নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
“আমি মান্ডায় ২০-৩০ জনকে জমি কিনে দিয়েছি। তাদের বেশিরভাগই দেশের বাইরে থাকেন। কেউ কেউ থাকেন ঢাকার বাইরে। আমি এই এলাকার সন্তান। তাই তাদের জমি দেখা-শোনার দায়িত্ব আমার ওপর। তাদের জমির ওপর আমি শাপলা সিটির কয়েকটি সাইনবোর্ড লাগিয়েছি। প্রতিটি সাইনবোর্ডের বিপরীতে আমি মাসোয়ারা পাই। শাপলা সিটির কর্মী (দালাল) হিসেবে মাসে বেতন পাই সাত হাজার টাকা। তাছাড়া জরুরি প্রয়োজনে যা দরকার হয় তা আমি শাপলা সিটির মতিঝিলের অফিস থেকে নিয়ে আসি।” এসব সহজ-সরল স্বীকারোক্তি আবাসন কো¤পানি শাপলা সিটি লিমিটেডের কর্মী ঠান্ডু মিয়ার। কেবল ঠান্ডু মিয়া একা নন। এরকম ১০-১৫ জন দালাল রয়েছে শাপলা সিটি লিমিটেডের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্লট ব্যবসায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)-এর কোনো অনুমতি নেয়নি এই প্রতিষ্ঠানটি। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদনও নেই এই প্রতিষ্ঠানটির। এমনকি আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর সদস্য নয় শাপলা সিটি লিমিটেড। এখনো জমি কেনার খবর নেই। অন্যের জমিতে সাইনবোর্ড দিয়েই বুকিং নিচ্ছে ফ্ল্যাট বিক্রির। আর এতে ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। সরেজমিন অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জানা যায়, রাজনৈতিক দলের বেশিরভাগ স্থানীয় নেতা শাপলা সিটির পক্ষে। মাসোয়ারা পাচ্ছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করেই রাজধানীর মুগদা থানার অন্তর্গত মান্ডা ইউনিয়নে মান্ডা আইডিয়াল সিটি নামে প্রতারণায় নেমেছে শাপলা সিটি লিমিটেড। আর এই ম্যানেজ কাজে শাপলা সিটির প্রতি মাসে ব্যয় হচ্ছে প্রায় আট লাখ টাকা। অন্যদিকে এই প্রতারক কো¤পানিটি হাতিয়ে নিচ্ছে মানুষের কোটি কোটি টাকা। পানিতে নিমজ্জিত জমিতে ১২ লাখ টাকা পাঁচ বছরে বিনিয়োগ করে ৫০ লাখ টাকার ফ্ল্যাট-এমন আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে প্রতারণা। অথচ ওই প্রকল্পে আড়াই বছরে তারা জমি কিনেছে মাত্র আড়াই কাঠা। সামান্য বায়নাপত্র করেই সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া হয়েছে অনেকের জমিতে। সরকারি খাস জমিতেও দেয়া হয়েছে শাপলা সিটির সাইনবোর্ড। ব্যক্তি মালিকানাধীন অনেকের জমির নিজস্ব সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলেছে দখলদাররা। যারা এর প্রতিবাদ করছেন তাদের দেখানো হচ্ছে ভয়-ভীতি ও হুমকি। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেক জমির প্রকৃত মালিক। শাপলা সিটির দখলদারিত্ব প্রতিরোধে জমির প্রকৃত মালিকরা (২০৯ জন) মিলে নীলপদ্মা প্লট মালিক সমিতি নামে একটি সমিতি গঠন করেছেন। এতেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। সমিতির নেতাদের দেয়া হচ্ছে হত্যার হুমকি। দায়ের করা হচ্ছে মামলা। জানতে চাইলে মুগদা থানার পুলিশের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডেভেলপার কো¤পানিগুলোর শুরু এভাবেই হয়। কেউ সফল হয়, কেউ হয় না। পুলিশের আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বড় বড় হাউজিং কো¤পানিগুলো এভাবেই শুরু করেছিল। যে জমিতে শাপলা সিটি সাইনবোর্ড বসিয়েছে সেখানে এর আগে আরো দুইটি কো¤পানি এসেছিল। তারা সফল হতে পারেনি। দেখা যাক, শাপলা সিটি সফল হতে পারে কি-না। তারা সফল হতে পারলে বুঝা যাবে, তাদের ক্ষমতার দৌড় অনেক। না হলে তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। অন্যের জমিতে সাইন বোর্ড লাগিয়ে প্লট বা ফ্ল্যাট বুকিং নেয়া কি প্রতারণা নয়-জানতে চাইলে কো¤পানিটির দালাল ঠান্ডু মিয়া বলেন, “যাদের জমিতে