বিশেষ প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুর চররমনীর মার্ডার মামলার আসামীরা জামিনে এসে নানা অপরাধে জড়িত। এর সাথে জনপ্রতিনিধিসহ তাদের বাহিনীর সদস্যরাও যুক্ত রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর ও ভোলার সীমানাবর্তী এলাকাজুড়ে রয়েছে চর রমণী মোহন ইউনিয়নের বর্ডার এলাকা। মেঘনা নদী থেকে কয়েক হাজার একর খাস জমি জেগে উঠছে এ ইউনিয়নে। নদী ভাঙ্গনের ফলে অসহায় মানুষরা বসতভিটা ও ফসলী জমি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে জেগে ওঠা চরে ১৫-২০ বছর ধরে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।
অস্ত্র ঠেকিয়ে জমি দখল, সন্ত্রাসী, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, গরু-মহিষ চুরিসহ নানাবিধ কর্মকান্ড করেছে অপরাধীরা। এসবের নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্ডার মামলার আসামী কামরুল সরকার, হারুন মোল্লা, সাবেক মহিলা মেম্বারের ছেলে ইলিয়াস মীর ও সেলিম মীর। এদের ভয়ে আসহায় কৃষকরা নিরবে নিভৃত্বে দিন কাটাচ্ছে।
কেউ আইনের আশ্রয়ে গেলেও তাদের অর্থ ও প্রভাবের কাছে হার মানতে হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিত্বের আড়ালে কামরুল সরকার নিজের অফিস ও বাড়ীতে বসে অপরাধের গোপন চক আঁকেন। তার সহযোগী হারুন মোল্লা, ইলিয়াস মীর, সেলিম মীর।
তাদের আছে অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত ৪০/৫০ জনের একটি বাহিনী আছে। এ বাহিনীর সাথে যুক্ত আছে ইলিয়াসমীরের ভাই আনাস মীর, পুলিশের সোর্স পরিচয়ে আজিজ মীরের ছেলে সেলিম মীরসহ তার ভাই বাবলু মীর, মুকবুল মোল্লার ছেলে জাহাঙ্গীর মোল্লা, আলমগীর মোল্লা ও সফি মোল্লা, রেজ্জাক কাজীর ছেলে ভুট্টুকাজী, মুনাফ মীরের ছেলে ইয়ার আলী মীর সহ ইমান হোসেন সরকারের পরিবারের সদস্যরা।
এরা চর দখল, রাতের আধাঁরে নিরীহ মানুষের গরু-মহিষ চুরি, ডাকাতি, ইয়াবা কারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড চালায়। কেউ প্রতিবাদ করলে হত্যা, লুটপাট চালাই এ বাহিনী। এদের বিরুদ্ধে রয়েছে লক্ষ্মীপুর-ভোলা জেলায় হত্যাসহ একাধিক মামলা।
ভোলা জেলার সদর থানার রাজাপুর ইউনিয়নের মোসলেম চকিদারকে জবাই করে হত্যার দায়ে তার পুত্র কামাল হোসেন বাদী হয়ে ০৩/১১/২০১৩ইং তারিখে কামরুল সরকার ও হারুন মোল্লাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ভোলা থানা মামলা নং-৩/১৩। নামে বেনামে ভূয়া খতিয়ান খুলে চরমেঘা মৌজায় প্রায় হাজারো একর খাস জমি দখলে রেখেছে এ হত্যা মামলার আসামী ভূমিদস্যু কামরুল সরকার, তার বাবা ইমাম হোসেন সরকার, ভাই শাহজালাল সরকার, সুমন সরকার, রাজিব সরকার সহ পরিবারের অপর সদস্যরা।
একইভাবে প্রায় শত একর খাস জমি দখলে আছে ওই হত্যা মামলার আরেক আসামী ভূমিদস্যু হারুন মোল্লা। মা সাবেক মহিলা মেম্বার এ প্রভাব বিস্তার করে খাস জমি দখলে লিপ্ত আছে আরেক ভূমিদস্যু ইলিয়াসমীর। এসব ভূমিদস্যুুরা খাস জমি দখল করতে গিয়ে গঠন করছে একটি বাহিনী।
অস্ত্র-সস্ত্র সজ্জিত হয়ে দূর্গম চরে বছরে ৩টি মৌসুমে এ বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি হয়। “যখন ধান ও সয়াবিন পাকে তখন তারা বাহিনী নিয়ে কৃষকের রোপা উৎপাদিত ফসল কেটে আনে”। “ফসল যখন উঠে যায় তখন কৃষকের দখলীয় জমিনে ট্যাক্টারে চাষ দিয়ে নিজেদের দখলে এনে চাষাবাদ করে”।
