এফবিসিসিআই’র বাজেট প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা সাপেক্ষে পাস হওয়া উচিত

0
602

গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ ৯টি বাণিজ্য সংগঠন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিশাল ঘাটতির বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বলার অপেক্ষা রাখে না, সরকার বিশাল অংকের এ ঘাটতি পূরণ করবে মূলত ব্যাংক ঋণ ও সঞ্চয়পত্র থেকে। ব্যাংকিং খাতের ওপর এ ধরনের নির্ভরশীলতা উৎপাদনশীল বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ হ্রাস করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে বেসরকারি খাত।

Advertisement

 

এ খাতকে উৎসাহিত করতে তাই অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের সুদের হারও কমানো উচিত। সংবাদ সম্মেলনে ১৫ শতাংশ ভ্যাট মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং আবগারি শুল্ক আমানতকে নিরুৎসাহিত করবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, নতুন অর্থবছরে চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এটি গত অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটের চেয়ে ১৭ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ২৬ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। দেখা যায়, বাজেট বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও অর্থব্যয় সঠিকভাবে সম্পাদিত না হওয়ায় প্রতি বছরই বাজেট সংশোধনের প্রয়োজন পড়ে। এ অবস্থায় বছরের শুরু থেকেই বাজেট বাস্তবায়নে সুষ্ঠু মনিটরিং জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও তদারকির মান উন্নত ও নিশ্চিত করা উচিত। তা না হলে বিশাল অংকের বাজেট বাস্তবায়ন করাটাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কর্তৃক ১ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পেশ করার পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও সংগঠন বাজেট সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। এফবিসিসিআই’র বাজেট প্রতিক্রিয়া এরই ধারাবাহিকতা। লক্ষণীয় হল, এবারের বাজেটে হ্রাসকৃত হারে ভ্যাটের পরিবর্তে সিঙ্গেল রেট ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে দেশের শিল্প খাত, বিশেষ করে এসএমই ও প্রান্তিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া যেসব ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী হিসাবপত্র সঠিকভাবে না রাখতে পারায় রেয়াত নিতে সক্ষম নন, তাদের ওপর করের বোঝা বেড়ে যাবে। এর একটি নেতিবাচক প্রভাব ভোক্তার ওপর পড়বে এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের আগে এগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা সময়ের দাবি হলেও দুঃখজনক হল, এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এফবিসিসিআই আগামী বছর থেকে একটি স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে এগুলো পর্যালোচনার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এফবিসিসিআই অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে আমদানি পর্যায়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি, মৌলিক কাঁচামাল, মধ্যবর্তী কাঁচামাল ও উপকরণের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি। বলার অপেক্ষা রাখে না, আবগারি শুল্ক আমানতকারীকে ব্যাংকে আমানত রাখতে নিরুৎসাহিত করবে। এর ফলে অর্থকরী ব্যাংক চ্যানেলে না গিয়ে ইনফরমাল চ্যানেলে চলে যেতে পারে। বিষয়টি অর্থনীতির জন্য মোটেই শুভ নয়। শিল্প এবং ব্যবসায়-বাণিজ্য অর্থনীতির প্রাণ। আমরা মনে করি, এনবিআর ও ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে যদি কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি থাকে, তাহলে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের মাধ্যমে তা নিরসন করা যেতে পারে। ব্যবসায়-বাণিজ্য ও শিল্পের উন্নয়ন, সর্বোপরি দেশের স্বার্থে এটি জরুরি।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here