মো. বিল্লাল হোসেন: কুমিল্লার চান্দিনা স্ত্রী মোছা. মলেকা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত। ৩০ জুন (রোববার) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক রোজিনা খান এ রায় দেন। রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. জামাল হোসেন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন, রাষ্ট্র পক্ষে নিযুক্ত বিজ্ঞ কৌশলী এপিপি অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন,রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছি। আমরা আশাবাদী উচ্চ আদালত উক্ত রায় বহাল রেখে দ্রুত কার্যকর করবেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. জামাল হোসেন কুমিল্লা চান্দিনা উপজেলার ছায়কোট গ্রামের সিরু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন রিকশাচালক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৪ টায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জের ধরে আসামি জামাল হোসেন তার নিজ বসত ঘরে ভিকটিম মোছা. মলেকা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে রশি দিয়ে ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুঁলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।
মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ভিকটিমের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মোছা. মলেকা বেগমের মৃত দেহ দেখে চান্দিনা থানায় খবর দিলে থানা পুলিশ মৃত. দেহ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাই খোরশেদ আলম বাদী হয়ে নিহতের স্বামী একই জেলার চান্দিনা উপজেলার ছায়কোট গ্রামের সিরু মিয়ার ছেলে
মো. খোরশেদ আলমসহ ৭ জনের নাম এজাহারে উল্লেখপূর্বক ও অজ্ঞাত নামা ২/৩ জনকে আসামি করে চান্দিনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা
এসআই মো. নুরুল ইসলাম তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি মো. জামাল হোসেন (৩০) কে ঘটনার ৩ দিন পর গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করিলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মো. নুরুল ইসলাম মামলার ঘটনা মূল রহস্য উদঘাটনক্রমে আসামি জামাল হোসেন এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় শুধু তার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
২০১৫ সালের ৫ আগস্ট আসামি মো. জামাল হোসেন এর বিরুদ্ধে চার্জগঠনক্রমে রাষ্ট্রপক্ষে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানিতে আসামি মো. জামাল হোসেন এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে
প্রমাণিত হওয়ায় ৩০ জুন (রোববার) কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তাকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্তক্রমে মৃত্যু দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

