আমি ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার ……. এরশাদ আলী

0
1698

আরিফুল ইসলাম: এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান এরশাদ আলী বলেন আমি ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার। আজ শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন(ক্রাব) মিলনায়তনে ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ শীর্ষক ব্যানারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন,এরশাদ গ্রপ প্রায় ৩ দশকে তিল তিল করে গড়ে তােলা একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। এই সুনামকে ম্লান করতে কিছু কুচক্রী মহল নানাভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কুচক্রীমহল আমার ও আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি সংবাদ পত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে নানান ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে নিজেদের সুবিধা হাসিলের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি  এসকল মিথ্যা সংবাদের কপি কুচক্রী মহলটি আমার চলমান প্রজেক্টে প্রেরন করে আমার ব্যবসাটিকে বিনষ্ট করে দিয়ে নিজেরাই ব্যবসা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। “রিকশা চালক থেকে কোটিপতি” এবং এ.বি ব্যাংক এর ১১৪ কোটি টাকা লােপাট শিরোনামে সম্প্রতি কিছু ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে  সংবাদ প্রকাশে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এরশাদ আলী দাবি করেন প্রতিবেদন গুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রনােদিত । 

Advertisement

 তিনি জানান, এ.বি ব্যাংক থেকে এরশাদ গ্রুপের নামে ২০১৫-২০১৭ইং এই দুই বছরে চিনােহাইড্রো ও মেজর ব্রীজ প্রকল্পের ৬টি ভুয়া ওয়ার্ক ওর্ডার দেখিয়ে এ.বি ব্যাংক থেকে ১১৪ কোটি টাকা লােন উত্তোলন বিষয়ে প্রচারিত সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানােয়াট ও ভিত্তিহীন।

প্রকৃত অর্থে এ.বি ব্যাংকের সঙ্গে এরশাদ গ্রুপের ব্যাবসায়িক সু-সম্পর্ক প্রায় এক যুগ আগে থেকে এবং বিগত দিনে আর্থিক মুনাফা প্রায় ৫০ কোটি টাকা এরশাদ গ্রুপ এ.বি ব্যাংককে প্রদান করিয়াছে এবং ব্যবসায়িক সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরুপ এ.বি ব্যাংক এরশাদ গ্রুপকে একাধিক পদক প্রদান করিয়া সম্মানে ভূষিত করেছে।

এ.বি ব্যাংক সহ অন্যান্য ব্যাংক এর আর্থিক সহযােগিতায় এরশাদ গ্রুপ গড়ে তুলেন মিল ফ্যাক্টরিসহ ১৫০টির অধিক ট্রাক ।

 ন্যায়ের পথে থেকে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করার ফলে মীর সিমেন্ট কোম্পানি থেকে ২০০৫, ২০০৬ ও ২০০৭ সালে এরশাদ আলী এ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এছাড়া বাংলাদেশের সুনামধন্য বিভিন্ন কোম্পানীর ডিলার হিসেবে তাদের উৎপাদিত রড, সিমেন্ট ও সিরামিক্স বাজারজাত করে কোম্পানীগুলো থেকে একাধিক পদক অর্জন করেন।

সফল নিজস্ব লাইসেন্সে চায়না থেকে টাইলস আমদানি করে বাজারজাত করে আসছেন । এছাড়াও শাহ মখদুম ট্রান্সপাের্ট এ ব্যবহৃত ট্রাকের টায়ার বিদেশ থেকে আমদানি করে নিজেদের প্রয়ােজন সহ সমগ্র বাংলাদেশে টায়ার ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি বাজারজাত করেন।

পদ্মা সেতু সহ বাংলাদেশের অন্যান্য মেগা প্রজেক্টে বিদেশ থেকে পাথর আমদানি করে সরবরাহ করে আসছেন এবং পদ্মা মেজর ব্রীজ প্রজেক্ট হইতে বেষ্ট পাথর সাপ্লাইয়ার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন সার্টিফিকেট অর্জন করেন। বর্তমানে পদ্মা ব্রীজের রেল লিংক প্রজেক্ট সহ চিনাে-হাইড্রো ইত্যাদি প্রকল্পে পাথর সরবরাহ করে আসছেন।

ব্যাবসায়িক পরিবারের সন্তান হিসেবে তার নিজের ব্যবসার উত্থানের গল্প হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ছাত্র জীবন থেকে লেখাপড়ার পাশাপশি রিকশার ব্যবসা শুরু করে শতাধিক রিকশার মালিক হন এই সফল ব্যবসায়ী। এক পর্যায়ে রিকশার ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে রড ও সিমেন্টের ব্যবসা শুরু

