আবহাওয়া অধিদপ্তরে দুর্নীতির মহামারী

0
1057

* কোটি কোটি টাকার দুর্নীতিকে অনিচ্ছাকৃত ‘ভুল’বলে স্বীকার করেছে পরিচালক সামসুদ্দিন    আহম্মেদ,

Advertisement

* পাহাড়সম এসব দুর্নীতির প্রমান পেলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রনালয়ের গড়িমসি,

* দুর্নীতি স্বীকার করেও বহাল তবিয়তেই আছেন পরিচালক সামসুদ্দিন আহম্মেদ,

* ক্ষমতার অপব্যবহার করে মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ৭কোটি টাকা কাজের বিল পরিশোধ,

* ৩ কোটি টাকার পিসি ক্লাস্টার ক্রয় করেন সাড়ে ১৩ কোটি টাকায়,**কাজের অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায় না অথচ দেয়াল চুনকামের অন্তরালে সাড়ে ৩কোটি ও নির্মানে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা গায়েব,

* ২০ লাখ টাকায় কেনা জেনারেটরের পূর্ন:মেরামত খরচ ৫৬ লাখ টাকা; দুর্নীতি কি গাছে ধরে….?

* ৫ হাজার টাকা প্রশিক্ষন বিল, ৩৫ হাজার টাকার বাউচার সংরক্ষন:কতজনকে প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে তার তালিকা না থাকলেও অন্তরালে ৩ কোটি ৪০ লাখ লোপাট,

* এসএমআরসি ভবনের পূর্ন:মেরামত কাজে সুইচ,তার,টাইলস,ঝাঁরবাতি,এসি,ফুলের টব, চেয়ার টেবিল সব মিলিয়ে কোটি টাকার হিসাব মিলে না অথচ বরাদ্দ দিয়েছেন ৯ কোটি টাকা,

* অপ্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমন, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে প্রতারনা, অধিদপ্তরের খরচেই দপ্তরের ৫টি গাড়ি নিজের পরিবার নিয়ে ব্যবহার।

মো: আহসানউল্লাহ হাসান:

সার্টিফিকেট নিয়েও শামসুদ্দিনের প্রতারনা

আবহাওয়ায় অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র গুলো নিয়েও প্রতারণা করেছেন বলে  জানা গেছে। বিভিন্ন জায়গায় তিনি নিজেকে ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট বলে প্রচার করে থাকেন। কিন্তু তিনি এসএসসি ছাড়া অন্য সকল পরীক্ষা গুলোতেই ২য় স্থান অর্জন করেছেন। তার চাকুরির বায়োডাটা থেকে জানা গেছে তিনি মাষ্টার্সে ২য় স্থান অধিকার করেছেন। অথচ আবহাওয়া অধিদপ্তরের একটি বিশেষ স্মরনিকায় তিনি নিজেকে মাষ্টার্সে ১ম স্থান অধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। কিসের লোভে  এমন প্রতারণা তা কারোরই বোধগম্য নয়। তার সার্টিফিকেট গুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেকে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় বরাবর লিখিত বক্তব্য দিয়ে পরিচালকের

ভুল স্বীকার:

আবহাওয়া অধিদপ্তরের অধীনে জাতীয় আবহাওয়া ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এসএমআরসি ভবনের মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ৬ কোটি ৮৭লাখ ৪৭হাজার টাকা ৮টি কোটেশনের মাধ্যমে খরচ করেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামসুদ্দিন আহম্মেদ। আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) ৩তলা বিশিষ্ট উক্ত ভবনটি ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য বিভিন্ন বৈদ্যুতিক কাজের মেরামত/সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন চেয়ে গণপূর্ত ই/এম বিভাগকে ১ডিসেম্বর-২০১৯ তারিখে অনুরোধ জানালে গণপূর্ত বিভাগ একই জাতীয় কাজকে ৮টি ভাগে বিভক্ত করে ৯ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার একটি প্রাক্কলন প্রেরণ করেন। বিএমডি প্রাক্কলন প্রাপ্তির ২দিনের ব্যবধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন ছাড়াই গণপূর্ত বিভাগকে কাজ করার প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করে। গণপূর্ত বিভাগ উক্ত কাজের আংশিক বাস্তবায়ন করে ৬কোটি ৮৭লাখ ৪৭হাজার টাকা বিল উত্তোলন করে নেয়ার পরে বিভিন্ন গনমাধ্যমে এর সংবাদ প্রচারিত হওয়ায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। ফলে অবশিষ্ট কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অত:পর পরিচালক সামসুদ্দিন আহম্মেদ উক্ত কাজের প্রশাসনিক অনুমোদন ও পরবর্তী দিকনির্দেশনা প্রাপ্তি জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন। বক্তব্যে তিনি এটাকে দুর্নীতি নয়, অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করেন।

