সিলেটের বিশ্বনাথ থানাধীন রাজনগড় এলাকা থামছে না আবদুল হাই ও আবদুস সবুর বাহিনীর সন্ত্রাসী তৎপরতা

0

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
SELECT meta_id FROM wp_postmeta WHERE meta_key = 'post_views_count' AND post_id = 1816

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
INSERT INTO `wp_postmeta` (`post_id`, `meta_key`, `meta_value`) VALUES (1816, 'post_views_count', '0')

0

মোঃ আবদুল আলীমঃ
সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানাধীন রাজনগড় এলাকা এক আতংকের নাম। বছরের পর বছর চলছে স্থানীয় সন্ত্রাসী আবদুল হাই ও আবদুস সবুর বাহিনীর ভয়াবহ   সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। ওদের হাত থেকে এলাকার সাধারন লোক রেহাই পাচ্ছে না। পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও সরকারের উচ্চ মহলে অভিযোগ করে কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ। সন্ত্রাসী আবদুল হাই ও আবদুস সবুর এর পিতার নাম সোনাফর আলী। তারা অন্যান্য সন্ত্রাসীদের সাথে যোগসাজস করে এলাকায় অন্যায়ভাবে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া, নদীর পারের মাটি চুরি করে বিক্রি করে দেয়া, চাঁদাবাজি, দাঙ্গাহাঙ্গামা এমনকি হত্যার মত গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িত বলে বিস্তর অভিযোগ ও প্রমান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে  ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ওদের নামে বিশ্বনাথ থানাসহ বিভিন্ন থানায় অসংখ্য মামলা রয়েছে। কোন কোন মামলায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। অনেক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আবার অনেক মামলায় আদালতে হাজির না থাকার কারনে গ্রেপ্তারী পরওয়ানা জারি হয়েছে। কিন্তু ওদের শিকড় এত গভীর যে, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসন ওদের কেশের আগাও ধরতে পারছে না। ফলে যতই দিন যাচ্ছে ততই ওরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে ও জনজীবন হচ্ছে বিপর্যস্ত। বিশ্বনাথ থানাধীন ভাসিয়া নদীর দাগ নং ৩৪৭০, জেএল নং ৮৩, মৌজা পূর্বজানাইয়া থেকে বছরে পর বছর মাটি ও গাছ কেটে বিক্রি করে সরকারের লাথ লাখ টকা ক্ষতি করছে। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ বিশ্বনাথ, জগন্নাথপুর, ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ সিলেট এর আহবায়ক আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার মিয়া গত ২২-২-২০১৬ ইং তারিখে উপজেলা ভূমি অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি ক্রমিক নং ০০০৬৮ তে গ্রহন করা হয়। অধিকন্ত এসি ল্যান্ড মোঃ আবদুল হককে বিষয়টি জানালে তিনি তহশিলদার ও সার্ভেয়ার দিয়ে তদন্ত করান। তদন্তে অভিযোগটির সত্যতা পাওয়ার পর তিনি কাটা গাছগুলো জব্দ করে শক্ত মামলা দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু দীর্ঘ দিন অতিক্রম হলেও এ ব্যাপারে এসি ল্যান্ড আর কোন পদক্ষেপ নেয় নি বলে জানা গেছে। সন্ত্রাসীরা এতটাই বেপরোয়া যে তারা সিলেটের বিশ্বনাথে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষনা পরিষদ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি ভাঙচুর করে। এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ থানায় মামলা নং ৪২/১০ তারিখ ২৬/৪/২০১০ ধারা ৫০৬/৪২৭ দ:বি: দায়ের করা হয়। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একই থানায় মামলা নং ৩৫/১২ এবং ৩৬/১২ তারিখ ১৯/১১/১২ এর অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয় আসামীরা অনেক উশৃঙ্খল স্বভাবের ও এলাকায় মারামারি ও দাঙ্গা হাঙ্গামার সাথে জড়িত। গত ১৮-৫-২০১৬ ইং তারিখে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ডিআইজি, সিলেট রেঞ্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন হাজী মোঃ আনোয়ার মিয়া, পিতা-মৃত কাছিম আলী, সাং-রাজনগর, পো: ও উপজেলা বিশ্বনাথ, সিলেট। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে, (১) আবদুল হাই, (২) আবদুস সবুর ওরফে পুড়া সবুর, সবৃ পিতা-সোনাফর আলী, (৩) ইংরেজ আলী, পিতা মৃত মফিজ আলী, সর্ব সাং রাজনগর, পো: ও উপজেলা-বিশ্বনাথ, জেলা -সিলেট আরও ১০-১২ জন সন্ত্রাসী মিলে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষনা পরিষদের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে প্রকাশ্য দিবালোকে। অভিযোগে আরও প্রকাশ সন্ত্রাসীরা আনোয়ার মিয়া ফিশারিজ থেকে লাখ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। তারা আনোয়ার মিয়ার বসত বাড়ির ভাড়াটিয়ার দুটি ঘর ভেঙে তছনছ করে ফেলে। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগি থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও থানা কোন ব্যবস্থা নেয় নি। সরজমিনে সেখানে এ প্রতিবেদক পরিদর্শন করে ও স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানতে পরে এলাকার রাজাকার পুত্র সোনাফর আলী, আবদুল হাই, আফজল, আলী আফজাল, ফয়সাল, আলী হোসেন ওরফে ইংরেজ আলী প্রমুখ এলাকার চিহিত সন্ত্রাসীরা হাজী মোঃ আনোয়ার মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এ প্রতিবেদক এলাকায় পরিদর্শনের সময় (১) ইসলাম, পিতা-মৃত সাজ্জাদ আলি, (২) লয়লু, পিতা-মৃত মফিজ আলি, সর্বসাং রাজনগর থানা-বিশ্বনাথ, (৩) হেলাল, পিতা, মৃত ইসমাইল আলি, বিশ্বনাথ বাজার, থানা-বিশ্বনাথ জানান যে, আসামরিা সরকারী নদীর পাড় দখল করে বিক্রি করছে অবৈধভাবে। এর পেছনে মদদ রয়েছে সন্ত্রাসী আবদুৃল হাই এর। ভুক্তভোগি গত ৮-১১-১৬ ইং তারিখে ঘটনা সম্পর্কিত সঠিক তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক সিলেট বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। পুলিশ সুপার সিলেট সকল প্রকার সহযোহিতা করবেন বলে ভুক্তভোগিকে এ প্রতিবেদকের সামনে আশ্বাস দেন। এ প্রতিবেদক জেলা প্রশাসক সিলেট এর সাথে স্বাক্ষাত করার জন্য তার পি এ এর মাধ্যমে ভিজিটিং কার্ড ভেতরে পাঠালে জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন এ প্রতিবেকের সাথে স্বাক্ষাত না দিয়ে ও কোন কিছু না জানিয়ে তার কামরা থেকে চলে যান। অর্থাৎ তিনি নুন্যতম সৌজন্যতা দেখান নি। পরবর্তিতে জানা গেছে ঢাকা থেকে সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে যাওয়ার কারনে সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগি আনোয়ার মিয়াকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ও বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে অপরাধ বিচিত্রার তদন্ত অব্যাহত আছে। আগামি সংখ্যায় এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত থাকছে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here