সাইন বোর্ড লাগানো হয়েছে তারা অনেকই বিষয়টি অবগত। আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করেছি- আপনাদের জমিতে কেউ সাইনবোর্ড লাগালে বা জমিতে মাটি ভরাট করলেও জমি তাদের হবে না। জমি আপনাদেরই থাকবে। কারণ জমির মূল কাগজপত্র তো আপনাদের হাতেই।” তিনি আরো বলেন, জমির মূল মালিকরা সাইনবোর্ড উঠিয়ে দিতে বললে আমি সেসব উঠিয়ে দেব। ঠান্ডু মিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয় মান্ডা আইডিয়াল প্রকল্পে প্রকৃত অর্থে শাপলা সিটির জমির পরিমাণ কত। তিনি জানান, রেজিস্ট্রিকৃত আড়াই কাঠা ছাড়াও ২০-৩০ বিঘা জমিতে বায়না করা হয়েছে। বায়নার অংক কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে জমির দাম এক কোটি টাকা তাকে হয়তো ১০ লাখ, আবার যে জমির দাম ৫০ লাখ টাকা তাকে হয়তো পাঁচ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার মধ্যস্থতায় কয়েকজনের জমি শাপলা সিটিতে বিক্রি করা হয়েছে। যারা আমার মাধ্যমে জমি বিক্রি করেছেন তারা এখন পর্যন্ত ১০-১৫ লাখ টাকা পেয়েছে। আরো প্রায় ৮০ লাখ টাকা পাবেন। এ টাকাগুলো উদ্ধার করতে পারলে আমি আর শাপলা সিটির সঙ্গে থাকবো না বলে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” নীলপদ্মা প্লট মালিক সমিতির সাংগঠনিক স¤পাদক আনোয়ার হোসেন জানান, যেসব জমিতে পারিবারিক কোন্দল রয়েছে সেসব জমিতে নামমাত্র বায়না করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে শাপলা সিটি। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সাইনবোর্ড দেয়া হয়েছে যুবলীগ নেতা সেলিমের জমিতে। শাপলা সিটি জোরপূর্বক আজমেরী বেগম গংদের জমির ওপর সাইনবোর্ড দিয়েছে। আনোয়ার হোসেন বলেন, “মান্ডা মৌজায় আমার দুই কাঠা জমি আছে। জোর করে আমার দেয়া সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে শাপলা সিটির ডিএমডি নজরুল ইসলাম আমকে বলেছেন তুমি এখান থেকে সরে যাও। না হলে তোমাকে মেরে ফেলা হবে। আমার বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানায় দেয়া হয়েছে অপহরণ মামলা। শাপলা সিটির ক্ষতি সাধন ও কো¤পানির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে মুগদা থানায় একাধিক জিডি করা হচ্ছে। আমাকে গুম ও অপহরণের পেন্ডিং মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হচ্ছে তাদের দালালদের মাধ্যমে। আমি তাদের বিরুদ্ধে একাধিক জিডি করলেও এসবের তদন্ত হয় না।” তিনি আরো জানান, মূল মালিকরা যাতে জমিতে আসতে না পারে সেজন্যে প্রকল্প এলাকায় সন্ত্রাসীদের দিয়ে শোডাউন করানো হয়। স্থানীয় শাহাবুদ্দিন জানান, “আমি আমার আটকাঠা জমির পর সাইনবোর্ড দিয়েছিলাম। তারা ওই সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেছে। আমার নামে মাদক ও নারী নির্যাতনে মামলা দেয়া হয়েছে (উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার পরদিনই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে)। স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ জানান, মান্ডা ও দক্ষিণগাঁও মৌজায় ২০০ বিঘার বেশি জমি আছে। জমির মালিক প্রায় ৫০০ জন ব্যক্তি। যাদের জমি আছে তাদের অনেকেই এখানে আসেন না। কেউ কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন। তাদের জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন শাপলা সিটি কর্তৃপক্ষ। ৫০-৬০টি সাইনবোর্ড বসিয়েছিল। নীলপদ্মা প্লট মালিক সমিতির ভূমিকার কারণে তাদের আনেক সাইনবোর্ড সরাতে হয়েছে। এখন সাইনবোর্ডের সংখ্যা ১৭-১৮টি। ওয়াসার জমিতে দেয়া হয়েছে ৬-৭টি সাইনবোর্ড। তিনি আরো জানান, শাপলা সিটির সাইনবোর্ড দেয়া হয়েছে স্থানীয় মোহাম্মদ আলী, ইউসুফ মিয়া, আবদুর রহমান, আবুল কাশেম এবং ওয়ালিউল্লাহসহ কয়েকজনের জমিতে। