রংপুর প্রতিনিধি: বাহিরে ফিট ফাট, ভিতরে সদর ঘাট। প্রবাদটি নিছকই প্রবাদেই শেষ নয়। আনোরমারী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো: শফিকুল ইসলামকে মেলানো হলে প্রবাদটির সত্যতা স্পষ্ট। একজন অধ্যক্ষের বাহিরের চেহারায় যা যা থাকা দরকার মো: শফিকুল ইসলামের মধ্যে তার প্রায় সবই আছে। নেই শুধু কর্মকান্ডে। পবিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যখন সু-শিক্ষা নিশ্চিত করা, মহানুভবতার আদর্শের শিক্ষাকে দৃশ্যমান করা, শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে শিখানো হয় তখন অধ্যক্ষ মো: শফিকুল ইসলাম নিজেই উপস্থিত থেকে অন্যের জমিকে কলেজের জমি দাবি করে দোকান ঘর লুট-পাট ও ভাংচুর কিভাবে চালাতে পারেন? একজন শিক্ষকের এ ধরনের উগ্র মনোভাব কতটুকু সমীচিন? বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিম ষ্টোরের মালিক মো: চান মিয়া অপরাধ বিচিত্রাকে বলেন, আমার জমিতে আমার দোকান ঘর।
অধ্যক্ষ মো: শফিকুল ইসলাম কোন অধিকারে দখল করতে এসে সব মালামাল লুট-পাট করে দোকান ঘর ভাংচুর করে দিয়ে গেল। আমার এতবড় ক্ষতি কিভাবে পূরণ করবো! অপরাধ বিচিত্রার প্রশ্নের উত্তরে চান মিয়া আরও বলেন, আমার লুট করা মালামালের মধ্যে (১) ষ্টার শিপ পাউডার ১ কেজি প্যাকেট ২ কার্টুন, (২) ষ্টারশিপ পাউডার ৪০০ গ্রাম প্যাকেট ১৫ কার্টুন, (৩) ষ্টারশিপ কনডেন্স মিল্ক ২ কার্টুন সহ মোট মালামালের মূল্য ৮০,০০০ হাজারের বেশি।
এছাড়া দোকান পাট ভাংচুর করে আরও অনেক ক্ষতি করা হয়েছে যা অধ্যক্ষ উপস্তিত থেকে সকাল ৭.০০টার আগে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে করিয়েছেন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী মো: বাচ্চা মিয়া অপরাধ বিচিত্রাকে বলেন, এখন শীত পড়ায় এতো সকাল বেলায় বাজার প্রায় সম্পুর্ন ফাঁকা ছিল। এই সুযোগে পরিকল্পিত ভাবে অধ্যক্ষ সদল-বলে এসে যা করলো তা কখনো কল্পনাও করা যায় না।
তার দল-বল সসস্ত্রভাবে যে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল তা বুঝতে পেরে আমরা যারা এখানে আস্তে আস্তে উপস্থিত হচ্ছিলাম ভয়ে তা মোকাবেলা না করে নিরাপদ দূরত্বে থেকে দেখে গেছি। অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী মো: আসাদুল হক অপরাধ বিচিত্রাকে বলেন, এতোদিন অধ্যক্ষ মো: শফিকুল ইসলামের শুধু দম্ভ দেখেছি আজ দেখলাম তার আসল এবং ভয়ঙ্কর রুপ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রত্যক্ষদর্শী অপরাধ বিচিত্রাকে বলেন, কলেজের সামনের দিকের দোকান ঘর গুলো থেকে গড়ে প্রায় ৫০,০০০হাজার করে টাকা জামানত এবং প্রতি দোকানের ভাড়া হিসাবে রশিদে উল্লেখিত ৩০০ টাকা হলেও বাস্তবে ৫০০ থেকে ১০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত দোকান ভাড়ার সমুদয় টাকা অধ্যক্ষের পকেটে যায়।

