৩০ পারা কুরআনের হাফেজ হয়েছে আট বছরের এক ফিলিস্তিনি শিশু

0

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
SELECT meta_id FROM wp_postmeta WHERE meta_key = 'post_views_count' AND post_id = 35276

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
INSERT INTO `wp_postmeta` (`post_id`, `meta_key`, `meta_value`) VALUES (35276, 'post_views_count', '0')

0

মাত্র আট মাসেই ৩০ পারা পবিত্র আল কুরআনের হাফেজ হয়েছে আট বছরের এক ফিলিস্তিনি শিশু। সে গড়ে প্রতিদিন ১৬ পৃষ্ঠা করে কুরআন মুখস্থ করেছে। এই ঘটনায় গাজা উপত্যকার জাবালিয়া শহরের বাসিন্দাদের মাঝে অপার বিস্ময়ের জন্ম হয়েছে।

Advertisement

 

গাজার গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়। শিশু আওয়াজ স্থানীয় আল-ওমরি মসজিদের কুরআন ক্লাসের শিক্ষার্থী। ভর্তি হওয়ার পর সে শুনে শুনে প্রতিদিন গড়ে এক পৃষ্ঠা করে কুরআন মুখস্থ করতো। পর্যায়ক্রমে সে দৈনিক ১৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত কোরআন মুখস্থ করতে শুরু করে। একই সঙ্গে মুখস্থ করা আয়াতগুলো স্মরণে রাখতে সে প্রতিদিন ৪৫ পৃষ্ঠা করে পেছনের পড়া পড়তো। উল্লেখ্য, যারা কুরআন আত্মস্থ করেন তারা সাধারণভাবে প্রতিদিন এক পৃষ্ঠা করে কুরআন মুখস্থ করেন। এতে করে স্বাভাবিকভাবে পুরো কুরআন মুখস্থ করতে তিন বছরেরও অধিক সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু শিশু আওয়াজ মাত্র আট মাসে তা করে দেখালো। স্থানীয়রা জানান, আল-ওমরি মসজিদের খুব কাছেই আলা আওয়াজের পরিবার বাস করেন। সে সার্বক্ষণিক মসজিদেই থাকতো এবং শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা নিতো। এভাবেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে আল কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করে মেধাবী আওয়াজ। দেশটির গণমাধ্যম আওয়াজের এই সাফল্যকে ইসরায়েলি ‘আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি মজলুম শিশুর প্রতিবাদ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এ ঘটনা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুপ্রেরণা বলেও উল্লেখ করা হয়। চলার পথে বন্ধুর প্রয়োজন হয়। সামাজিক সম্পর্ক তৈরিতে বন্ধুত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানুষের কর্ম, চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয় বন্ধুত্বের কল্যাণে। এ কারণে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে এবং কাদের বর্জন করতে হবে এ ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা আমাদের পথ দেখিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর ঈমানদার পুরুষ এবং ঈমানদার একে অপরের বন্ধু। তারা ভালো কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠিত করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন-যাপন করে। তাদের ওপর আল্লাহতায়ালা অনুগ্রহ করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী সুকৌশলী।’ -সূরা আত তওবা: ৭১ যেহেতু আমরা বন্ধু ছাড়া চলতে পারি না; সেহেতু বন্ধু গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। আমাদের এমন ব্যক্তিকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, যারা ঈমানদার, ধর্মপ্রাণ, সত্যবাদী, সদাচারী, সৎকাজে অভ্যস্ত এবং নীতিবান। বিভিন্ন কারণে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের ভিত্তিতে যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে সে বন্ধুত্ব সবচেয়ে মজবুত হয়। অপরদিকে নিজের স্বার্থের জন্য উপকার লাভের আশায়, ক্লাব সদস্যের ভিত্তিতে, সামাজিক শ্রেণী ও জাতিগত পরিচিতির ভিত্তিতে যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে তা বেশিদিন টিকে না। এ সকল ক্ষেত্রে কারো স্বার্থে কোনো রকম আঘাত লাগলেই নষ্ট হয়ে যায়। