আইনটি পাস হলে মাদকের গডফাদার ও রাঘব বোয়ালদের বিচারের আওতায় আনা সহজ হবে

0
443

ইথিওপিয়া ও নাইজেরিয়া থেকে গ্রিন টির নামে আমদানি হওয়া নতুন মাদক নিও সাইকোঅ্যাক্টিভ সাবটেন্স (এনপিএস) বা খাতকে নিষিদ্ধের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে শিগগির এটি আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা হবে।

Advertisement

ইতিমধ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন আইনটি পাস হলে মাদকের গডফাদার ও রাঘব বোয়ালদের বিচারের আওতায় আনা সহজ হবে। গতকাল বুধবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক (ডিজি) মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। সকাল ১১টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিএনসির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক অধিদপ্তরের সাম্প্রতি অভিযান ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসি পরিচালক (অপারেশন্স ও গোয়েন্দা) এ এফ এম মাসুম রব্বানী, অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম শিকদার, সহকারী পরিচালক (ঢাকা মেট্রো-উত্তর) খোরশিদ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইন করে খাতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশে খাত ছড়িয়ে পড়ার আগে সেটি চিহ্নিত করে আমদানি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ডিএনসি। ইতিমধ্যে খাত আমদানি-রপ্তানিতে ২০-২২ জনের একটি চেইন শনাক্ত করা হয়েছে। কোনোমতেই এই ভয়ানক মাদককে ছড়িয়ে পড়তে দেওয়া হবে না। মহাপরিচালক জানান, অভিযানের সময় তাত্ক্ষণিক বিচারকার্য পরিচালনার জন্য দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পেয়েছে অধিদপ্তর। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁরা কাজ শুরু করবেন। ম্যাজিস্ট্রেটরা গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে নিজের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে কাজ করলে ডিএনসির কাজে গতি আসবে। ইতিমধ্যে মাদকের মেইন রুট টেকনাফে স্পেশাল টাস্কফোর্স নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারিদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে। সেখানে উপপরিচালকের পদ সৃষ্টি করে বিশেষ জোন স্থাপনের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সুপারিশও করেছে। একই সঙ্গে চার হাজার ৪০ জন জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সুপারিশ করেছে। প্রস্তাবিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮-এর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, ‘আমরা যেসব মাদকের তালিকা দিয়েছিলাম, নতুন আইনে সেগুলোই থাকছে। কোনোটি পরিবর্তন করা হয়নি। নতুন আইনটি পাস হলে আমরা খুব সহজেই মাদকের গডফাদার, রাঘব বোয়ালদের বিচারের আওতায় আনতে পারব।’ মাদকসেবীদের চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনটি বিভাগীয় নিরাময়কেন্দ্রের শয্যাসংখ্যা পাঁচ থেকে ২৫-এ উন্নীত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত এক বছরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি নিরাময়কেন্দ্রের সংখ্যা ১৮২টি থেকে ২৬৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি একজন চিকিৎসক যাতে ৩০ জন মাদকসেবীকে সেবা দিতে পারেন সে জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, ডিএনসি সদর দপ্তরের জন্য সেগুনবাগিচায় বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে। এ মাসেই প্রধানমন্ত্রীর সেটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। অভিযান সম্পর্কে তথ্য : ডিএনসি মহাপরিচালক জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাদকবিরোধী ৩০ হাজার ৮৯৭টি অভিযান চালানো হয়। এতে ৯ হাজার ৩৩৪ জনকে গ্রেপ্তার এবং আট হাজার ৪০৬টি মামলা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে পক্ষকালব্যাপী মাদকবিরোধী ক্র্যাশ প্রগ্রামে দুই হাজার ৪৭৮টি অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৬০৩ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৫৫৯টি মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ডিএনসির এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সব সংস্থার সমন্বয়ে ২০১১ সালে ১০ লাখ ৭৭ হাজার ৩০১ পিস, ২০১২ সালে ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৫ পিস, ২০১৩ সালে ২৮ লাখ ২১ হাজার ৫২৮ পিস, ২০১৪ সালে ৬৫ লাখ ১২ হাজার ৮৬৯ পিস, ২০১৫ সালে দুই কোটি এক লাখ ৭৭ হাজার ৫৮১ পিস, ২০১৬ সালে দুই কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ১৭৮ পিস, ২০১৭ সালে চার কোটি ৭৯ হাজার ৪৪৩ পিস এবং ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত চার কোটি ৭৩ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের এ ভয়াবহতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিএনসি পরিচালক (অপারেশন্স ও গোয়েন্দা) এ এফ এম মাসুম রব্বানী বলেন, মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কক্সবাজারের টেকনাফে ২৭ সদস্যের একটি ইউনিট কাজ করছে। সিলেটেও বিশেষ ইউনিট মোতায়েন করা হবে। মাদক কারবারিদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here