১০ আগস্ট’২৪ সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব ঢাকায় “কেমন বাংলাদেশ চাই?” শীর্ষক একটি সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত অধ্যাপক ড. মোস্তফা আল মামুন, প্রফেসর, ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ড. শামসুল আলাম, প্রফেসর, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, এবং আরিফুল ইসলাম অপু সহকারী অধ্যাপক, মানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্যাপ্টেন শ.ই.ম. জাহানইয়ার (বি.এন.) এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট শীপের ক্যাপ্টেন মফিক আহমেদ, ক্যাপ্টেন জহুরুল ইসলাম ও ক্যাপ্টেন সাইফুল ইসলাম এবং চীফ ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদ নাসের।
ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন জাহাংগীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সারা জহীর ও মাঈশা।
প্রধান অতিথি ড. মোস্তফা আল মামুন স্যার তার জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার আলোকে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বলেন, অন্যায়-অবিচার ও দুর্নীতির সাথে সদা আপোষহীন থাকতে হবে। তাহলেই তাদের কাংখিত ও প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, অন্যথায় নয় ।
ক্যাপ্টেন (অবঃ) শ.ই.ম. জাহানইয়ার (বি.এন.) বলেন, শুধুমাত্র কোটা সংস্কার নয়, রাস্ট্রযন্ত্র সংস্কার প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রতিটি ইন্সটিটিঊশনে, প্রতিটি সেক্টরে সংস্কার প্রয়োজন।
অভিভাবকগনের পক্ষ থেকে মিসেস উম্মে নকীব বলেন, পিতামাতার কাধে সন্তানের লাশের ওজন কত হতে পারে ? সন্তান হারানোর বেদনা উপলব্ধি করে এমন দেশ গড়ে তুলতে হবে যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।
ক্যাপ্টেন মফিক আহমেদ (মার্চেন্ট নেভি) বলেন, দেশ ও সমাজের আমুল সংস্কার করতে হবে যাতে রাস্ট্রে ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা হয়। অন্যায়, অবিচার, জুলুম মুক্ত সমাজ ও দেশ চাই।
মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদ নাসের বলেন, ছাত্র-আন্দোলন শুরু হয়েছিল “মেধা না কোটা” স্লোগানের মধ্য দিয়ে। পরিশেষে সৃষ্টিকর্তার মেহেরবানীতে মেধার জয় হয়েছে। সুতরাং এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে মেধা বিকাশ ঘটবে এবং দেশে দক্ষ জনবল সৃষ্টি হবে। মেধাবী ও দক্ষ ছাত্র-ছাত্রীরাই “গ্লোবাল সিটিজেন” হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। যেভাবে মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত নাবিক, অফিসার ও মেরিন ইঞ্জিয়ারগন ইউ.এস. ডলার অর্জন করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে সেভাবে বর্তমান বিশ্বের “গ্লোবাল ভিলেজ” কনসেপ্ট উপলব্ধি করে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা “গ্লোবাল সিটিজেন” হয়ে বাংলাদেশকে উন্নতির শিখরে পৌছে দিতে পারে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদ নাসের আরো বলেন, নীতি-নির্ধারকগন যেন মার্চেন্ট মেরিন সেক্টরের সংস্কার দ্রুত করেন যাতে দেশের রুগ্ন অর্থনীতি অতি সত্বর স্বাস্থ্য ফিরে পায়।
উক্ত সেমিনারে সচেতন ছাত্র-জনতা ও সকল পেশাজীবীর সমন্বয়ে “নাগরিক পার্লামেন্ট” নামে একটি অরাজনৈতিক ফোরাম এর সূচনা করা হয়। “কেমন বাংলাদেশ চাই?” বিষয়ে ছাত্র-জনতা ও সকল নাগরিকের চিন্তা-চেতনা, মতামত, আশা-আকাংখা ও প্রত্যাশাগুলো দেশের নীতি নির্ধারকগনের নিকট পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে উক্ত ফোরাম কাজ করবে।
সর্বসম্মতিক্রমে উক্ত ফোরামের জন্য একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয় । উপদেষ্টা মন্ডলিতে রয়েছেন ক্যাপ্টেন (অবঃ) শ.ই.ম. জাহানইয়ার (বি.এন.), শিক্ষাবিদ মুহম্মদ মকবুল হোসেন, জনাব এ.এইচ.এম. সাজ্জাদ হোসাইন সিইও, ইউকা স্কুল ঢাকা এবং আহবায়ক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদ নাসের।
ছাত্র-জনতার বিপ্লবে অংশগ্রহনকারী সকলকেই স্মরন করা হয়, আহতদের জন্য দোয়া করা হয় এবং শহীদগনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