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কাউকে ভালোবাসলো, তো আল্লাহর জন্যই ভালোবাসলো, কাউকে ঘৃণা করলো তো আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করলো, কাউকে কিছু দিলো তো আল্লাহর জন্যই দিল এবং কাউকে দেয়া বন্ধ করলো তো আল্লাহর জন্যই দেয়া বন্ধ করলো, তবে সে তার ঈমানকে পূর্ণ করলো।’ –মিশকাত শরিফ অর্থাৎ ঈমান ও আনুগত্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব সর্বোত্তম। হাদিসে কুদসিতে আছে, আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘যারা আমার প্রেমে পরস্পরকে ভালোবাসে, আমার খাতিরে সমবেত হয়, যারা আমার খাতিরে পরস্পরের খবরাখবর নেয় ও পারস্পরিক যোগাযোগ বহাল রাখে, আমার ভালোবাসা তাদেরই প্রাপ্য।’ ইসলামের দৃষ্টিতে উপযুক্ত লোকদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব করা উচিত এবং সারা জীবন ওই বন্ধুত্ব অটুট রাখার জন্য চেষ্টা করা উচিত। যে বন্ধুত্ব আমাদের জীবনের আমূল পরিবর্তন করে দেয়, যে বন্ধুত্ব ছাড়া আমাদের চলা সম্ভব নয়, সে বন্ধুত্ব লালনের জন্য কোরআন ও হাদিসে নির্দেশনা রয়েছে। শুধুমাত্র আল্লাহর আনুগত্য লাভের আশায় সব বিশ্বাসীকে ভালোবাসা। বেহেশতের সুসংবাদ ওই ব্যক্তির জন্য রয়েছে, যে অন্য সব উদ্দেশ্য বাদ দিয়ে শুধুমাত্র বন্ধুর ভালোমন্দ জানার জন্য বন্ধুত্বের খাতিরে বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, মুনাফেকি ও আত্মম্ভরিতা পরিহার করা। এগুলো হৃদয়ে পরিবর্তন সৃষ্টি করে এবং বন্ধুত্ব নষ্ট করে। পারস্পরিক বন্ধুদের মাঝে সামাজিক সৌজন্য চর্চা করা। তারা কোনো দাওয়াত দিলে তা রক্ষা করা। দয়ার বিনিময়ে দয়া জানানো। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। তাদেরকে খাটো বা বিদ্রুপ না করা। এছাড়া প্রকৃত বন্ধুর দায়িত্ব হলো- সে কখনও কোনো কারণে বন্ধুর মনে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকবে, অসাক্ষাতে কোনো বন্ধুর নামে খারাপ কথা বলবে না, সর্বোপরি সম্পর্ক রক্ষায় সে বিনয়ী হবে এবং আত্মম্ভরিতা পরিত্যাগ করে চলবে। জ্ঞানীরা বলেন, প্রকৃত বন্ধু আরেক বন্ধুকে যাবতীয় অসৎ ও মন্দ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখবে, তাকে সর্বদা সৎ কাজে উৎসাহিত করবে এবং বিরোধ দেখা দিলে নিজেই প্রথমে মিটিয়ে ফেলার জন্য উদ্যোগী হবে। বন্ধুত্ব প্রসঙ্গে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একাকী নিঃসঙ্গতার চেয়ে ভালো বন্ধু উত্তম আর নিঃসঙ্গতা মন্দ বন্ধুর চেয়ে উত্তম।’ তার মানে হলো, ভালো এবং যথার্থ বন্ধু যদি নাও থাকে তাহলেও তা একজন মন্দ ও অযোগ্য বন্ধু থাকার চেয়ে ভালো। ভালো বন্ধুর গুণাবলী কি ইসলামের দৃষ্টিতে সেদিকে একবার নজর দেয়া যাক। ইসলামের দৃষ্টিতে ভালো বন্ধুর বৈশিষ্ট্য হলো, বন্ধুটি বিবেক বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ওই বুদ্ধি-বিবেককে কাজে লাগানো। এই বিবেকবান বন্ধু সদুপদেষ্টা হয় এবং তার ওপর সবসময় আস্থা রাখা যায় কেননা এ ধরনের বন্ধু ভুল-ত্রুটি থেকে ফিরিয়ে রাখে। নৈতিক উপযুক্ততা ভালো বন্ধুর আরেক বিশেষ গুণ। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী ভালো বন্ধু সেই হতে পারে যে নৈতিক স্খলন থেকে দূরে থাকে। কেননা দুশ্চরিত্রবান আর মন্দ কাজে অভ্যস্ত বন্ধু শেষ পর্যন্ত মানুষকে অবৈধ, অশোভন আর অনৈতিক কাজের দিকে নিয়ে যায়। বন্ধুত্বের একটা গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো সততা রক্ষা করা। বন্ধুকে সম্মান করা বন্ধুত্বের নীতিমালার আরেকটি বৈশিষ্ট্য। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিষ্টাচার হচ্ছে অসুখ-বিসুখ, বিপদ-আপদেও বন্ধুত্ব অটুট রাখা। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যক্তিগত অহমিকা বা গর্ব পরিহার করা। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যখন গভীর হয় তখন এক বন্ধু আরেক বন্ধুর কাছ থেকে কেবল যে সম্মানই পায় তা-ই নয় বরং নিজেকে কেউ বড়ো করে দেখারও চেষ্টা করে না, অহংকারও করে বেড়ায় না।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here