভয়ানক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে যার লাগাম ধরা কঠিন হতে পারে। টাকা দিয়ে বেশি দিন তিনি প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাখতে পারবেন না বলে এলাকাবাসী এ প্রতিদেককে জানান। তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে এ প্রতিবেদকের তদন্ত চলছে। আগামি সংখ্যায় চোখ রাখুন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here