বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগপত্র দিতে আবারো ব্যর্থ হয়েছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি। ২২ বারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হয়েছে সিআইডি। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে গতকাল রবিবার মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের দিন ছিল। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত সুপার রায়হান উদ্দিন খান প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় আগামী ৩ মে নতুন দিন রেখেছেন ঢাকার মহানগর হাকিম এ কে এম মঈনুদ্দীন সিদ্দিকী। :
অন্যদিকে ড. ফরাসউদ্দিনের তদন্ত রিপোর্ট অনেক আগেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছে জমা দিলেও এখনও তা প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে ২২ বারের মতো মামলার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানোতে আদালতের সংশ্লিষ্ট পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এস আই জালাল উদ্দিন জানান, এ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের মোট ২২টি তারিখ পেছানো হল। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। পাঁচটি সুইফট বার্তার মাধ্যমে চুরি হওয়া এ অর্থের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া ২ কোটি ডলার ফেরত আসে। তবে ফিলিপিন্সে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার জুয়ার টেবিল ঘুরে হাতবদল হয়। তার মধ্যে দেড় কোটি ডলার ফেরত এলেও বাকি অর্থ উদ্ধারে এখনও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা এ মামলা করেন। : এদিকে ফিলিপিন্সে যাওয়া রিজার্ভের অর্থ উদ্ধারে দেশটির রিজাল কমার্সিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এপ্রিলেই এই মামলা করা হবে বলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত গত ৫ মার্চ জানিয়েছিলেন। : স্থানান্তরিত এসব টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। ধারণা করা হয়, দেশের অভ্যন্তরের কোনো একটি চক্রের সহায়তায় এ অর্থ পাচার করা হয়েছে। ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ মামলাটি তদন্ত করে সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। তবে দফায় দফায় সময় নিলেও নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি পুলিশের এ তদন্ত সংস্থাটি। এদিকে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা লোপাটের ঘটনায় সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনেক আগেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাস এবং বুয়েটের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ। : এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, অনেক কষ্ট করে প্রতিবেদন তৈরি করেছি। রিপোর্ট সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি রিপোর্ট পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এখনো রিপোর্টটি খুলে দেখা হয়নি। তিনি জানান, অর্থ ফেরত পাওয়ার স্বার্থে এখনি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না। : মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। স্থানান্তরিত এসব টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। দেশের অভ্যন্তরের কোনো একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার রিজার্ভের অর্থ পাচার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। : এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪ ধারাসহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর ৫৪ ধারায় ও ৩৭৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।

