আইএস যৌনদাসীর লোমহর্ষক বর্ণনা ছয় মাসে প্রতিদিন সে আমাকে ধর্ষণ করেছে

0
1578

২০১৪ সালে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের সংখ্যালঘু কুর্দি ইয়াজিদিদের ওপর শুরু হয় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের তাণ্ডব। আইএস জঙ্গিরা নির্বিচারে ইয়াজিদি পুরুষদের হত্যা করতে থাকে। আর নারী ও শিশুদের অপহরণ করে তাদেরকে যৌনদাসী বানাত। তাদেরই একজন কিশোরী ইকলাস। ইয়াজিদি ওই কিশোরের বয়স ছিল ১৪ বছর। অন্যদের মতো ইকলাসকেও যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করে আইএস জঙ্গিরা। তারপর কিশোরী ইকলাসের জীবনে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। টানা ছয় মাস ধরে তার ওপর যৌন নির্যাতন চলে। ভাগ্যের জোরে এক পর্যায়ে আইএসের বন্দিশালা থেকে পালাতে সক্ষম হয় ইকলাস।

Advertisement

আইএসের হাতে জিম্মি থাকাকালে ইকলাসের ওপর যে যৌন নির্যাতন চলে, সম্প্রতি বিবিসিকে তার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। ধরা পড়ার পর নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ইকলাস জানান, ১৫০ জন নারী-কিশোরীর মধ্য থেকে তাকে বেছে নেয় আইএসের এক যোদ্ধা। ইকলাস বলেন, ‘আইএসের ওই জঙ্গি খুবই কুৎসিত ছিল। অনেকটা জানোয়ারের মতো। তার মাথায় লম্বা চুল ছিল। শরীর থেকে বিকট দুর্গন্ধ আসছিল। আমি ভয়ে কুঁকড়ে যাই। আমি তার দিকে তাকাতেই পারছিলাম না।’

ইকলাসকে ছয় মাস ধরে যৌনদাসী করে রেখেছিল আইএসের ওই জঙ্গি। ইকলাস বলেন, ‘ছয় মাস ধরে প্রতিদিন সে আমাকে ধর্ষণ করেছে।’ বন্দি অবস্থায় আইএস যোদ্ধার চালানো যৌন নির্যাতনের মুখে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন ইকলাস। তিনি বলেন, ‘নিজেকে শেষ করে দেয়ার চেষ্টা করেছি।’ আত্মহত্যা করতে ব্যর্থ হলেও এক পর্যায়ে আইএসের বন্দিশিবির থেকে পালাতে সক্ষম হন ইকলাস। তিনি বলেন, আইএসের ওই জঙ্গি যুদ্ধ করতে বাইরে যায়। এ সুযোগে তিনি পালিয়ে যান।

আইএসের বন্দিশালা থেকে পালানোর পর একটি শরণার্থী শিবিরে ইকলাসের ঠাঁই হয়। এখন তিনি জার্মানির একটি মানসিক হাসপাতালে আছেন। সেখানে ইকলাস থেরাপি নেয়ার পাশাপাশি লেখাপড়াও শিখছেন। আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন তার। আইএসের নির্যাতনের বিবরণ দেয়ার সময় ইকলাসের চোখে-মুখে ভয়ের ছাপ ফুটে ওঠে। যেন এখনও সেই পুরনো স্মৃতিগুলো তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু তার চোখে পানি ছিল না। ইকলাস বলেন, ‘আমার চোখের পানি শেষ হয়ে গেছে।’

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here