পরিচালক সামসুদ্দিন আহম্মেদের লিখিত বক্তব্যের আলোকে জানা গেছে, সাবেক সার্ক মেট্রলজিক্যাল রিসার্চ সেন্টার (এসএমআরসি) ভবনটি ব্যবহারের বিষয়ে মাননীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী (মাননীয় প্রধামমন্ত্রী)’র “সার্ক মেট্রলজিক্যাল রিসার্চ সেন্টার’ (এসএমআরসি) ভবনটি বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ‘জাতীয় আবহাওয়া গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে” সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ৮সেপ্টেম্বর-২০১৯ তারিখের পত্রের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহন করার জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরকে (ডিএমডি) অনুরোধ জানানো হয়। সে মোতাবেক ১ডিসেম্বর-২০১৯ তারিখে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড ষ্ট্র্যাটেজিক ষ্ট্যাডিজ থেকে সাবেক এসএমআরসি ভবনটি বুঝে নেওয়া হয়। এসএমআরসি ভবনটি বুঝে নেওয়ার প্রাক্কালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে উপসচিব মোছা: আনারকলি ও  উপসচিব ফাতেমা-তুজ-জহুরা উপস্থিত ছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় সিদ্ধান্ত ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সাবেক এসএমআরসি ভবনটিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ‘জাতীয় আবহাওয়া গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের নিমিত্তে ৩ডিসেম্বর-২০১৯ তারিখে সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগকে সরেজমিনে পরিদর্শন পূর্বক নিন্মবর্নিত কাজের জন্য প্রাক্কলন সরবরাহের জন্য বিএমডি কর্তৃক অনুরোধ জানানো হয়।

ক. নীচতলা-তৃতীয় তলা পর্যন্ত বিভিন্ন কক্ষসমূহের ইন্টেরিয়র, ফ্লোরকার্পেট, ফার্নিচার, ঝাড়-বাতি, উন্নতমানের লাইট-ফিটিংস ও সুইচ-সকেট স্থাপনকরন;

খ. আলোচ্য ভবনের বিভিন্ন কক্ষ সমূহের গুরুত্ব বিবেচনা করে নতুন এয়ারকুলার স্থাপনসহ বৈদ্যুতিক ওয়ারিংকরন;

গ. পিএবিএক্স, এলএএন. সিসিটিভি স্থাপনসহ অন্যান্য কাজ;

ঘ, সাবস্টেশন/জেনারেটর চালু করার নিমিত্ত প্রয়োজনীয় মেরামতকরন;

ঙ. আলোচ্য ভবনের নিরাপত্তা বাতি, গেট লাইট, গার্ডেন লাইটসহ লাইটিং এরেষ্টার স্থাপনকরন;

চ. আলোচ্য ভবনের কনফারেন্স রুম/সেমিনার রুম সমূহের পিএ সিস্টেম, সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন সহ রুমের ফার্নিচার সহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক কাজ।

২। সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী গণপূর্ত  ই/এম কারখানা বিভাগ, শেরে বাংলা নগর, ঢাকা উল্লেখিত কাজগুলোকে ৮টি ক্ষেত্রে বিভক্ত করে প্রতিক্ষেত্রে টা: ১৭০.০০, ১৭৫.০০, ২০০.০০,৭০.০০, ১০০.০০, ৩০.০০, ১০০.০০, ৮০.০০ লক্ষ ধরে ৮টি পৃথক পৃথক প্রাক্কলন সরবরাহ করে ব্যয় কোড ৩২৫৮১০৭, ৩২৫৮১১৯, ৪১১১২০১ হতে বরাদ্দ ও প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য অনুরোধ জানান।

৩। গণপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলী কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রাক্কলন গুলো প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট শাখা (পরিকল্পনা মহাশাখা) হতে নথি উপস্থাপনের সময় নোট অনুচ্ছেদে প্রাক্কলনে উল্লেখিত কাজগুলো এবং প্রাক্কলিত মূল্য ধারাবাহিকভাবে ক্রমিক সংখ্যায়/ছক আকারে না লিখে গদ্যাকারে লেখার কারণে কোন কাজের জন্য প্রাক্কলিত মূল্য কত ধরা হয়েছে তা অনুধাবন করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া নোট অনুচ্ছেদে গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক একই আইটেম ভেঙ্গে একাধিক প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়েছে মর্মেইকিছু উল্লেখ করা হয়নি। প্রেক্ষাপটদৃষ্টে প্রতীয়মান হয় যে, প্রতিটি প্রাক্কলন ৫কোটি টাকার কম হওয়ায় আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ (ডেলিগেশন অব ফিনান্সিয়াল পাওয়ার্স) অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত পৃথক পৃথক প্রাক্কলন গুলো সংযুক্ত দপ্তর প্রধান হিসেবে পরিচালকের আর্থিক ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে বিধায় সংশ্লিষ্ট শাখা হতে প্রাক্কলন গুলো প্রশাসনিক অনুমোদনসহ প্রতিস্বাক্ষরের জন্য পরিচালকের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

