জরিমানা ও অনিয়মের কারণে লোকসানে পড়েছে লন্ডনে সোনালী ব্যাংকের কার্যক্রম। ৬ শাখার মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৪ শাখা। আমানত গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল কনডাক্ট অথোরিটি (এফসিএ)। এরপরও নাজুক অবস্থায় পড়া লন্ডনের সোনালী ব্যাংককে ৩৫০ কোটি টাকার মূলধন জোগান দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার তার অংশের ১৭৮ কোটি টাকা ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে। সোনালী ব্যাংককে বাকি ১৭১ কোটি টাকা পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রবাসীদের সেবা দিতে ও ঋণপত্রের নিশ্চয়তা প্রদানে ২০০১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যে আলাদা কোম্পানি খুলে যাত্রা শুরু করে সোনালী ব্যাংক ইউকে। এতে সরকারের শেয়ার ৫১ ও সোনালী ব্যাংকের শেয়ার ৪৯ শতাংশ। ব্যাংকটি চালাতে শুরুতে সরকার ও সোনালী ব্যাংক মিলে মূলধন জোগান দেয় ২৫০ কোটি টাকা (২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড)।
ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারে একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘লন্ডনের সোনালী ব্যাংক কোনো মূলধন নষ্ট করেনি। কিছু অনিয়ম ও জরিমানার কারণে ২০১৫ সালে লোকসান করেছে। মূলধন কম থাকায় ব্যবসা করা যাচ্ছে না, এ কারণে নতুন করে মূলধন জোগান দেওয়া হচ্ছে।’
ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ আরও বলেন, ‘লন্ডনে প্রবাসী আয়ের ব্যবসা আগের মতো নেই। এ কারণে বাণিজ্য অর্থায়নের দিকে ঝুঁকছি। মূলধন জোগান দেওয়া সম্পন্ন হলে লন্ডন থেকে ভালো মুনাফা করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ায় চলতি সপ্তাহেই আমরা লন্ডনে মূলধন পাঠাব।’
জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে সোনালী ব্যাংক ইউকেকে সাড়ে ৩২ লাখ পাউন্ড (৩০ কোটি টাকা) চূড়ান্ত জরিমানা করে এফসিএ। বন্ধ করে দেয় নতুন হিসাব খোলা। ১৬৮ দিন গ্রাহকদের আমানত গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এ ছাড়া ব্যাংকটির মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ বিভাগের প্রধান স্টিভেন স্মিথকে এ ধরনের চাকরিতে নিষিদ্ধের পাশাপাশি ১৮ হাজার পাউন্ড (১ লাখ ৭১ হাজার টাকা) জরিমানা করা হয়েছে।
চূড়ান্ত নোটিশে সোনালী ইউকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদেরও সমালোচনা করে এফসিএ। ২০১০ সালের ২০ আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের ২১ জুলাই সময়ে অর্থ পাচার প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বলতার কারণে এই শাস্তির মুখে পড়তে হয় ব্যাংকটিকে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটিরও সমালোচনা করা হয় চূড়ান্ত এ নোটিশে।
সরকার ও সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে এরপরও নতুন করে মূলধন জোগানের তৎপরতা শুরু হয়। অবশেষে গত ৩০ মার্চ সোনালী ব্যাংককে ১৭১ কোটি টাকা মূলধন পাঠানোর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এদিকে সোনালী ব্যাংকের অনিয়ম দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল লন্ডন গেলেও এখন পর্যন্ত তার প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে পারেনি। কী ধরনের অনিয়মের কারণে জরিমানা দিতে হয়েছে, তা-ও এখনো জানা যায়নি। ফলে কারও বিরুদ্ধে এখনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংকও। সবশেষ জানা গেছে, প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য গভর্নর ফজলে কবিরের কাছে জমা রয়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, লন্ডন কার্যক্রমে ২০১১ সালে মুনাফা হয় ৪ লাখ ৩ হাজার পাউন্ড। ২০১২ সালে মুনাফা বেড়ে হয় ৭ লাখ ৬৬ হাজার পাউন্ড। ২০১৩ সালে মুনাফা করে ৩০ লাখ ২৩ হাজার পাউন্ড, ২০১৪ সালে হয় ২০ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড। তবে ২০১৫ সালে লোকসান করে ১৭ লাখ পাউন্ড (প্রায় ১৭ কোটি টাকা)।
