ওমেদাগণ সেবার চেয়ে যন্ত্রনাই দেয় বেশি! রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে ওমেদা’দের দাপট !

0
1335

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ
রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়ার মঠেরঘাট এলাকায় অবস্থিত উপজেলা ভূমি অফিসে ওমেদাদের দৌরাত্ব্য চরমে উঠেছে। অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত ওমেদাদের সহযোগীতা ছাড়া সাধারন মানুষ এ ভূমি অফিসে কোন সেবা নিতে পারছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, ‘উপজেলা ভূমি অফিসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ঘুষের টাকা লেনদেনের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে এই ওমেদা নিয়োগ করেছেন। বর্তমানে ওমেদাগণ এ অফিসে সেবার চেয়ে জনগনকে যন্ত্রনাই দেয় বেশি। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী না হলেও ওমেদাগন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চেয়ে ক্ষমতাধর। সরাসরি ভূমি সমস্যার জন্য অফিসের কর্তাবাবুদের কাছে যেতে চাইলেও ওমেদারা যেতে দেয় না, কাজ করে দেওয়ার আশ্বাসে ওমেদারাও হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব ওমেদারা ভূমি অফিসে নিয়োগকৃত সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী না হলেও এরা ভূমি অফিসে বীরদর্পে প্রতিনিয়তই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এরা এখন অঘোষিতভাবে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী! এদের অত্যাচারে ভূমি অফিসে আগত উপজেলার ২ টি পৌরসভা ও ৭ টি ইউনিয়নের জমির মালিকরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ভাঙ্গিয়ে সাধারন লোকজনের কাছ থেকে জমির নানা সমস্যাকে পুঁজি করে অবৈধ উপায়ে কাড়ি কাড়ি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন ওমেদারা। এক প্রকার উপজেলা ভূমি অফিসকে জিম্মি করে রেখেছেন ওই ওমেদাগন। সরেজমিনে ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, এসব ওমেদারা ভূমি অফিসে দাপটের সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের টেবিলে টেবিলে কাগজপত্র নিয়ে এদের দৌড়-ঝাপ প্রতিনিয়ত চোখে পড়ার মতো। এ উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীর চেয়ে ওমেদার সংখ্যা বেশি। এসব ওমেদারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মত বিভিন্ন রেকর্ডপত্র নাড়াচাড়া করে। দেখে বুঝার উপায় নেই এরা বাহিরের লোক। সাধারন লোকজন ওমেদাদের অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ভেবে ফাঁদে পা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব ওমেদারা বালামে ভূল ও মিথ্যা তথ্য সংযোজন করে আবার তা ঠিক করে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিকের নিকট থেকে হাতিয়ে নেয় হাজার হাজার টাকা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পার্শ্বে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে থাকা এসব ওমেদাদের কথা আর চলাফেরায় মনে হয় তারাই অফিসের বড় কর্মকর্তা। অথচ তারা অফিসের সরকারী ভাবে নিয়োগকৃত কেউ না। এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন এসেছি। এরই মধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসকে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ব্যস্ত অফিস কিন্তু সে হিসেবে জনবল একেবারেই কম। তাই ওমেদা ছাড়া অফিস চালানো সম্ভব না। হয়রানি ও ঘুষ গ্রহনের অভিযোগে ইতিমধ্যে ৩ জন ওমেদাকে অফিস থেকে বের করে দিয়েছি। যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা ইসলাম বলেন, খুব শীঘ্রই রূপগঞ্জ উপজেলায় দুইটি এসিল্যান্ড অফিস করা হবে। একটি শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড়ে আর অন্যটি শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে। দুইটি অফিস ও দুইজন এসিল্যান্ড হলে তখন আর এ সমস্যা থাকবে না।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here