৪। গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক কোন আইটেম ভেঙ্গে প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়েছে কিনা মর্মে নোট অনুচ্ছেদে উল্লেখ করে পরিচালকের দৃষ্টিগোচর করা হয়নি বিধায় পরিচালক সরল বিশ্বাসে ২০১৯-২০২০ অর্থ সালে ৬কোটি ৮৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ব্যয় মঞ্জুরি প্রদান করেন।

ইত:পূর্বে কাজগুলো সম্পাদনের নিমিত্ত বরাবরের ন্যায় প্রাক্কলন পরিকল্পনা মহাশাখার প্রধান হিসেবে আবহাওয়াবিদ ড: মো: শহিদুল ইসলাম ও আবহাওয়াবিদ মো: আতিকুর রহমান কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর প্রেরণ করা হয়। উল্লেখ্য যে, পরিকল্পনা মহাশাখার প্রধান বরাবরই রাজস্বখাতের পূর্ত ও বৈদ্যুতিক কাজসহ মেরামত/সংস্কার কাজের প্রাক্কলনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিস্বাক্ষর করে থাকেন। তিনি প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী সহ অন্যান্য প্রকৌশলীগনের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে থাকেন। তার নিরীক্ষা ও সঠিকতা যাচাইয়ের পর পরিচালক প্রথমে প্রশাসনিক অনুমোদন এবং পরবর্তীতে ব্যয় মঞ্জুরী প্রদান করে থাকেন।

৫। পরবর্তীতে প্রাক্কলন গুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একই আইটেমের কাজ ভবনের প্রতিটি তলায় বিভক্ত করে পৃথক পৃথকভাবে প্রাক্কলন প্রস্তুতপূর্বক গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃক সরবরাহ করা হয়। একই আইটেমের কাজগুলো একত্রিত করে দেখা যায়, যে প্রাক্কলিত মূল্য দাঁড়ায় তার প্রশাসনিক অনুমোদনের এখতিয়ার আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ অনুযায়ী পরিচালক বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ক্ষমতার বহির্ভূত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

৬। ৫ আগস্ট-২০২০ তারিখে গঠিত কমিটির মতামত অনুযায়ী সম্পন্নকৃত একইআইটেমের প্রাক্কলনসহ অন্যান্য আইটেমগুলোর সম্পন্ন কাজ একত্র করলে মোট মূল্য দাঁড়ায় ৬ কোটি ৮৭ লাখ ৪৭হাজার টাকা। আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ অনুযায়ী যার প্রশাসনিক অনুমোদনকারী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়।  তথ্যগত ও ধারণাগত ভুলের কারণে পরিচালক বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক প্রাক্কলিত ব্যয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করা হয়। যা প্রচলিত বিধি বিধানের আলোকে সঠিক হয়নি মর্মে প্রতীয়মান হয়। উল্লেখিত বিষয়টি নিতান্তই পরিচালকের অনিচ্ছাকৃত ভুল। এপ্রেক্ষাপটে সাবেক এসএমআরসি ভবনের সংস্কারের প্রাক্কলিত মূল্য বাবদ সর্বমোট ৬কোটি ৮৭লক্ষ ৪৭ হাজার টাকার প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় প্রশাসনিক ক্ষমতাবান বিধায় ভূতাপেক্ষভাবে আর্থিক ব্যয়ের অনুমোদন ও দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।

এমতাবস্থায়, সাবেক এসএমআরসি ভবনের বৈদ্যুতিক মেরামত/সংস্কার কাজ সম্পাদনের নিমিত্ত পরিচালক বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক সরল বিশ্বাসে নির্বাহী প্রকৌশলী গণপূর্ত ই/এম কারখানা বিভাগ,  শেরেবাংলা নগর, ঢাকা বরাবর প্রাক্কলিত মূল্যের অর্থের প্রশাসনিক অনুমোদনে ধারণাগত ও তথ্যগত ভুলের কারণে এই অনিচ্ছাকৃত ভুল ক্ষমা করত: ২০১৯/২০ অর্থ সালে ব্যয়িত সর্বমোট ৬ কোটি ৮৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকার ভূতাপেক্ষ প্রশাসনিক অনুমোদন ও পরবর্তী দিকনির্দেশনা প্রদান করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে-ইতি সামসুদ্দিন আহম্মেদ।