করে তা থেকে উপার্জিত অর্থে তার ছােট তিন ভাইকে বিদেশে পাঠান। তারা প্রত্যেকেই প্রায় ১০ বছর বিদেশে কর্মরত ছিলেন। তাদের উপার্জিত অর্থ তার রড সিমেন্টের ব্যবসাকে প্রসারিত করে এবং সেই রড সিমেন্ট ব্যবসা হতে অদ্যবধি একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে “এরশাদ গ্রুপে” পরিনত করেন ।  

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,

গত ৩১ জানুয়ারী ২০২১ইং তারিখে বৈশাখী টেলিভিশন, ৩ ফেব্রুয়ারী দৈনিক মানব জমিন পত্রিকা, ১০ ফেব্রুয়ারি সময় টেলিভিশনে রিকশা চালক থেকে কোটিপতি এবং ভূয়া ওয়ার্ক ওর্ডার এর মাধ্যমে এ.বি ব্যাংক এর ১১৪ কোট টাকা লােপাটের বিষয়ে যে সংবাদ সম্প্রাচার করা হয়েছে।

তা সঠিক নয় এবং আমি উক্ত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি। মার্কেটে আমার ব্যবসার বিভিন্ন সেক্টরে শতাধিক কোটি টাকা বিল পাওনা রয়েছে, উক্ত সংবাদ প্রকাশের পর এই বিল উত্তোলন আমার জন্য একদিকে অনিশ্চিত, অন্যদিকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা হারাতে বসেছি।

আমি উধাও নই এবং ভবিষ্যতেও কখনই উধাও হয়ে যাওয়ার কোনরূপ পরিকল্পনাও নেই কারন আমি ব্যাংক থেকে লােন গ্রহণ করে তা আমার ব্যবসায় বিনিয়ােগ করি । আমি দেশের বাহিরে কোন সম্পদ তৈরি করি নি আমার দেশেও ব্যাংক এর বাহিরে কোন সম্পত্তি নেই। আমি দীর্ঘদিন ধরে করােনায় আক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছি।

এই সুযােগে আমার ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দী কুচক্রি মহল আমাকে আত্মগােপন দেখিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে। যে কোন সময় যে কোন সংস্থা আমার সাথে যােগাযোেগ করতে চাইলে আমি সর্বদা প্রস্তুত আছি। আমার সকল ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাবসায়িক সু-সম্পর্ক রহিয়াছে।

আমি এ.বি ব্যাংকের ওভারডিউ এ্যাডজাস্ট করন সহ আমার রডের মিল মর্টগেজ করে দেওয়া সত্বেও এ.বি ব্যাংক আমাকে নতুন বিনিয়েগের আশ্বাস দিয়ে আজ অবধি নতুন বিনিয়ােগ না করার দরুন আমার রডের মিলটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

এ.বি ব্যাংকের বর্তমান ডি.এম.ডি জনাব আব্দুর রহমান পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থার মাধ্যমে আমি ও আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একের পর এক ভূয়া তথ্য দিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে যাহা একজন ব্যবসায়ীর জন্য অত্যান্ত সম্মানহানিকর। ইতিপূর্বেও বিভিন্ন পত্রিকায় আমার ও আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অপপ্রচার করা হয়েছিল আমি বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার মাধ্যমে তাহার প্রতিবাদ জানিয়েছি।

এ.বি ব্যাংকের ডি.এম.ডি আব্দুর রহমান সিটি ব্যাংক এ কর্মরত থাকাবস্থায় গুলশানস্থ প্রায় ০৭ (সাত) কোটি টাকা বর্তমান মূল্যের একটি ফ্ল্যাট আমার কাছে বিক্রি করে দীর্ঘদিন যাবৎ নিজে ভােগদখল করিয়া আসিতেছে। আমার ক্রয়কৃত ফ্ল্যাটটি দখল বুঝিয়া পাওয়ার জন্য তাহার বিরুদ্ধে মামলা করিলে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে একের পর এক আমি ও আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এহেন কর্মকান্ডে লিপ্ত বলে আমি মনে করি।

প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে আমি বলতে চাই যে ব্যাংক এর টাকা লােপাট করিনি বরং প্রদত্ত লােনের বিপরীতে ব্যাংক সমূহের কাছে আমার স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পদ দায়বদ্ধ আছে। আমি আমার সকল ব্যাংকের হিসাব পূনঃতফসিল করনে আমার সর্বোচ্ছ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 কুচক্রীমহল এর ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রেহাই পেতে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here