আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিনের লাগামহীন দুর্নীতি: ১০ কোটি টাকার কম্পিউটার এখন অকেজো

1
1272

স্টাফ রিপোর্টার:
দুর্নীতির অক্টোপাস হিসেবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদের সীমাহীন দুর্নীতির ফসল তিনগুন বেশী দামে কেনা ১০ কোটি টাকার কম্পিউটার ক্লোজটার এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের অপারেশনাল পূর্বাভাস কাজের জন্য একটি কম্পিউটার ক্লোজটার থাকা সত্বেও ২০১৬/১৭ অর্থ বছরে রাজস্ব বাজেট হতে নতুন চাহিদা সৃষ্টির মাধ্যমে ৩ গুণ বেশী দামে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি কম্পিউটার ক্লোজটার কেনা হয়।বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় এটি অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও প্রশাসনিক মন্ত্রনালয়ের পূর্ব অনুমতি ছাড়াই তা কেনা হয়। আর টেন্ডার বিজ্ঞাপন বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় প্রচার না করে সীমিত প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করা হলেও সিপিটিইউ এর ওয়েবসাইটে তা দেখা যায়নি। পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ তার পছন্দমতো কোম্পানীকে কাজ দেয়ার জন্য কম্পিউটার ক্লোজটারটির কারিগরি স্পেসিফিকেশনসহ দরপত্রের যাবতীয় শর্তাবলী ঐ কোম্পানী কর্তৃক প্রস্তুত করে দরপত্র সিডিউল তৈরি করেন এবং আন্তর্জাতিক দরপত্র আহŸান করেন যাতে অন্য কোন কোম্পানী কমপ্লাই না করতে পারে। এতে ৫টি দরপত্র জমা পড়ে। কিন্তু পরিচালক তার পছন্দের কোম্পানী ‘মেসার্স আদাসা কোম্পানী’ ৫ম সর্বনি¤œ দরদাতা হওয়া সত্বেও এই কোম্পানীকেই নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড (এনওএ) প্রদান করে বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নেন।
সুত্র জানায়, দরপত্র মুল্যায়ন কমিটিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রতিনিধি কর্তৃক উক্ত কাজের জন্য বেশ কয়েকটি পয়েন্টে আপত্তি অর্থাৎ ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিলেও পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ তাহা তোয়াক্কা না করেই মেসার্স আদাসা কোম্পানীকে নোটিফিকেশন অব এরয়াড প্রদান করেন। এতে সরকারের অন্তত ৫ কোটি টাকা অপচয় হয়। ২০১৯ সালের অডিট চলাকালে কম্পিউটার ক্লোজটার ফাইলটিতে অডিট আপত্তি দেয়া হলে অডিট টিমের সাথে সমঝোতা করে ও মন্ত্রনালয়ের প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি করে উক্ত ফইলটি পরিবর্তন করেন। কম্পিউটার ক্লোজটারটি হার্ডওয়ার ও সফটওয়ারের সমন্বয়ে একটি হাই পারফার্মানেন্স সিষ্টেম কম্পিউটার। এটি ঢাকা এয়ারপোর্ট কাস্টমস থেকে ক্লিয়ারেন্স এর সময় সরকারী বিধান মতে কাস্টমস ডিউটি ধার্য থাকে। কিন্তু পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ উক্ত কাস্টমস ডিউটি কমানোর জন্য মিথ্যা প্রত্যায়ন পত্র এটি কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ দেখিয়ে মোটা অংকের কাস্টমস ডিউটি ফাঁকি দিয়ে কম্পিউটার ক্লোজটারটি পার করে আনেন। এতে সরকার বিরাট অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্রে অন্তরালে দুর্নীতির টাকা বিদেশে পাচার করেন। গুণজন শোনা যাচ্ছে উক্ত টাকা দিয়ে তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালামপুরে একটি বাড়ী কিনেছেন। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ তিনি এই অধিদপ্তরের পরিচালক পদে যোগদানের পর থেকেই দুর্নীতি অনিয়মের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে রুপান্তর করেছেন বলে জানা গেছে।

Advertisement

তথ্যসুত্রে আরো জানা গেছে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ রাজস্ব খাতভুক্ত ৫টি গাড়ী নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে স্ত্রী, ছেলেমেয়ে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করে ব্যবহার করে থাকেন। ঢাকা-মেট্রো-খ-১৩-১৮১২ নং রাজস্ব খাতভুক্ত গাড়ীটি তার স্ত্রী ব্যবহার করেন। সুত্র জানায়, সামছুদ্দিন আহমেদের স্ত্রী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৭ম গ্রেডের একজন সহকারী কর্মচারী হিসেবে রাজস্ব খাতভুক্ত এই গাড়ীটি সরকারী খরচেই ছুটির দিন সহ সার্বক্ষনিক ব্যবহার করে থাকেন। অধিদপ্তরের সিসিটিভির ফুটেজ দেখলেই সহজেই প্রমান পাওয়া যাবে। এছাড়া বিশ^ ব্যাংকের লোন প্রকল্পের আওতায় ভাড়ায় আউট সোসিং এর মাধ্যমে সংগৃহীত ২টি গাড়ীর মধ্যে ঢাকা-মেট্রো-চ-৫৬-২৫৯৮ নং গাড়িটি পরিচালকের ছেলে সার্বক্ষনিক ব্যবহার করলে অপর গাড়িটির বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই, কিন্তু এই অবাস্তব গাড়ির জন্য পরিচালক মাসে ৮৫ হাজার টাকা খরচের বাউচার করে টাকাটা নিজের পকেটস্থ করেন।


সুত্র আরো জানায়, বিশ্ব ব্যাংকের লোনের টাকায় ‘বাংলাদেশ আঞ্চলিক আবহাওয়া ও জলবায়ু সেবা প্রকল্পের আওতায় আবহাওয়া তথ্য সেবা ও আগাম সতর্কবানী পদ্ধতি জোড়দারকরন (কম্পোনেন্ট) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অনুমোদিত ডিপিপিতে ১ হাজার জনের ১ সপ্তাহ করে লোকাল প্রশিক্ষনের জন্য ৩ কোটি ৪০ লাখ ৬২ হাজার টাকার বরাদ্দ পায় অধিদপ্তর। ১ হাজার জনের লোকাল প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য পরিচালক নিজের পছন্দ মতো কোন প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই পাকিস্তানী মালিকানাধীন একটি কোম্পানীকে কাজটি পাইয়ে দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। ৩২টি ক্যাটাগরিকে এই প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা থাকলেও শুধুমাত্র ১টি ক্যাটাগরি এমএস ওয়ার্ডের জন্য ৫ দিন ব্যাপি প্রশিক্ষন দিয়ে জন প্রতি ৫ হাজার টাকা খরচ দিয়ে প্রশিক্ষন সমাপ্ত করে জন প্রতি ৩৪ হাজার টাকা প্রশিক্ষন খরচ বাউচার দেখান। তবে অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্থাদের মতে এই প্রশিক্ষন কোন কাজেই আসবে না, কারন প্রশিক্ষণ প্রার্থীরা সবাই আগে থেকেই এবিষয়ে অভিজ্ঞ। শুধুমাত্র প্রশিক্ষনের নামে শো-ডাউন, উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান, সার্টিফিটে বিতরনের নামেই এই প্রকল্পের টাকা গুলো হরিলুট করা হয়েছে। চলবে…।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here