স্বাধীনতা দিবসে রোগীরা খেতে পেল হলুদ পোলাও

1
4912

স্বাধীনতা দিবসের সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের নাশতা হিসেবে পাওয়ার কথা ছিল সেদ্ধ ডিম, পাউরুটি ও কলা। কিন্তু রোগীরা ডিম-পাউরুটি পেলেও কারও ভাগ্যেই কলা জোটেনি। আবার ১৫ টাকার পাউরুটির বদলে তাঁরা পেয়েছেন ৫ টাকা দামের গোল পাউরুটি (স্থানীয়ভাবে বন নামে পরিচিত)। কলা পাওয়ার কথা ছিল ৮ টাকা দামের। দুপুরের খাবারের তালিকায় থাকার কথা ছিল পোলাও, মুরগির মাংসের বড় একটি টুকরো, সেদ্ধ ডিম, মসুরের ডাল, এক টুকরো করে শসা ও টমেটো, একটি কাঁচা মরিচ এবং মিষ্টিজাতীয় কোনো খাবার।

Advertisement

কিন্তু পোলাওয়ের বদলে রোগীরা পেয়েছেন হলুদ মেশানো ভাত, সামান্য এক টুকরো মুরগি, শসা, টমেটো ও কাঁচা মরিচ। মিষ্টি ও মসুর ডালের চেহারাও দেখেননি তাঁরা। দেশের সব সরকারি হাসপাতালে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকে। অন্য দিনে একজন রোগীর জন্য বরাদ্দ থাকে জনপ্রতি ১২৫ টাকা। ২৬ মার্চ, ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৬ ডিসেম্বরসহ জাতীয় দিবস এবং ধর্মীয় উৎসবের দিনে খাবারের বরাদ্দ বেড়ে হয় ২০০ টাকা। ৫০ শয্যার টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ভর্তি ছিলেন ১৮ জন। মহান স্বাধীনতা দিবসে খাবারের এমন হাল দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। উপজেলার উত্তরলম্বরী এলাকার ফাতেমা খাতুন চার দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, খাবারের মানও তেমন ভালো না। অন্য রোগীর স্বজনেরাও খাবারের মান নিয়ে একই অভিযোগ করেছেন। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাবার সরবরাহ করে একুশে ট্রেড সলিউশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি টেকনাফ পৌরসভা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এ কে এম মনজুরুল করিমের। তিনি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটিরও সদস্য। এ বিষয়ে খাবার সরবরাহ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক এ কে এম মনজুরুল করিম মুঠোফোনে বলেন, রোগীদের খাবারের জন্য যে বরাদ্দ তা পর্যাপ্ত নয়। তাই চাইলেও ভালো খাবার সরবরাহ করা যায় না বলে দাবি করেন তিনি। গতকাল দুপুরে রোগীদের খাবার সরবরাহ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মো. আনিস। তালিকা অনুযায়ী রোগীদের খাবার দেওয়া হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদার যে খাবার দিয়েছেন তিনি তা-ই বিতরণ করেছেন। খাবারের মান নিয়ে প্রায়ই রোগীরা তাঁর সঙ্গে তর্ক করেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। অনেক রোগী তাঁদের সরবরাহ করা খাবার না খেয়ে বাইরে থেকে কিনে আনেন।মহান স্বাধীনতা দিবসে রোগীদের বিশেষ খাবার না দেওয়ার বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া  বলেন, খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার নিজেও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য। তালিকা অনুযায়ী বিশেষ দিনে রোগীদের বিশেষ খাবার সরবরাহ না করা দুঃখজনক ঘটনা। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here