সম্প্রতি বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কাট্টলীতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের আগুনে দগ্ধদের মধ্যে রিয়াজুল ইসলাম ও সালমা জাহান দম্পতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। দুর্ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু বলতে পারছেন না কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কর্মরত চিকিৎসক ডা. আলী জামান বলেন, ‘আগুনে দগ্ধদের ৬ জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাকি দুইজনকে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখানে দুইজনের অবস্থাই সঙ্কটাপন্ন। রিয়াজুল ইসলামের শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গেছে, তার শ্বাসনালীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার স্ত্রী সালমা জাহানের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ পুড়ে হয়েছে। দুর্ঘটনার মাত্র চারদিন আগে একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। সে কারণে দুর্ঘটনায় অপেক্ষাকৃত কম বার্ন হলেও তার অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক।’
এই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘দুজনের কারও বিষয়েই এখন পর্যন্ত আশাব্যাঞ্জক কিছু বলা যাচ্ছে না। এই মুহূর্তে দু’জনেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক হলো, তাদের নবজাতক শিশুটির কান্না। বাচ্চাটির দিকে তাকিয়ে হলেও যদি আল্লাহ তাদের সুস্থ করে দেন আমরা এখন সেই চেষ্টাই করছি।’
প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার সময় মায়ের কোলেই ছিলো রিয়াজুল-সালমা দম্পতির সন্তানটি। সেদিন মা-বাবা দগ্ধ হলেও বেঁচে গিয়েছিল ৫ দিন বয়সী শিশুটি।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সালমা বলেন, ‘খাওয়া-দাওয়া শেষে আমরা শুয়ে পড়েছিলাম। রাত ৯টা ৫০ মিনিটে হঠাৎ বিস্ফোরণের আওয়াজ পাই। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণের তীব্রতায় আমাদের রুমের দরজা ভেঙে যায়। ওই সময় বাচ্চাটি আমার কোলে ছিল। আগুনে আমার দুই পা পুড়ে গেছে। কিন্তু আমার সন্তানের কিছু হয়নি। সে পুরোপুরি সুস্থ আছে।’
উল্লেখ্য, রোববার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলীতে মরিয়ম ভবনে শর্ট সার্কিটের আগুনে নারী-শিশুসহ মোট ৯ জন দগ্ধ হন। এদের মধ্যে আশঙ্কামুক্ত থাকায় একজনকে সেদিনই ছেড়ে দেয়া হয়। সোমবার দুপুরে হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান পেয়ারী বেগম নামে এক বৃদ্ধা। এছাড়া একই পরিবারের বাকি ৬ জনকে সেদিনই চিকিৎসার জন্য রাজধানীথে পাঠানো হয়।

