আয়নাঘরের বন্দীদের মুক্তি দাবিতে পরিবারের সদস্যরা

0
160

ইসমাম হোসাইনঃ সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ। ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই জিয়া কলোনির বাসা থেকে বের হয়েছিল ডিউটিতে যাওয়ার জন্য।সে আর বাসায় ফেরেনি। গত ৯ বছরে মুখ খুলে এই অভিযোগটুকুও জাতিকে জানাতে পারেনি তার পরিবার। এভাবে একজন চাকরিরত সেনাসদস্য কোথায় গেল তাও কেউ খুঁজে দেখেনি। অবশেষে ১০ অগাস্ট তার পরিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এসেছিল সুলতান মাহমুদের সন্ধানের দাবি নিয়ে। পরিবারের সদস্যরা বলেছে, কোনো কারণে হয়তো এই সেনাসদস্যকেও আয়নাঘরে বন্দী রাখা হয়েছে। পরিবার তার মুক্তির দাবি করে। নিখোঁজ আরো অনেক মানুষের স্বজনরা হাজির হয়েছিল, ‘আয়নাঘর থেকে সকল ব্যক্তির মুক্তি চাই’ লেখা ব্যানার নিয়ে।

Advertisement

১০ অগাস্ট দুপুর ১২টার দিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। সেখানে সুলতান মাহমুদের জামাতা মো: বাবুল আক্তার বলে, তার শ্বশুর চাকরিরত অবস্থায় নিখোঁজ হয়। এর পর তারা অভিযোগ করেছিল। যারা তদন্ত করেছে, তারা শুধু এ টুকু জানিয়েছে সুলতান মাহমুদ গেট থেকে বের হয়েছে। এর পর কী ঘটেছে সুলতান মাহমুদের তা তদন্তে প্রকাশ পায়নি। বাবুল আক্তার বলে, এরপর তার শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যদেরকে কৌশলে জিয়া কলোনি থেকে বের করে দেয়া হয়। এর পর তারা যশোরের গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। সুলতান মাহমুদের বড় মেয়ে সুবর্ণার স্বামী হল বাবুল আক্তার। তার অপর দুই সন্তান রয়েছে। ছেলে সিজান মাহমুদ (২২) ও ছোট মেয়ে মীম সুলতানা (১৫)। পিতার নিখোঁজের পর থেকেই মানসিকভাবে ভারসাম্য হারায় সিজান মাহমুদ।

অপর একজন নিখোঁজ ওসমান গনি রানা। ১০ বছর আগে যখন সে নিখোঁজ হয় তখন তার বয়স ২৫। ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সে রাজশাহীর গোদাগাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। ব্যবসায়িক কাজে সে সেখানে গিয়েছিল। আর বাড়ি ফেরেনি। তার বাড়ি কেরানিগঞ্জের আটিপাড়ায়। বাবা মো: আব্দুস সামাদ এই ঘটনার পর গোদাগাড়ি থানায় গিয়েছিল অভিযোগ নিয়ে। পুলিশ কোনো অভিযোগ রাখেনি। উল্টো তাকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়েছে। পরে তারা রাজশাহীর আদালতে একটি মামলা করেছিল। কিন্তু ঐ মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। রানার বোন শারমিন আক্তার চাঁদনী গতকাল হাজির হয়েছিল প্রেস ক্লাবের মানববন্ধনে। সে তার ভাইকে ফেরত চেয়েছে। সে বলে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে দু’জনকে যেহেতু আয়না ঘর থেকে ফেরত দেয়া হয়েছে তাদের ধারণা তার ভাইও আয়না ঘরে বন্দী আছে। তারা বলে, এত দিন তারা নির্যাতনের ভয়ে মুখ বুজে ছিল। এখন সুযোগ এসেছে ভাইকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানানোর।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here