অনিতা বিশ্বাস অনুঃ অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি কেরানীগঞ্জ উপজেলার শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার শুকুর আলী এখন ৪ তলা বাড়ীর মালিক। বিগত ১০/১৫ বছর পূর্বে তার নুন আনতে পান্তা ফুরালেও এখন তিনি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। তাই এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক কৌতুহল। সামান্য বেতনের কর্মচারী কিভাবে ৪তলা বাড়ীর মালিক এই রহস্যে উদ্ঘাটন করতে গিয়ে পাওয়া যায় কিছু চমকপ্রদ তথ্য। ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারন মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করে শুকুর আলী । আর এই কাজে তাকে সহযোগিতা করে ঐ ইউনিয়নের সচিব মাসুমা আক্তার। মাসুমা আক্তারের সাথে অর্থ ভাগাভাগির লিয়াজো করেই চলছে শুকুর আলীর দুর্নীতির পাগলা ঘোড়া।
এলাকাবাসী জানায়, শুকুর আলী শুভাঢ্যা ইউনিয়নের একজন সামান্য চৌকিদার মাত্র। তবে দুর্নীতিতে পারদর্শিতা খুবই প্রবল। ইউনিয়নের সচিব মাসুমা আক্তারের সাথে লিয়াজো করে ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা লোকদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করাই তার একমাত্র কাজ। জন্ম নিবন্ধন, চারিত্রিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্দ্বিভাতা, বিজিএফ কার্ড হতদরিদ্রভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, ভিজিডি সহ প্রতিটি সেবা খাতে সাধারন লোকজনের নিকট থেকে ১-৩ হাজার টাকায় চুক্তি করে শুকুর আলী তাদের সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করেন। জন্ম নিবন্ধনের জন্য ১ হাজার টাকা, ট্রেড লাইসেন্সের জন্য ২/৩ হাজার টাকা, বিধবাভাতার জন্য ৩ হাজার টাকা চুক্তি করে তাদেরকে সচিবের মাধ্যমে কার্ড পাইয়ে দেন। টাকা না দিলে কেউ কোন সেবা পায় না। শুকুর আলী এভাবেই গত ১০ বছরে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে এলাকাবাসী জানায়। আর এই টাকা দিয়ে শুকুর আলী কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে গড়ে তুলেছে ৪ তলা বাড়ী। কিনেছে প্লট। গত ১৫ বছর আগেও তার কিছুই ছিলো না। নুন আনতে পান্তা ফুরাতো। এখন তার দাপটে এলাকাবাসী কোন ঠাসা। ইউনিয়ন পরিষদে কোন সেবা পেতে গেলেই দরকার হয় শুকুর আলীকে। স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার শেল্টারে দিনের পর দিন এমন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে সে। ঐ নেতা বলেন, শুকুর আলী গরীব মানুষ, একটা জন্ম নিবন্ধন বানিয়ে দিয়ে যদি ১ হাজার টাকা পায় তাতে দোষের কি আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসনাবাদের এক সংবাদকর্মী বলেন, শুকুর আলীর নামে এই অভিযোগটি শোনার পরে পরিচয় গোপন করে জন্মনিবন্ধন বানানোর কথা বলে তার মোবাইলে ফোন করি। এসময় শুকুর আলী আমাকে বলে জন্ম নিবন্ধন করা জন্য ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ৮শ টাকা নিয়ে তার দোকানে যেতে বলে। টাকা জমা দিলে এক সপ্তাহ সময়ের মধ্যে সে আমাকে জন্ম নিবন্ধন করে দিবে।
এব্যাপারে শুকুর আলী বলেন, আপনি কিসের সাংবাদিক। আপনার সার্টিফিকেট নিয়া আমাদের পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আসেন। আপনে আমাকে ফোন দিয়েছেন আমি কিন্তু বসে রই নাই। আমি চেয়ারম্যানকে জানাইছি, মন্ত্রী সাহেবকে জানাইছি।
শুভাঢ্যা ইউণিয়ন পরিষদের সচিব মাসুমা আক্তার বলেন, শুকুর আলী আমার পরিষদের চৌকিদার। সে যদি এভাবে কারোর নিকট থেকে টাকা আদায় করে তাহলে এটা আমার দেখার বিষয়।

