আল্লাহ সুরা আত তারিকে বলেন, ” তোমরা কোন সময় আখেরাত ও কেয়ামতের চিন্তা থেকে গাফেল হইওনা

0
396

এটা শপথের জওয়াব। শব্দের অর্থ তত্ত্বাবধায়ক । অর্থাৎ আল্লাহ্ তাআলা আকাশ ও নক্ষত্রের শপথ করে বলেছেন, প্রত্যেক মানুষের ওপর তত্ত্বাবধায়ক বা আমলনামা লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে। সে তার সমস্ত কাজকর্ম । নড়াচড়া দেখে, জানে । [ফাতহুল কাদীর] এর পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের চিন্তা করা উচিত যে, সে দুনিয়াতে যা কিছু করছে, তা সবই কেয়ামতের দিন হিসাব-নিকাশের জন্যে আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে । তাই কোন সময় আখেরাত ও কেয়ামতের চিন্তা থেকে গাফেল হওয়া অনুচিত। অন্য আয়াতে আছে “নিশ্চয় তোমাদের উপর নিয়োজিত রয়েছে তত্ত্বাবধায়করা, সম্মানিত লেখকরা” [সূরা আল-ইনফিতার: ১০-১১]

Advertisement

তাছাড়া এর অপর অর্থ আপদ-বিপদ থেকে হেফাযতকারীও হয়ে থাকে । [ইবন কাসীর] আল্লাহ্ তা’আলা প্রত্যেক মানুষের হেফাযতের জন্যে ফেরেশতা নিযুক্ত করেছেন । তারা দিন-রাত মানুষের হেফাযতে নিয়োজিত থাকে । তবে আল্লাহ্ তা’আলা যার জন্যে যে বিপদ অবধারিত করে দিয়েছেন, তারা সে বিপদ থেকে হেফাযত করে না । অন্য এক আয়াতে একথা পরিষ্কারভাবে বর্ণিত হয়েছে, মানুষের জন্যে পালাক্রমে আগমনকারী পাহারাদার ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে। তারা আল্লাহ্র আদেশে সামনে ও পেছনে থেকে তার হেফাযত করে। [সূরা আর-রা’দ: ১১] অথবা হেফাযতকারী বলতে এখানে আল্লাহকেই বুঝানো হয়েছে । [ফাতহুল কাদীর] তিনি আকাশ ও পৃথিবীর ছোট বড় সকল সৃষ্টির দেখাশুনা, তত্ত্বাবধান ও হেফাযত করছেন । তিনিই সব জিনিসকে অস্তিত্ব দান করেছেন তিনিই সবকিছুকে টিকিয়ে রেখেছেন । তিনি সব জিনিসকে ধারণ করেছেন বলেই প্রত্যেকটি জিনিস তার নিজের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত আছে । তিনি সব জিনিসকে তার যাবতীয় প্রায়োজন পূর্ণ করার এবং তাকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত বিপদমুক্ত রাখার দায়িত্ব নিয়েছেন । এ বিষয়টির জন্য আকাশের ও রাতের অন্ধকারে আত্মপ্রকাশকারী প্রত্যেকটি গ্রহ ও তারকার কসম খাওয়া হয়েছে।

আল্লাহ পুনরায় মানুষ সৃষ্টি করতে সক্ষম এবং কেয়ামতে সৃষ্টি করবেন (সুরা আত তারিখ) এখানে আল্লাহ তা’আলা যে মানুষকে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম তার ওপর মানুষেরই নিজের সত্ত্বা থেকে প্রমাণাদি উপস্থাপন করছেন। মানুষ তার নিজের সম্পর্কে একটু চিন্তা করে দেখুক । তাকে কিভাবে কোত্থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে? তাকে অত্যন্ত দুর্বল বস্তু হতে সৃষ্টি করা হয়েছে । যিনি প্রথমবার তাকে সৃষ্টি করতে পারেন তিনি অবশ্যই দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করতে সক্ষম। যেমন অন্য আয়াতে বলেছেন, “তিনিই প্রথম সৃষ্টি করেন, পরে আবার তিনি তা করবেন, আর এটা তো তার জন্য সহজতর” । [সূরা আর-রূম: ২৭] [ইবন কাসীর] অর্থাৎ বীর্য থেকে । যা পুরুষ ও নারী থেকে সবেগে বের হয়। যা থেকে আল্লাহর হুকুমে সন্তান জন্মলাভ করে। [ইবন কাসীর] ইবন আব্বাস বলেন, পুরুষের মেরুদণ্ড ও নারীর পঞ্চবাস্থির পানি হলদে ও তরল । সে দু’টো থেকেই সন্তান হয়।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here