এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) অর্জনের প্রধান অন্তরায় জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি

0
1461

২৯ এপ্রিল ২০১৭ শনিবার বিকাল ৩ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ২য় তলায় কনফারেন্স লাউঞ্জে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ ভাসানী’র উদ্যোগে সংগঠনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে “এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) অর্জনের প্রধান অন্তরায় জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এনডিএফ’র আহ্বায়ক ও এনপিপি’র চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রয়াত ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের সহধর্মীনী মনিকা বানু, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ ভাসানীর সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম শেখ আনোয়ারুল হকের স্ত্রী দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শাহিদা হক। আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিস, তৃণমূল ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান পারভীন নাসের খান ভাসানী, জাগপা’র চেয়ারম্যান মহিউদ্দীন আহাম্মেদ বাবলু, মুসলিম লীগের মহাসচিব মোঃ আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান শেখ শহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির মহাসচিব মহিউদ্দীন আহমেদ, তৃণমূল ন্যাপ ভাসানীর কো-চেয়ারম্যান হামিদুর রেজা খান পরশ ভাসানী, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির মহাসচিব মিজানুর রহমান মিজু, জাগপা’র মহাসচিব এড. মজিবুর রহমান, এনপিপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সৈয়দ মাহমুদুল হক আক্কাস, এনপিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য বাবুল সরদার চাখারী, এনডিপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কাজী আমানুল্লাহ মাহফুজ, ন্যাপ ভাসানীর উপদেষ্টা আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক হারুন-অর-রশিদ খান, বি.বাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার মেয়র মোঃ খলিলুর রহমান (টিপু)। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এড. আবু বক্কর সিদ্দিক।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ইতিমধ্যে আমরা এমডিজি অর্জন করেছি। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) অর্জন করতে হবে। সময়ের প্রেক্ষাপটে এটি আমাদের জন্য সত্যিই এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু এই পথে রয়ে গিয়েছে বিস্তর জঞ্জাল যেমনÑ জলবায়ু সমস্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো রয়েছেই তার উপরে রয়েছে সারা বিশে^র মত আমাদের দেশেও জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সমস্যা।
প্রতিবছর দুর্নীতির কারণে মোট জিডিপির ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৩.৪৫ ভাগ। আর রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য মোট জিডিপির ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ১.৫ ভাগ।বর্তমানে সারা বিশে^র জঙ্গি তৎপরতার রেশ বেশি না হলেও হলি আর্টিজান, আতিয়া মহলের ঘটনা, জাপানি নাগরিক হত্যা সহ বেশ কিছু ঘটনা ও অতীতের বাংলাভাইয়ের উত্থান আমাদের দেশে বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এতে করে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে।
মুসলিম প্রধান দেশ হবার ফলে এমনিতেই পশ্চিমা দেশগুলির নানা অজুহাত ও শর্তের বেড়াজালে বাংলাদেশ কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। এতকিছুর পরেও আমাদের গার্মেন্টস শিল্প, চামড়া শিল্প, কৃষিপণ্য রপ্তানী করে এবং সর্বোপরি আমাদের জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরের ফলে আমরা বীরদর্পে বিশে^র উন্নত দেশগুলির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।
আমরা যদি দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পারি তাহলে মোট জিডিপির ১.৫০ ভাগ অবৈধ ভাবে বিদেশে পাচার হওয়া থেকে রোধ করতে সক্ষম হবো। পারিবারিক কলহ, সামাজিক সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক সহিংসতা বা প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করা যায় তাহলে মোট জিডিপির আরো ২ ভাগ অর্জন করা সম্ভব হবে।
জঙ্গিবাদ নির্মূল করা গেলে আরো বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগ পাওয়া, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, সারাবিশে^র সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব। এতে করে ২০৩০ সালের পূর্বেই এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) অর্জন করা সম্ভব।
জনগণের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, আসুন আমরা সকলে এক সাথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই। আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে ও ভবিষ্যত প্রজন্মের বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও শান্তির রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজ করি।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here