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, মান্ডা ও দক্ষিণগাঁও মৌজার জমিকে ঘিরে প্রতারণা চালাতে এলাকার দালালচক্র প্রথমে (তিন-চার বছর আগে) এই এলাকায় আনে ইমাম গ্রুপকে। জমির মালিকদের কঠোর ভূমিকার কারণে ইমাম গ্রুপ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। পরে আনা হয় ওয়ালটন গ্রুপকে। তাদের সাইনবোর্ড দেখে জমির মালিকরা ওয়ালটনের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়ে দেয়-সেখানে ওয়ালটনের কোনো জমি নেই। পরে ওয়ালটনের সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়। দুই দফা ব্যর্থ হয়ে দালাল চক্র শাপলা সিটিকে এখানে আনে। স্থানীয় আওয়ামী লীগও যুবগীগ নেতারা তাদের শেল্টার দেন। দালাল চক্রের শেল্টারদাতাদের মধ্যে আছেন নজরুল ইসলাম, জুল হোসেন ওরফে জুলহাস, আয়াত আলী, শাহজাহান, আলমাস হোসেন হায়াতউল্লাহ প্রমুখ। স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন জানান, স্বপ্নের বাড়ি বানাতে সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে আমি ও আমার এক নিকট আত্মীয় মিলে চার বছর আগে মান্ডা মৌজায় পাঁচ কাঠা জমি কিনেছি। দখলদারদের কারণে এখন আমি জমি হারা হওয়ার আশঙ্কায় আছি। সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু ঘটতে যাচ্ছে আমার সারা জীবনের স্বপ্নের। তিনি জানান, শাপলা সিটির পরিচালক জুলহাস ওরফে জুলু হোসেনের নেতৃত্বে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিরীহদের জমি দখল করা হচ্ছে। এলাকায় জুলহাস একজন সন্ত্রাসী হিসেবেই পরিচিত। ২০০৮ সালে অস্ত্রসহ ধরা পড়েছিলেন তিনি। দেলোয়ার হোসেন জানান, নিজেদের জমিতে যাতায়াতের জন্য স্থানীয়ভাবে একটি সাঁকো তৈরি করা হলেও জুলুর লোকজন তা ভেঙে দিয়েছে। এ নিয়ে মুগদা থানায় একটি জিডি করা হয়। জিডি নম্বর ৬৯৬(১)১৪। শাপলা সিটির সাইট ম্যানেজার আলমাস আলী জানান, স্থানীয় যুবলীগ নেতা আখতার হোসেন কো¤পানিকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন। আনোয়ার নিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা। তারা আরো টাকা দাবি করছেন। কো¤পানি এতে রাজি না হওয়ায় তারা কো¤পানির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। নীলপদ্মা প্লট মালিক সমিতির সভাপতি ও মান্ডা ইউনিয়ন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, এখানে রাতের আঁধারে অপরের জমিতে সাইনবোর্ড দেয় প্রতারক কো¤পানি শাপলা সিটি লিমিটেড। শাপলা সিটির কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক কিছু না জেনেই আমি জমি বিক্রি করতে তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা বায়না নিয়েছিলাম। জমির দাম ৮০ লাখ টাকা। বায়না নেয়ার সময় বলেছিলাম তিন মাসের মধ্যে আসাকে পুরো টাকা পরিশোধ করতে হবে। না হলে বায়নার টাকা বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে। কিন্তু তারা এক বছরেও আর কোনো টাকা দিতে পারেনি। তিনি জানান, আমি ছাড়া স্থানীয় প্রায় সব আওয়ামী লীগ নেতাই শাপলা সিটির কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে। একই ধরনের তথ্য জানিয়ে স্থানীয় জমির মালিক ফজলুর রহমান বলেন, অজ্ঞাত কারণে থানা পুলিশ আমাদের সহযোগিতা না করে দখলদারদের সহযোগিতা করছে। আর মাসে ৫০ হাজার টাকা মাসোয়ারার বিনিময়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান আলমাস হোসেন শাপলা সিটিকে জমি দখলে সহায়তা করছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মান্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমাস হোসেন বলেন, “হাউজিং কো¤পানিগুলো এভাবেই বড় হয়। এর চেয়ে বেশিকিছু