এসএমআরসি ভবন মেরামত সংক্রান্ত কাজে দুর্নীতি

* রাজধানীর আগারগাঁয়ে অবস্থিত সার্ক দেশগুলোর আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্রটি গত কয়েক বছর আগে বন্ধ হয়ে গেলে কেন্দ্রটির জমিসহ সকল স্থাপনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যায়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উক্ত এসএমআরসি ভবনটি আবহাওয়া অধিদপ্তরের জাতীয় আবহাওয়া গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য মত প্রকাশ করলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হতে ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে এব্যাপারে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএমডিকে অনুরোধ জানানো হয়।

* বিএমডি ভবনটি ব্যবহারের উপযোগী করার নামে উক্ত ৩তলা বিশিষ্ট ভবনটির বিভিন্ন বৈদ্যুতিক কাজের মেরামতের জন্য প্রাক্কলন চেয়ে গণপূর্ত ই/এম বিভাগকে ২০১৯ সালে ডিসেম্বর মাসে অনুরোধ জানালে গণপূর্ত বিভাগ একই জাতীয় কাজকে ৮টি ভাগে বিভক্ত করে ৯ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার একটি প্রাক্কলন প্রেরণ করে।

* বিএমডি প্রাক্কলন প্রাপ্তির ২দিনের মধ্যেই প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করে। তবে একই সাথে গণপূর্ত বিভাগকে ফেরত না দিয়ে ডিসেম্বর ২০১৯ মাসে ৪টি, মার্চ ২০২০ মাসে ৩টি এবং মে ২০২০ মাসে ১টি অনুমোদিত প্রাক্কলন পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ফেরত পাঠায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, বিএমডি থেকে প্রতিবার প্রেরিত অনুমোদিত প্রাক্কলনে টাকার পরিমাণ এবং পত্রের স্মারক নম্বরে পরিবর্তন করে মোট ৮কোটি ৭৮ লক্ষ ৭২ হাজার টাকার অনুমোদনসহ প্রাক্কলন ফেরত দেয়।

* বিএমডি আবার মার্চ হতে জুন মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই মোট ৬ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৯২৭ টাকার বিল পরিশোধ করে।

*খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, এসংক্রন্ত কাজে পরিচালক মহোদয়ের আর্থিক ক্ষমতা না থাকা সত্বেও অধীনস্ত কর্মকর্তাদের ভুলভাবে উপস্থাপনার কারণে বুঝতে না পেরে তিনি প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করেছেন এবং বিল পরিশোধ করেছেন মর্মে ক্ষমা চেয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে পুনরায় প্রায় ৭ কোটি টাকার প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

দুর্নীতি বন্ধে  উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গড়িমসি কেন?

*পরিচালক মহোদয়ের ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে দেখা যায় কর্মকর্তা হিসেবে তার চাকুরির বয়স প্রায় ৩২ বছর এবং পরিচালক পদে প্রায় ৫ বছর। শিক্ষাজীবনেও একটি ছাড়া সবগুলোতেই ২য় স্থান। অথচ আর্থিক ক্ষমতা বলে অনুন্নয়ন খাতে মেরামত (পূর্ত) কাজে তিনি সর্বোচ্চ কত টাকা ব্যয় করার এখতিয়ার রাখেন তা তার জানা নাই এবং একই কাজে মোট ৮ কোটি ৭৮ লক্ষ ৭২ হাজার টাকার অনুমোদনকালে তার আর্থিক ক্ষমতা সম্পর্কে জানার বা কারো সাথে পরামর্শ করারও প্রয়োজন মনে করেননি। কাজটি বিএমডির ক্রয় বা কর্ম পরিকল্পনায় ছিলনা। ফলে বাজেট বরাদ্দও ছিলনা। তাহলে কাজটি শুরু করার আগে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন গ্রহন করা হলোনা কেন? একই অর্থ বছরে একই জাতীয় কাজকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে সম্পন্ন করা পিপিআর ২০০৮ এর সরাসরি লংঘন। এক্ষেত্রে তিনি আইনের তোয়াক্কা না করেই উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে বুদ্ধিমত্তার সাথে নিজের পছন্দের অযোগ্য ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়ার কৌশল গ্রহণ করেছেন মাত্র।

