ঐক্যবদ্ধ থাকলে আ’লীগকে কেউ হারাতে পারবে না : সজীব ওয়াজেদ জয়

0
1474
অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারে নামতে হবে * আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম চালুর পক্ষে মত
ধানমণ্ডির নতুন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে রোববার এক কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে শুভেচ্ছা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের -যুগান্তর
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ হারাতে পারবে না। যে কোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সরকারবিরোধী অপপ্রচারের জবাবে নিজেদের প্রচার চালিয়ে যেতে এবং এর মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের নতুন নির্বাচনী কার্যালয়ে রোববার ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী কর্মশালায় সজীব ওয়াজেদ জয় এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ আয়োজিত এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। পুরো কর্মশালায় সহযোগিতা দিচ্ছে আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (সিআরআই)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জয়।

Advertisement

সংসদ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জয় বলেন, কাজ করলে মানুষ ভোট দেবে- এ কথা ভেবে এখন ঘরে বসে থাকলে চলবে না। বাস্তব কথা, এখন প্রচারের যুগ। নিজেদের ভালো কাজের প্রচারের মাধ্যমে অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, পঁচাত্তরের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সুতরাং কেবল কাজ করলে হবে না। এই অপপ্রচার মোকাবেলার জন্য আমাদেরও প্রচার চালিয়ে যেতে হবে। মানুষের জন্য আওয়ামী লীগ কী কী কাজ করছে তার প্রচার করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহযোগিতা নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে কাছে টানার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল মানুষের কাছে শুনেই নয়, আমরা জরিপ করেও যেটা দেখি- আমাদের তরুণরা আর খবরের কাগজ খুব একটা পড়ে না। অবশ্য খবরের কাগজে আমাদের ‘সুশীল বাবুদের’ মতামতই কেবল দেখা যায়। তো লাইকলি, আমাদের তরুণরা ওসব পড়েই না, ওসব পাত্তা দেয় না। তরুণরা টিভি দেখে। তবে সবচেয়ে বেশি খবর তারা পায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই তারা বেশি অংশগ্রহণ করে। সে কারণেই কিন্তু আমাদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিন সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংসদ সদস্যদের পোস্ট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, পারলে রোজ একটা করে পোস্ট দেবেন। দিনে দুই-তিনটি করেও দিতে পারেন। আমরা যেগুলো পোস্ট দেব, সেগুলো শেয়ার করেন। এগুলো কিন্তু ভাইরাল হয়ে যায়। টেকনোলজি ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনে তিনি একজন পিএস নিয়োগ দেয়ার অনুরোধ করেন।

চলমান পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ দেখতে যাবেন জানিয়ে জয় বলেন, কেবল কাজ করলে হবে না, মানুষকে জানাতে হবে- আমরা তাদের জন্য কী করছি। বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিজে নিজে নির্মিত হয় না, পদ্মা সেতুও এমনিতেই তৈরি হয়ে যায় না। এগুলো বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তে হচ্ছে।

কর্মশালার উদ্বোধন করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণার উদ্যোগের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমাদের ভিশন-২০২১ ও ভিশন-২০৪১-এর দেখাদেখি অন্যরাও (বিএনপি) নাকি ভিশন ঘোষণা করবে। এটা লোক দেখানো, জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি। তাদের লক্ষ্য হাওয়া ভবনের মতো ‘খাওয়া ভবন’-এর আরেকটি ভিশন। আওয়ামী লীগ কিছু করলেই তার দেখাদেখি তাদেরও কিছু করতে হবে! এটি রাজনৈতিক স্টান্টবাজি।

ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি করে সক্রিয় হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নীরব বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে। তাকে ঘিরে আমাদের হাওয়া ভবন, খাওয়া ভবন কিংবা খোয়াব ভবন নেই। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার। বিএনপি সজীব ওয়াজেদ জয়কে ভয় পায়।

প্রথম দিনের কর্মশালায় আওয়ামী লীগের ৬০ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। আজ ও আগামীকাল আরও ১০০ জন সংসদ সদস্যের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

এখনই নির্বাচনমুখী হতে আ’লীগ নেতাদের পরামর্শ জয়ের : সজীব ওয়াজেদ জয় পরে ধানমণ্ডিতে নতুন নির্বাচনী কার্যালয়ে সভাপতির কক্ষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে। আওয়ামী লীগ এক থাকলে তাদের কেউ হারাতে পারবে না। দেশে যে উন্নয়ন চলছে, তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য দরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় একটি দলই দীর্ঘ দিন সরকারে থাকায় এসব দেশের বিপুল উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। আর সে জন্য বাংলাদেশে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি কখনও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে রাজনীতি করেনি। এরা ফের ক্ষমতায় এলে অতীতের মতো গুম, খুন, ধর্ষণ ও জঙ্গিবাদ আবারও ফিরে আসবে। সে জন্যই নৌকার বিজয়, আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি চালুর পক্ষে মত দিয়ে জয় বলেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ বন্ধ হবে। কেউ ব্যালট ছিনতাই ও কারচুপি করতে পারবে না। সার্বিকভাবে নির্বাচন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতা আসবে। আওয়ামী লীগ নেতাদের ইভিএম পদ্ধতির পক্ষে জনমত গড়ে তোলার আহ্বানও জানান। জয় দলীয় নেতাদের এখন থেকেই নির্বাচনমুখী ও আগামী নির্বাচনে দলের জয় সুনিশ্চিত করতে কাজে নেমে পড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশে আর কোনো অবস্থায়ই অনির্বাচিত সরকারের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই।

বৈঠকে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে মাহবুবউল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, একেএম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, আবদুস সাত্তার, দেলোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, এসএম কামাল হোসেন, গোলাম রাব্বানী চিনু, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ২০ মে জেলা নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থাকার জন্য ওবায়দুল কাদেরের আহ্বানের জবাবে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, তিনি রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। দলের কর্মী হিসেবেই কাজ করবেন তিনি। আগামীতে দেশে দীর্ঘ সময়ের জন্য এসে তৃণমূলে যাবেন বলেও উল্লেখ করেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র। তরুণ ও নারী ভোটারদের আওয়ামী লীগের পক্ষে টানতে মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান সজীব ওয়াজেদ জয়।

বৈঠকে নেতাকর্মীদের জন্যও কর্মশালা আয়োজনের পরামর্শ দেন জয়। এ ছাড়া দলের পক্ষে নেয়া নেতাকর্মীদের ডাটাবেজ কার্যক্রম শেষ করা এবং এজন্য জেলা নেতাদের রেজিস্ট্রেশন ও ই-মেইল আইডি তৈরিসহ অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণের ওপর জোর দেন তিনি। নির্বাচনী কার্যালয়ে তিনি ওয়াই-ফাই সংযোগেরও পরামর্শ দেন। মতবিনিময়ে খোলামেলা আড্ডায় মেতে ওঠেন জয়সহ উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতারা। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্বাচনী কার্যালয় সম্পর্কে জয়কে অবহিত করেন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here