আলহাজ্ব মো:নুরুন্নবী : ইসলামের মূল শিক্ষা হল তাওহিদ । তাওহিদ অর্থ একাত্ববাদ। তাওহীদের বিপরীত হচ্ছে বস্তুবাদ ! বস্তবাদ শিরক, শিরকের অনেক শাখা প্রশাখা রয়েছে। তন্মোধ্যে একটি হল বস্তবাদ।মুসলমান তাওহিদে বিশ্বাসী। মুসলমান কখনো বস্তবাদী হতে পারেনা। যারা কাফের, মুশরিক তারা বস্তবাদে বিশ্বাসী। আল্লাহ এক-অদ্বীতীয়। তাহার কোন শরিক নেই তিনি সর্বময় ক্ষমতার মালিক। তাহার হুকুমে সব কিছু হচ্ছে। তিনি শ্রষ্ঠা। বাকি সব তার সৃষ্টি। বস্তর মধ্যে যে গুন তা আল্লাহর দেওয়া। বর্তমানে আমরা বস্তবাদে জরিয়ে পড়েছি। হযরত ইব্রাহীম (আ:) আল্লাহর নবী। তিনি যখন মানুষকে শিরক (মূর্তী পুজা) পরিহার করে আল্লাহর এবাদত করার আহŸান করলেন তখন মুশরিক নমরূধ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হিসাবে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করে। তখন হযরত ইব্রাহীম (আ:) বলেন আমার আল্লাহ কি আমার অবস্থা দেখছেন না? আমি আল্লাহ সাহায্য চাই। তৎক্ষনাত আল্লাহ আগুনকে আদেশ করলেন-“হে আগুন তুমি ইব্রাহীমের জন্য আরামদায়ক হয়ে যাও” (আম্বিয়া আয়াত ৭৯)। হযরত ইব্রাহীম (আ:) অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হলেন কিন্তু আগুন তাহাকে পুরালো না। জলন্ত আগুনে মধ্যে তিনি নিরাপদে ছিলেন। কোন অস্থ ব্যক্তি যদি বলে অমুক ডাক্তার বা অমুক ওষধ আমাকে বাচিয়েছে বা সুস্থ্য করেছে তাহলে সে শিরক করলো।
শিরক মহাপাপ যা ক্ষমার অযোগ্য বলতে হবে অমুক ডাক্তারের উছিলায় বা অমুক ওষধের উছিলায় আল্লাহ আমাকে সুস্থ করেছেন। একজন ডাক্তারের মাথায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে জ্ঞান তা আমার আল্লাহ দেওয়া ওষধের মধ্যে যে গুন তাও আল্লাহর দেওয়া। আল্লাহ আদেশে ওষধ কাজ করে।
এজন্য আমরা ওষধ সেবনের সময় বলি ‘আল্লাহ শাফি” অর্থ আল্লাহ শিফা দান কারী। একদা হযরত মুছা (আ) এর পেটের ব্যথা হয়। তিনি আল্লাহ কাছে আরজ করলেন হে আল্লাহ আমার পেটের ব্যথা। আল্লাহ একটি গাছ দেখিয়ে বল্লেন তুমি ঐ গাছের পাতা চিবিয়ে খাও। খাওয়ার সাথে সাথে হযরত মুছা (আ) এর পেটের ব্যথা ভালো হয়ে যায়।
বেশ কিছু দিন পর পুর্ন: রায় হযরত মুছা (আ) পেটে আরম্ব হয়ে যায়। তিনি আল্লাহর বাতলানো সেই গাছের পাতা খান। কিন্ত পেটের ব্যথা ভালো হচ্ছে না। অত:পর তিনি আল্লাহর কাছে ফরিয়াত করলেন, হে আল্লাহ পুন:রায় আমার পেটের ব্যথা আরম্ব হয়, আপনার বাতলানো সেই গাছের পাতা খেয়েছি কিন্ত পেটের ব্যথা ভালো হচ্ছে না।
আল্লাহ বলেন,“। ঐ দিন আমি গাছকে আদেশ করেছিলাম তোমার পেটের ব্যথা দুর করে দেওয়ার জন্য, আজ আমি আদেশ করি নাই। আল্লাহকে ভুলে আমরা যেন বস্তুবাদে জরিয়ে না পড়ি। করোনা ভাইরাস আল্লাহ প্রদত্ত মহামারী। ইহা আল্লাহ ক্ষমতার বহি: প্রকাশ। আমাদের জন্য হুশিয়ারী ও শতর্ক বার্তা।
করোনা ভাইরাসের মোকাবেলায় পুরা বিশ্ব দিশেহারা। এই মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় বস্তুবাদকে পরিহার করে, আল্লাহর কাছে আতœসমর্পন কওে সাহায্য প্রর্থনা করা। আল্লাহর উপর পুন:বিশ্বাস রেখে উছিলা হিসাবে ওষধ সেবনও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে কোন বাধা নেই। অন্তওে বস্তুবাদ পোষণ করে আল্লাহ সাহায্য পাওয়া জাবে না। আল্লাহ বলেন-“ জলে স্থালে যা কিছু হচ্ছে তা তোমাদের দু হাতের কামাই”।
সকলেই স্বাস্থ্য বিধির কথা বলছে। একত্ববাদেও কথা কেউ বলছে না। শত ভাগ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার পরও অনেক সুস্থ্য সবল ব্যক্তিত্ব করোনা আক্রান্ত হয়ে দুনিয়া থেকে চির বিদায় নিয়েছে। করোনা ভাইরাসের মোকাবেলায় লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করা হয়েছে। কিন্ত এই প্রাণ ঘাতি ভাইরাসের প্রকৃত রূপ নির্ণয় করতে হিমশিম খাচ্ছে।
অনেক প্রচেষ্টার পর এই ভাইরাসের জিন আবিস্কার করে যখনই প্রতিরোধের চেষ্টা চালায় তখনই আল্লাহর রূপ পাল্টিয়ে দেন। আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করে কেহ কোন দিন জয় লাভ করতে পারেনি এবং পারবেও না। কেনো ওষধ লাগবে না। এক মিনিটের মধ্যেই আল্লাহ আমদেও উপর থেকে এই মহামারী উঠিয়ে নিবেন যদি আমরা আল্লাহ কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আল্লাহ অত্যন্ত দয়াবান ক্ষমাশীল।