প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদানের পরপরই বাস্তবে কাজ শুরুই হয়নি। কিন্তু সকল বিল তড়িঘড়ি করে পরিশোধ করেছেন যাতে গণপূর্তের/ঠিকাদারের সাথে মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী সকল আর্থিক সুবিধাদি স্বল্প সময়ের মধ্যেই তার হাতে এসে পৌছে যায়। উল্লেখ্য যে, বর্তমান সময়ে গণপূর্ত বিভাগের সকল বিল আইবাস পদ্ধতিতে পরিশোধ করা হয়ে থাকে এবং ৩০ জুন এর পর গণপূর্ত বিভাগ কোন অর্থ নিজের কাছে ধরে রাখতে পারেনা। সুতরাং এক্ষেত্রেও গণপূর্ত বিভাগ নিশ্চিতভাবেই কোন কাজ ছাড়াই পরিচালকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিকাদারকে সকল বিল পরিশোধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

মেরামত কাজে প্রত্যাশিত সংস্থার অনুমোদিত টাকার টেন্ডার অনুমোদন নির্বাহী/তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর ক্ষমতার বহির্ভূত। সুতরাং মে মাসে পরিচালকের অনুমোদন পাওয়ার পর প্রধান প্রকৌশলীর অনুমোদক্রমে (বড় রকমের তদবির করে হলেও) টেন্ডার সম্পন্ন করে জুন মাসের ১০ তারিখের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা বাস্তবে কোনভাবেই সম্ভব নয়। সুতরাং এক্ষেত্রেও সমস্যা আছে বলে প্রতীয়মান হয়। পরিচালকের নির্দেশনা মত কাজ না করলে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা শাখার কর্মকর্তার পক্ষে ঐ পদে এক মুহুর্তও অবস্থান করা সম্ভব নয়। তার প্রমাণ তিনি গত ২ বছরে ঐ পদে ৪ জন কর্মকর্তাকে রদবদল করেছেন। ভবনটি মেরামত করতে যে টাকা খরচ করা হয়েছে তা দিয়ে উন্নতমানের ডেকোরেটেড ৫তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা সম্ভব বলেও প্রতীয়মান হয়। মেরামতের নামে সরকারি টাকা লোপাটের সকল প্রকার মতলব এখানে প্রয়োগ করা হয়েছে। সাধারণ লোকজন জেনে যাওয়ায় এবং প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন স্থানে খবরটি প্রচারিত হওয়ায় পরিচালক তার ভুল স্বীকার করে এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা করছেন মাত্র। এছাড়াও পরিচালকের এধরণের আরও ইচ্ছাকৃত ভুলের নমুনা নীচে দেয়া হলো।

পিসি ক্লাস্টার ক্রয়ে দুর্নীতির মহামারী:

* পূর্ববর্তী পরিচালকের সময় প্রকল্প থেকে পিসি ক্লাস্টার ক্রয় করা সত্বেও নানা অজুহাতে ও প্রক্রিয়ায় উক্ত সিস্টেমকে কনফিগার করতে অসহযোগিতা করার মাধ্যমে ত্রুটিপুর্ণ প্রদর্শন করা এবং বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় অন্তরভূক্ত না থাকা সত্বেও একই স্পেসিফিকেশনের চাহিদা মোতাবেক রাজস্ব বাজেট থেকে সিনপটিক মহাশাখার মাধ্যমে ২০১৬ সালে ৩ গুণ বেশি দামে (প্রায় ১০ কোটি) ননভাবে আরও একটি পিসি ক্লাস্টার সিস্টেম ক্রয় করেন।এ সিস্টেমটি চালু করতে এর পিছনে আরও সাড়ে ৩ কোটি টাকা খরচ করা হলেও এখন তা অঁেকজো।

* রাজস্বখাত হতে ১০ কোটি টাকা মূল্যের পিসি ক্লাস্টার ক্রয়ে যে সব দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে সংক্ষেপে তা হলো- (ক)বার্ষিক কর্ম এবং ক্রয় পরিকল্পনায় না থাকায় এক্ষেত্রেও প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের পূর্ব অনুমোদন নেয়া হয়নি। (খ)       মানহীন দৈনিক পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয় এবং প্রথমে তা সিপিটিইউ এর ওয়েব সাইটে দেয়া হয়নি। নানা কারণে পরে দেয়া হলেও ভুলভাবে দেয়া হয়েছে। (গ) শিডিউল ক্রয়কারী বিভিন্ন কোম্পানীর কাছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সম্বলিত শিডিউল বিক্রি করা হয়েছে। (ঘ) বড় মাপের ক্রয় প্রক্রিয়া হলেও মধ্যবর্তী মিটিং এর ব্যবস্থা রাখা হয়নি। (ঙ) নির্দিষ্ট কোম্পানীকে কাজ দেয়ার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে আন্তর্জাতিক টেন্ডারে ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং দরদাতাদের সকল ডক্যুমেন্ট এ্যামবেসির মাধ্যমে জমা দেয়ার শর্ত দেয়া হয়েছে।

