আটকা ২১ হাজার কোটি টাকা

0
640

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের শর্ত পরিপালন করতে গিয়ে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ে চাপের মুখে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে ভ্যাট ও কর আদায়ে মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে আনতে এনবিআরকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ বিভাগ। আবার হয়রানি ঠেকাতে কিংবা ভ্যাট ও কর কম দিতে বিভিন্ন সময় মামলা করে আটকে দেওয়া হচ্ছে ভ্যাট ও কর আদায় প্রক্রিয়া। 

Advertisement

অর্থ বিভাগের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো শীর্ষক এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এনবিআরের বিরুদ্ধে ১০ হাজার ১৩৫টি মামলা দায়ের করেছে। এতে ভ্যাট বাবদ আটকা পড়েছে ২১ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, এসব মামলার মধ্যে হাই কোর্ট বিভাগে ৩ হাজার ৩৭৮ মামলায় আটকা পড়েছে ১৪ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। একইভাবে আপিল বিভাগে ২৫৫ মামলায় আটকা পড়েছে ১ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। আপিল ট্রাইব্যুনালে ৩১৯ মামলায় আটকে আছে ৮৬৫ কোটি টাকা। আপিল কমিশনারেটে ১৩ মামলায় ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, ৪ হাজার সার্টিফিকেট মামলায় ২৬৮ কোটি টাকা এবং অন্যান্য ২ হাজার ১৭০ মামলায় ৩ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা আটকা পড়ে আছে। এই টাকা আদায়ে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি ও আটকে থাকা এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ে এনবিআরকে তাগিদ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। এদিকে গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরে এ ধরনের মামলার সংখ্যা কমানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে-ভোক্তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভ্যাটের অর্থ আদায় করেও এনবিআরে জমা না দিয়ে উল্টো মামলা করে তা আটকে দেওয়া হয়েছে। অথচ এসব ভ্যাট মামলা পরিচালনায় খুব একটা তৎপরতাও নেই এনবিআরের। এ জন্য মামলাগুলো নিষ্পত্তি করে দ্রুত বকেয়া আদায়ের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে মামলা  দায়েরের সংখ্যা কীভাবে কমানো যায় সেক্ষেত্রেও যত্নশীল হতে বলা হয়েছে এনবিআরকে।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগ ও এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, আমরা ভ্যাটদাতাদের বুঝিয়ে সচেতন করে তা আদায়ের চেষ্টা করি। আবার যারা ভ্যাট ফাঁকি দেয় তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে। এদিকে ভ্যাটদাতা ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করে, তাদের কাছে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভ্যাট চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তা পরিশোধ করতে গেলে আবার নানারকম হয়রানির মুখে পড়তে হয়। এ জন্য তারা মামলা করে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। অন্যদিকে চলতি নতুন ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভ্যাট কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়িয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ভ্যাটের কোনো নথি যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের জন্য আর্থিক মূল্যের সীমা বাড়ানো হয়েছে। চলতি বাজেটে ছোট ছোট পদবির ভ্যাট কর্মকর্তাদের এ ধরনের ক্ষমতা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। এতে কর আদায় আরও সহজ হবে এবং কর আদায়ের পরিমাণও বাড়বে বলে মনে করে অর্থ বিভাগ।

নতুন অর্থবছরে প্রতি বছরের মতো এনবিআরকে রাজস্ব আহরণের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। যদিও অর্থবছর শেষে তা আহরণ করা সম্ভব হয় না। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এনবিআরের। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায়ের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের ধারা অক্ষুণ্ন রাখাটা চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছে এনবিআর। এবারও রাজস্ব লক্ষ্য আদায়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে এনবিআরকে। এ ছাড়া আইএমএফের শর্ত পরিপালনে কর আদায়ের পরিমাণও বাড়াতে হবে। অন্যথায় ঋণের কিস্তি আটকে দিতে পারে আইএমএফ।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here