এর পর বছর জুড়ে এ বাহিনী রাতের আধাঁরে নিরীহ মানুষের গরু-মহিষ চুরি, ডাকাতি, ইয়াবা কারবারিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যায়। থানায় মামলা দিলেও কোন সুফল পায়না ভূক্তভোগীরা। তদন্তের নামে চলে পুলিশের গলাকাটা বাণিজ্য।
বাহিনীর অবৈধ অর্থ ও প্রভাবের কাছে হেরে গিয়ে উল্টো হামলা-মামলার শিকার হতে হয় মামলার বাদীপকে। এ জন্য অপরাধ সংঘঠিত হলেও অসহায় ভূক্তভোগীরা থানায় না গিয়ে নিরবে নিভৃত্বে বিধাতার নিকট বিচারের ভার ছেড়ে দেয়।
চররমনীর মোহন ইউনিয়নের পুলিশের সোর্স পরিচয়ে সেলিম মীর। তিনিসহ তার ভাই বাবলু মীর এলাকার পাড়ায়-মহল্লায় নিরীহ পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের উপযুক্ত সন্তানদেরকে গরু চুরি, ইয়াবা বহনকারী সহ বিভিন্ন অপরাধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে টাকা দাবী করে। নচেৎ পুলিশে ধরিয়ে দিবে।
তিনি লক্ষ্মীপুর সদর থানার এস. আই কামাল উদ্দীনের সোর্স হিসেবে কাজ করছে বলে জানাযায়। তার ভাই বাবলু মীর সম্প্রতি প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে প্রতিপকে আক্রমণ করতে স্থানীয় করাতির হাট বাজারে বিভিন্ন সময় ঘুরাফেরা করছে। তার অস্ত্রহাতে ওই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগে ভাইরল হয়।
মোহন হাওলাদার জানান, গত ১০ মার্চ’২৪, পুলিশের সোর্স সেলিম মীর আমার ছেলে সুমন হাওলাদারকে আটক করে তাকে ইয়াবাবহনকারীর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার কাছ থেকে বিশ হাজার টাকা দাবী করে।
হয়রানি থেকে মুক্তিপেতে বিশ হাজার টাকা দিলেও রেহাই পায়নি। লক্ষ্মীপুর থানার কামাল দারোগাকে খবর দিয়ে এনে সুমনকে সোপর্দ করে। পরে গরু চুরির জি.আর ৪৭ মামলার অজ্ঞাতনামা আসামীর কলামে লিপিবদ্ধ করে সুমনকে চালান দেয়।
পরে আমি কামাল দারোগা ও সেলিম মীরের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ দেই এবং সেলিম মীর সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করি। চররমনীর ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোয়াদ গাজির ছেলে মনুমিয়া গাজী জানান, তার নিকট থেকে ইলিয়াস মীর বাকীতে সয়াবিন ক্রয় করে পরে ওই টাকা চাইলে ইলিয়াসমীর নানা তালবাহনা করে টাকা ফেরত না দিয়ে পকেটে কয়েকটি ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয় মনুমিয়াকে। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যন আবু ইউসুফ সৈয়াল বিষয়টি মিথ্যা প্রমান করে মনুমিয়া গাজীকে নিজ জিম্মায় জামিনে আনে। কাজল হাওলাদার জানান, আমার বসত ঘরের এক কোণ মেঘনার শাখা নদীতে ভেঙ্গে পড়েছে কিন্তু পাশে আমার দখলীয় জমি আছে। কামরুল সরকার গংরা আমাকে ওই জমিতে ঘর করতে দেয়না।
পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ করলে তিনি ঘর করার অনুমতি দেন। চেয়ারম্যন আবু ইউসুফ সৈয়াল উপস্থিতিতে আমি ঘরের কাজ সম্পন্ন করি। এরপরও আমাকে উচ্ছেদের জন্য মারধর করতে আসে নানা হুমকি দিলে আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহজাহান ছৈয়াল জানান, হারুন মোল্লার ভাই সফি মোল্লার বাড়ীর পাশে আমার বর্গাদারের গোয়াল ঘর থেকে চুরি হওয়া একটি গরুর চামড়া গর্তে পাওয়া যায়। থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে চামড়াটি উদ্ধার করেছে। এ ব্যপারে সফিক মোল্লাকে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ করা হয়।