(চ) প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সদস্যের নোট অব ডিসেন্ট দেয়ার পরও ৫ম সর্বনিন্ম দরদাতাকে (আবাসা কোম্পানী) কাজ দেয়া হয়েছে। কোম্পানীটি ভুয়া (অর্থাৎ তারা একাজ করেনা) এবং সরবরাহকৃত পিসি ক্লাস্টার এর পারফরমেন্সও শূন্য পাওয়াগেছে। (ছ) আমদানীকৃত পণ্য কাস্টমস থেকে ছাড়ানোর জন্য কাঁচামালের ঘোষণাপত্র ইস্যুকরাহয়েছে এবং বিপুল পরিমাণে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে। (জ) একটি বিশেষ নথির মাধ্যমে বিশেষ ব্যবস্থায় এ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সিভিল অডিটকালে অডিট আপত্তি দেয়া হলেও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এবং নথি পরিবর্তন করে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

ঝড় সতর্কীকরণ  কেন্দ্রের ডেকোরেশন কাজে দুর্নীতি

* গণপূর্ত বিভাগ থেকে প্রাক্কলন (প্রায় ৮৭ লক্ষ টাকা) সংগ্রহ করার পর পরিচালক নিজেই টেন্ডার আহ্বান করেন এবং পিপিআর এর আইন ভেঙে ৩০% কম মূল্যে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেন। * চারিদিকে জানাজানি হলে মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত করে সত্যতা খুজে পায়। তবে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি যা পরিচালককে আরও সাহসী করে তোলে।

৪। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক্সপ্রেস লাইনে সংযোগ দেয়ার জন্য আবহাওয়া সদর কার্যালয়ে পিডব্লিউডি এর মাধ্যমে ৩৫ লক্ষ টাকার বৈদ্যুতিক কাজ করানো হয়েছে (সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ খরচ হয়েছে)। কিন্তু এক্সপ্রেস লাইনে সংযোগ না দিয়েই কাজ শেষ করা হয়েছে। ফলে এখনও লোড শেডিং এর সময় আবহাওয়া অফিসে বিদ্যুৎ থাকেনা এবং জেনারেটরে প্রতি বছরের মত ভুয়া বিল উত্তোলন করা হয়।

৫। ২কোটি ৮০ লক্ষ টাকার বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে গণপূর্তের সাথে একই ধরনের হিসাবের ভিত্তিতে।

৬। প্রতি বছর রাজস্ব বাজেট হতে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করে এবং সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় কয়েক কোটি টাকার অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও এক্সেসোরিজ ক্রয় করা হচ্ছে। কিন্তু দেখার বা বলার কেউ নেই।

৭। পরিচালকের বিভিন্ন দুর্নীতির কাজে সরাসরি সহযোগিতা করার জন্য জনাব রবিউল হক এবং লতিফুল বারী নামের ২জন কর্মচারীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা উল্লিখিত কাজের দেখভালের পাশাপাশি বিভিন্ন বদলী বানিজ্য করেও হাজার হাজার টাকা রোজগার করছে বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওযা যাচ্ছে। এছাড়া খালিদ হোসেন নামের একজন উচ্চ পর্যবেক্ষকের ৫ বছরের লীয়েনে ছুটিকালীন বেতনভাতা তার নামে এ দুজন উত্তোলন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য যে, জনাব রবিউল চাদপুরের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্বেও ময়মনসিংহের কোটায় চাকুরি করছেন এবং বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

৮। জামাল উদ্দিন, ড্রাফটসম্যান (অব:) মাধ্যমে কালশী ও সেগুনবাগিচার ফ্লাটের কিস্তি পরিশোধ ও দেখভাল করানো হয়েছে এবং বিভিন্ন নির্মাণ কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ফলে ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী হওয়া সত্বেও তার চাকুরির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ২ বার জোর সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হলেও বিএনপির একজন জেলা পর্যায়ের অন্যতম নেতাও বটে।

৯। ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে ড্রাইভার নিয়োগ, ৪টি গাড়ি নিজেরসহ পরিবারের কাজে ব্যবহার এবং প্রতি মাসে ১টি গাড়ির ভুয়া বিল উত্তোলনের ইতিহাস সবারই জানা।

১০। বিশেষ ঠিকাদারের মাধ্যমে হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট ক্রয় এবং বৈদেশিক ট্রেনিং-এ মন্ত্রণালয়কে ফাঁকি দিয়ে ১২ জনের স্থলে ৬ জন পাঠানোর মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা পকেটস্থ করার ক্ষেত্রে তার যোগ্যতার জুড়ি মেলা ভার।

১১। তিনি ফিডার পদে যোগ্যতা অর্জনের আগেই রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনা লাভ করে পরিচালক পদে পদোন্নতি লাভ করেন যা, একটি বিরল ঘটনা। এছাড়াও তার আরও দুর্নীতির কাহিনী এ ছোট পরিসরে বর্ণনা দেয়া সম্ভব নয়।