বলতে চাচ্ছি না।” ওয়াসার জমিতে শাপলা সিটির সাইনবোর্ড স¤পর্কে জানতে ওয়াসার ফকিরাপুল অফিসে যাওয়া হলে, একজন কর্মকর্তা জানান-“এমডি মহোদয়ের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারবো না।” ওয়াসার এমডি ইঞ্জিনিয়ার তাসকিন এ খান বলেন, “এ বিষয়ে আমি এখনো কিছুই জানি না। বিষয়টি যেহেতু আপনার কাছ থেকে জানলাম, তাহলে খোঁজ নিয়ে দেখবো। তবে এতটুকু বলতে পারি-ওয়াসার একবিন্দু জমিও কোনো দখলদারকে দেয়া হবে না।” রিহ্যাবের ইঞ্জিনিয়ার সরদার আমীন জানান, “শাপলা সিটি আমাদের কোনো সদস্য নয়। তাই তাদের বিষয়ে আমাদের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই।” রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, “মান্ডা আইডিয়াল সিটি বা শাপলা সিটি লিমিটেড রাজউকের নিবন্ধনকৃত নয়।” রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “টিভি এবং পত্রিকায় এই কো¤পানির ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে মান্ডা আইডিয়াল সিটি কর্তৃপক্ষকে সম্প্রতি ন:প/৬-৪৪৭ এবং ন:প/ ৬-৩৪২ স্বারক নম্বরে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, রাজউক কর্তৃক প্রকল্প অনুমোদন ছাড়া টিভিতে বা পত্রিকায় কোনো বিজ্ঞাপন দেয়া যাবে না। বিজ্ঞাপন অব্যাহত থাকলে রাজউকের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজউকের দেয়া চিঠির জবাবে শাপলা সিটি লিখিতভাবে জানায়, মান্ডা রাজউকের আওতায় নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না।” রাজউকের উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত করতে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে শাপলা সিটির মালিক সৈয়দ বদরুদ্দোজাকে পর পর দুটি চিঠি দেয়া হয়। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মনির হোসেনের কাছে অনুলিপি পাঠানো হয়। রাজউকের চিঠি পাওয়ার পর পরিবেশ অধিদফতর থেকে মান্ডা শাপলা সিটি প্রজেক্টে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয়। ম্যাজিস্ট্রেট সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখেন প্রকল্পটি একটি জলাশয়ের মধ্যে। তাই জলাশয় আইনে সেখানে সব ধরনের আবাসন কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট। এরপর প্রায় দুই মাস মান্ডা আইডিয়াল সিটির সার্বিক কাজকর্ম বন্ধ ছিল। পরে আবার শাপলা সিটি লিমিটেড ভূমি দখলের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট পরিচালক জানান, পরিবেশ দূষণ করে ইমারত নির্মাণ করতে দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। খুব শিগগিরই প্রকল্প এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। শাপলা সিটির ভূমিদস্যু কর্ণধার মো. বদরুজ্জোদা জানান, “আমরা কারো জমি দখল করছি না। অন্যের জমিতে সাইনবোর্ডও দিচ্ছি না। প্রায় ৫০টি দাগে ২০০ জনের প্রায় আট কোটি টাকার জমি কিনেছি। জমির পরিমাণ ১০-১২ বিঘা হবে। তবে সব জমি এখনো সাব-কাবলা রেজিস্ট্রি হয়নি। প্রায় সাত বিঘা জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে।” তিনি জানান, “আমরা মান্ডা ও দক্ষিণগাঁও মৌজায় ৭০-৮০ বিঘা জমি কিনবো বলে ভেবেছি। ২০১৭ সালে বালি ভরাটের কাজ শুরু করব। যারা বুকিং দিচ্ছেন ২০২০ সালের মধ্যেই তাদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়া হবে।” তিনি আরো বলেন, “প্রকল্প এলাকায় আমরা ৫০ ভাগ জমি কিনবো। বাকি জমির মালিকদের সঙ্গে পার্টনারশিপে কাজ করবো।” আগামী দুই বছরের মধ্যে শাপলা সিটি জমি কেনার কাজ শেষ করবে বলেও তিনি জানান। ক্রয় করা জমির দলিলপত্র দেখতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে ১০-১২ জনের জমির বায়নাপত্র দেখান। দলিল দেখাতে পারেননি।

