ডালপালা বিস্তার ছাড়াও গাছটির মূল থাকে ১৫ মিটার গভীরে। পানি ও খনিজ লবণ শোষণ ছাড়াও এরা অতিরিক্ত পানি শুষে ডালপালায় জমা রাখে। ফলে যে জায়গায় গাছটি লাগানো হয়, সে স্থানটি হয়ে পড়ে পানিশূন্য ও কমে যায় উর্বরতা শক্তি।
এতে পানির স্তর নিচে নামাসহ অন্য প্রজাতির গাছের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ে। এসব জানার পরও উত্তরাঞ্চলে ইউক্যালিপটাস গাছ লাগানোর হিড়িক পড়েছে। এতে এ অঞ্চল একদিন মরু অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।
জমির আইল, কৃষিজমি ও পতিত জমিতে লাগানো এ গাছ উপকারের পরিবর্তে ক্ষতিই বেশি করে। ইউক্যালিপটাসের পাতা ও ডালপালা জমিতে পড়লে এর পাতা বা ডালগুলো জৈব সারের পরিবর্তে অজৈব/রাসায়নিক পদার্থের মতো কাজ করে কৃষিজমিকে অনুর্বর করে, রাসায়নিক এর মত কাজ করার কারণ এই গাছের ডাল পালা তে দাহ্য জাতীয় উপকরণ বিদ্যমান। ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায়। এত কিছু জানার পরও কেন এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত?
এ বিষয়ে কৃষকরা জানান, অন্যান্য গাছের তুলনায় ইউক্যালিপটাস গাছ দ্রুত বড় হয়। এ কাঠের চাহিদা বেশি, কাঠে ঘুণ ধরে না, দামও বেশি। তাই ইউক্যালিপটাস গাছ রোপণ করেন তারা।
তবে আবাদি জমির আইলে ইউক্যালিপটাস রোপণ করায় দিন দিন ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে, সেটিও স্বীকার করেছেন তারা।
কৃষি অফিসার এবং পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ গাছ প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারাসাম্য রক্ষার পাশাপাশি প্রাণিকুলের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে কার্বন ডাই অক্সাইড,নাইট্রোজেন গ্রহণ করে আর অক্সিজেন সরবরাহ করে সহায়তা করে। কিন্তু ইউক্যালিপটাস তা করলেও রাতে শ্বসন এর সময় এ গাছ বেশি পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণ, ও অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ এবং নাইট্রোজেন নির্গমন করে।
আবাদি জমির আইলে এ গাছ থাকলে ক্ষেতে পোকামাকড় ও রোগবালাই বেড়ে যায়। ইউক্যালিপটাস গাছ জমির উর্বরতা শক্তি কমিয়ে দেওয়াসহ কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে এ গাছ না লাগাতে এবং এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে কৃষকদের নিরৎসাহিত করে যাচ্ছে।
সুতরাং ইউক্যালিপটাস গাছ, রেইন ট্রি এর মত ক্ষতিকারক গাছ না লাগিয়ে ফল গাছ লাগান, বট,পাকুর এর মত ছায়া দেয় এমন গাছও বাড়তে দিন।