১২। ১নং ছাড়া সকল দুর্নীতির কাহিনী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিকে (অপরাধ বিচিত্রাসহ) প্রকাশিত হলেও পরিচালক সাহেবের ক্ষমতা যে সরকারের চেয়েও বেশি তা তার পদে বহাল থাকার মাধ্যমে প্রমাণ করে। তিনি ১০০ কোটি টাকার মালিক হওয়ার স্বপ্ন অচিরেই পুরন করতে পারবেন বলে অনুমান করা যাচ্ছে।

অনুমোদন ছাড়াই ৭কোটি টাকা কাজের বিল পরিশোধ

প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন ছাড়াই শুধুমাত্র অর্থ হাতিয়ে নিতে তড়িঘড়ি করে একটি প্রকল্পের আংশিক কাজের বাস্তবায়ন দেখিয়ে অন্তত ৬ কোটি ৮৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামসুদ্দিন আহম্মেদ। বিভিন্ন গনমাধ্যমে একাধিকবার এসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হলেও এ পরিচালকের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে।তবে পরিচালকের এহেন দুর্র্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্বে বিভাগীয় মামলা হলেও স্বপদেই বহাল রয়েছেন এই কর্মকর্তা। এনিয়ে দপ্তরের অপরাপর কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিলেও প্রতিরক্ষা সচিব বরাবর পরিচালক সামসুদ্দিন আহম্মেদ তার দায়িত্ব পালনে ভুল হয়েছে মর্মে একটি লিখিত জবাব পেশ করে প্রকল্প অনুমোদনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তথ্যসুত্রে জানা গেছ, রাজধানীর আগারগাঁয়ে অবস্থিত সার্কভুক্ত দেশগুলোর আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র অর্থাৎ এসএমআরসি ভবনটি বিগত কয়েক বছর আগে থেকে বন্ধ হয়ে গেলে তা জমিসহ সকল স্থাপনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যায়। কিন্তু ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উক্ত ভবনটি আবহাওয়া অধিদপ্তরের জাতীয় আবহাওয়া গবেষণা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য মতপ্রকাশ করেন। অত:পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় হতে ৮সেপ্টেম্বর-২০১৯ তারিখে এব্যাপারে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিএমডিকে অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তীতে বিএমডির পরিচালক সামসুদ্দিন আহম্মেদ ১ডিসেম্বর-২০১৯তারিখে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোসা: আনার কলি ও উপ-সচিব ফাতিমা-তুজ-জোহরার উপস্থিতিতে ভবনটি বুঝিয়া নেয়।

৩ডিসেম্বর-২০১৯ সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগকে সরেজমিনে পরিদর্শন পূর্বক কাজের প্রাক্কলন সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানান বিএমডির পরিচালক। এক্ষেত্রেগণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী একই কাজ ৮টি ক্ষেত্রে বিভক্ত করে ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি প্রাক্কলন প্রেরন করেন বিএমডিকে। অথচবিএমডির পরিচালক এই প্রাক্কলনটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই২দিনের ব্যবধানে গণপুর্ত বিভাগকে কাজ করার প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করেন।

গণপুর্ত বিভাগ উক্ত অনুমোদন সাপেক্ষে কাজের কিছু অংশ সম্পন্ন করে নিয়ম বহিভত ভাবে অন্তত ৭কোটি  টাকার বিল উত্তোলন করে নেয়। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ঘটে বিপত্তি। মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন ছাড়া কার্যাদেশ প্রদান ও বিল অনুমোদন দেয়া পরিচালক সামসুদ্দিন আহম্মেদের ক্ষমতার বাইরে বিধায় কর্তৃপক্ষ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করে। কিন্তু দুর্নীতিবাজ পরিচালক শামসুদ্দিন আহম্মেদ এটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে মর্মে ১নভেম্বর-২০২০ তারিখে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত বক্তব্য দাখিল করে। শোনা যাচ্ছে, পরিচালক সামসুদ্দিন আহম্মেদের পূর্বের নানা অনিয় দুর্নীতির খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় এবং এই প্রকল্পের এরুপ অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই দুর্নীতিবাজ পরিচালক কিভাবে স্বপদে বহাল তবিয়তে রয়েছে তা নিয়ে দপ্তরের ভেতরে বাইরে চলছে নানা গুণজণ। অনেক টাকা খরচ করেই নাকি পরিচালক সামসুদ্দিন আহম্মেদ পদে বহাল রয়েছেন এমন গুনজনে মুখরিত বিএমডি অধিদপ্তর। 

