কারাগার থেকে মই বেয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি আবু বক্কর ছিদ্দিক পলায়নের ঘটনায় শাস্তি হিসেবে কাশিমপুর কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার জাহানারা বেগমকে বদলি করা হয়েছে। আসামি পলায়নের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা বদলির সুপারিশ করেছিল।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কারা-১ শাখার জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাকে বদলি করা হয়। তাকে জামালপুর জেলা কারাগারে কারা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ৬ আগস্ট কয়েদি আবু বক্কর ছিদ্দিক কাঁধে একটি মই নিয়ে সাধারণ পোশাকে ব্রহ্মপুত্র ভবনের প্রধান ফটক দিয়ে বের হয়ে পালিয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পালানোর সময় তার আশপাশে দায়িত্বরত কারারক্ষীরা ঘোরাফেরা ও গল্প করছেন। ছিদ্দিক মইটি কাঁধে নিয়ে ব্রহ্মপুত্র ভবনের বাইরের ফটক দিয়ে বেরিয়ে মাঠের ভেতর দিয়ে কারাগারের মূল ফটকের দিকে যান।
এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির গঠন করে কারা কর্তৃপক্ষ। কমিটির প্রতিবেদনে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের অন্তত ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জাহানারা বেগমের বিষয়ে লেখা হয়েছে, জাহানারা বেগম দুর্ঘটনার বিষয়টি ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় জানার পরও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান পরের দিন ৭ আগস্ট। যা জেল কোডের ৭১(২) ধারামতে অগ্রহণযোগ্য। তিনি কর্তব্য পালনে অবহেলা করেছেন এবং অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বলে প্রমাণিত হওয়ায় জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলো।
উল্লেখ্য, তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। বন্দি পলায়নের ঘটনায় তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় কেন্দ্রীয় কারাগারে দায়িত্ব পালনের জন্য তার দক্ষতা ও সক্ষমতা নেই বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ অবস্থায় তাকে কেন্দ্রীয় কারাগারের চলতি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ জেলা কারাগারে পদায়নের সুপারিশ করা হলো।
এর আগে এ ঘটনায় কারা অধিদফতর থেকে জারি করা দুটি ভিন্ন প্রজ্ঞাপনে ছয়জনকে বদলি করা হয়। তাদের মধ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার মোহাম্মদ বাহারুল ইসলামকে রাঙামাটি কারাগারে ও জেলার (উপ তত্ত্বাবধায়ক) মোহাম্মদ মাহবুব কবীরকে নড়াইল জেলা কারাগারে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে ডেপুটি জেলার নূর মোহাম্মদ সোহেলকে চুয়াডাঙ্গা, ফারুক হোসেনকে নাটোর, মনির হোসেনকে ভোলা ও আখেরুল ইসলামকে মাগুরা জেলা কারাগারে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবারের প্রজ্ঞাপনে দেশের বিভিন্ন জেলা কারাগারের আরও ছয়জনকে বদলি করা হয়েছে। বদলির কারণ উল্লেখ করা হয়েছে ‘প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে।’
বদলিকৃতরা হলেন, জামালপুর জেলার কারা তত্ত্বাবধায়ক মো. মকলেছুর রহমান, বাগেরহাট জেলার কারা তত্ত্বাবধায়ক মো. গোলাম দস্তগীর, চাঁদপুর জেলার কারা তত্ত্বাবধায়ক মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া, চুয়াডাঙ্গা জেলার কারা তত্ত্বাবধায়ক মো. নজরুল ইসলাম, মেহেরপুর জেলার কারা তত্ত্বাবধায়ক এ এস এম কামরুল হুদা, নড়াইল জেলার কারা তত্ত্বাবধায়ক মো. মজিবুর রহমান মজুমদার।

