পটুয়াখালী প্রতিনিধি: এক বছর ধরে ঘাটে পড়ে আছে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার। চালক নেই, তাই অচল পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলাবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি অযন্তে-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। সমুদ্র উপকূলের দূরবর্তী মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে উপহার হিসেবে অ্যাম্বুলেন্সটি পাওয়ার প্রায় এক বছর পার হলেও সেটি এখনো ব্যবহারই করা হয়নি। তলা ফুটো হয়ে কয়েক দিন ধরে এটি আন্ধারমানিক নদীর জোয়ারে তলিয়ে থাকতে দেখা যায়। এখনই এটি রক্ষণাবেক্ষণ করা না হলে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে। উদ্বোধন হলেও কোনো সময়ই এই নৌ অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগী পরিবহন করা হয়নি। বর্তমানে এটি কলাপাড়া পৌর শহরের হ্যালিপ্যাড মাঠের পূর্ব পাশে পড়ে রয়েছে।এ যন্ত্রযানটি দিয়ে আজ অবধি একজন রোগীও পরিবহন করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপকূলের দূরবর্তী এলাকার মানুষের জরুরি প্রয়োজনে রোগী আনা-নেওয়ার কাজের জন্য এটি উপহার দেন।
সরজেমিন গিয়ে দেখা যায় , দীর্ঘ এক বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-যানটি এখানেই পড়ে আছে। চালক না থাকায় এটি একদিনও ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
ব্যবহার ও যতেœর অভাবে দিনে দিনে এটি নষ্ট হতে যাচ্ছে। ২০১৯ সালের শেষ দিকে এটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। এরপর এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে স্থানীয় সাংসদ মো. মহিব্বুর রহমান অ্যাম্বুলেন্সটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উল্লেখ্য, রাঙ্গাবালী একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। জেলা সদরের সঙ্গে এ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি। লক্ষাধিক জনবসতি অধ্যুষিত এ উপজেলা সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হলো ট্রলার। এ কারণে সড়কপথে রোগী পরিবহন সম্ভব হয় না। তাছাড়া সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এ উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগে দ্রুত চলাচলের জন্য অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ করা হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, চালক না দেয়ার কারনে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি চালানো সম্ভব না তাছাড়া রাঙ্গাবালী এলাকার রোগী সাধারনত ট্রলারের মাধ্যমে অসুস্থ্য হলে নিয়ে আসে। নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