৩ কোটি টাকা পিসি ক্লাস্টার ক্রয় সাড়ে ১৩ কোটি টাকায়

২০১৫/১৬ অথবছরে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই তিনগুন বেশী দামে একটি পিসি ক্লাস্টার ক্রয় করে আরো সাড়ে তিন কোটি টাকা উক্ত পিসি ক্লাস্টারটি পূর্ন: মেরামত কাজে খরচ করেন এবং বিমান বন্দরে কাস্টমস ফাঁকি দেবার জন্য এই পিসি ক্লাস্টারটিকে কাঁচামাল উল্লেখ করে ছাড়িয়ে আনেন। যদিও এটি অধিদপ্তরের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত ছিলো না। তারপরে  প্রশাসনিকভাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয়ের পূর্ব অনুমতি ছাড়াই পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ তার নিজস্ব উদ্যোগে একটি জাল জালিয়াতিমুলক টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই পিসি ক্লাষ্টারটি ক্রয় করেন।

দেয়াল চুনকামে সাড়ে ৩কোটি; নির্মানে ২.৮০ কোটি

২০১৯/২০ অর্থবছরে এক্সপ্রেস লাইনে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেয়ার জন্য পিডব্লিউডি এর মাধ্যমে ৩৫ লাখ টাকা কাজ করেন। যেখানে হিসাব কষলে ৫ লাখ টাকা খরচেরই কোন চিত্র খুজে পাওয়া যায় না। একই ধারাবাহিকতায় তিনি ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মান করেন। সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ভবনের পুর্ন: মেরামত সহ চুনকাম করেন।

প্রশিক্ষনের অন্তরালে

৩ কোটি ৪০ লাখ লোপাট

বিশ^ ব্যাংকের লোনের টাকায় ‘বাংলাদেশ আঞ্চলিক আবহাওয়া ও জলবায়ু সেবা প্রকল্পের আওতায় আবহাওয়া তথ্য সেবা ও আগাম সতর্কবানী পদ্ধতি জোড়দারকরন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অনুমোদিত ডিপিপিতে ১ হাজার জনের ১ সপ্তাহ করে লোকাল প্রশিক্ষনের জন্য ৩ কোটি ৪০ লাখ ৬২ হাজার টাকার বরাদ্দ পায় অধিদপ্তর। ৩২টি ক্যাটাগরিকে এই প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা থাকলেও শুধুমাত্র ১টি ক্যাটাগরি এমএস ওয়ার্ডের জন্য ৫ দিন ব্যাপি প্রশিক্ষন দিয়ে জন প্রতি ৫ হাজার টাকা খরচ দিয়ে প্রশিক্ষন সমাপ্ত করে জন প্রতি ৩৪ হাজার টাকা প্রশিক্ষন খরচ বাউচার দেখান বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সুত্র। এভাবেই তিনি প্রতিটি কাজে নিজের ইচ্ছের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন, কারোর সাথে পরামর্শ বা অনুমোদনের প্রয়োজন বোধ মনে করেননি।

সাংবাদিক

প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

হরিলুটের রঙ্গমঞ্চে পরিনত হয়েছে বাংলাদেশ মেটোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট অর্থাৎ বাংলাদেশে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পিয়ন থেকে শুরু করে অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ পর্যন্ত সবাই যে যার ইচ্ছে মতো অফিস কার্য পরিচালনা করে যাচ্ছেন। করোনা দুর্যোগের এই ক্রান্তিলগ্নে সীমিত জনবল নিয়ে অফিসকার্য পরিচালনার সরকারী বিধি বিধান থাকলেও অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ সহ ৯৮% শতাংশ কর্মকর্তাই এখন অনুপস্থিত থাকে। দুর্নীতির অক্টোপাস হিসেবে পরিচিত এই অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদের সীমাহীন দুর্নীতির তথ্যানুসন্ধানে একাধিকবার সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

তবে সংবাদকর্মীরা যাতে কোন প্রকার তথ্য উদ্ঘাটন করতে না পারে সেই জন্যে তাদেরকে অধিদপ্তরের ভেতর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে উক্ত অফিস কর্তৃপক্ষ। সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সত্যতা নিশ্চিত করে মোবাইল ফোনে কথা বলেন অধিদপ্তরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন।

অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে নিরাপত্তাকর্মী সুলতান আহমেদের মোবাইল ফোনে নিরাপত্তা কর্মকর্তা গিয়াসউদ্দিন বলেন, অ্যাপয়েনমেন্ট ছাড়া অধিদপ্তরের ভেতর সাংবাদিক প্রবেশ নিষেধ রয়েছে। কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন কোন কর্মকর্তাই অফিসে আসেনা। কিছু জানতে চাইলে আপনারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে চলে যান।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here