সালাত আদায়কারীর সামনে সুত্‌রাহ্‌ আড়াল দেয়া

0
317

সুতরা -এর অর্থ হলো আড়াল। নামাজি ব্যক্তির সিজদার সামনে এক হাত পরিমাণ লম্বা একটি বস্তু রাখতে হয়, যা তার সামনে দিয়ে চলমান সবকিছু থেকে তাকে হেফাজত করবে-এটাই হলো শরিয়তের পরিভাষায় সুতরা। সুতরা হিসেবে লাঠি, কাঠি, খুঁটি ইত্যাদি স্থাপন করা হয়। বর্তমানে বাজারে কাঠ ও প্লাস্টিকের সুতরা পাওয়া যায়।

Advertisement

> মূসা ইবনু তাল্‌হাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত:

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি নিজের সামনে হাওদার (উটের পিঠে আসনের পিছভাগে দাঁড় করা) কাঠের ন্যায় কিছু রেখে দিয়ে নিশ্চিন্তে সলাত আদায় করতে পারে। এ সুত্‌রার পিছন দিয়ে কেউ অতিক্রম করলে সেদিকে তাকে ভ্রুক্ষেপ করতে হবে না। ————>[সহিহ মুসলিম, হাদীস নাম্বার ৯৯৮; (ই.ফা. ৯৯২, ই.সে. ১০০৩)]। হাদীসের মান: সহীহ্ হাদীস।

> মূসা ইবনু তালহাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত:

তিনি বলেন, আমরা সলাত আদায় করতাম আর এমন সময় আমাদের সামনে দিয়ে জীবজন্তু চলাফেরা করত। এ ব্যাপারটি আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সামনে উত্থাপন করলাম। তিনি বললেনঃ তোমাদের কারো সামনে হাওদার পিছনের কাঠের ন্যায় কিছু দাঁড় করানো থাকলে, তার সামনে দিয়ে কোন কিছু যাতায়াত করলে তাতে কোন ক্ষতি নেই। ইবনু নুমায়র-এর বর্ণনায় আছে : তার সামনে দিয়ে যে লোকই অতিক্রম করুক তাতে কোন ক্ষতি হবে না। ————>[সহিহ মুসলিম, হাদীস নাম্বার ৯৯৯; (ই.ফা. ৯৯৩, ই.সে. ১০০৪)]। হাদীসের মান: সহীহ্ হাদীস।

> ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত:

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে সলাত আদায়কারীর সামনে সুত্‌রাহ্‌ রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেনঃ হাওদার পিছনের খুঁটির মতো। ————>[সহিহ মুসলিম, হাদীস নাম্বার ১০০০; (ই.ফা. ৯৯৪, ই.সে. ১০০৫)]। হাদীসের মান: সহীহ্ হাদীস।

> ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত:

তিনি বলেন, তাবূকের যুদ্ধে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে সলাত আদায়কারীর সামনের সুত্‌রাহ্‌ (আড়াল) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেনঃ হাওদার পিছনের খুঁটির ন্যায়। ————>[সহিহ মুসলিম, হাদীস নাম্বার ১০০১; (ই.ফা. ৯৯৫, ই.সে. ১০০৬)]। হাদীসের মান: সহীহ্ হাদীস।

> ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত:

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ঈদের সলাত আদায় করতে বের হতেন, একটি বর্শা সাথে নেয়ার জন্য নির্দেশ দিতেন। এটা তাঁর সামনে দাঁড় করে রাখা হত এবং তিনি এর দিকে ফিরে সলাত আদায় করতেন। উপস্থিত লোকেরা তাঁর পিছনে থাকত। তিনি সফরে থাকাকালীন সময়েও এমন করতেন। তাঁর পরবর্তী সময়ের শাসকগণও এটাকে সুতরাহ্‌ হিসেবে ব্যবহার করতেন। ————>[সহিহ মুসলিম, হাদীস নাম্বার ১০০২; (ই.ফা. ৯৯৬, ই.সে. ১০০৭)]। হাদীসের মান: সহীহ্ হাদীস।

> ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত:

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনের দিকে ‘আনাযাহ (বর্শা) পুঁতে দিতেন। অধস্তন রাবী আবূ বাক্‌র-এর বর্ণনায় আছে : তিনি বল্লম পুঁতে দিতেন এবং সেদিকে ফিরে সলাত আদায় করতেন। আবূ শাইবাহ্‌ বলেন, ‘উবাইদুল্লাহ বলেছেন, এটা ছিল বর্শা। ————>[সহিহ মুসলিম, হাদীস নাম্বার ১০০৩; (ই.ফা. ৯৯৭, ই.সে. ১০০৮)]। হাদীসের মান: সহীহ্ হাদীস। › ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উট আড়াআড়ি করে বসাতেন। অতঃপর তা সামনে রেখে সলাত আদায় করতেন। ————>[সহিহ মুসলিম, হাদীস নাম্বার ১০০৪; (ই.ফা. ৯৯৮, ই.সে. ১০০৯)]। হাদীসের মান: সহীহ্ হাদীস।

> ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত:

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাহনকে সামনে রেখে সলাত আদায় করতেন। ইবনু নুমায়র-এর বর্ণনায় রয়েছে : নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (সফরে থাকাকালীন সময়ে) তাঁর উট সামনে রেখে সলাত আদায় করতেন। ————>[সহিহ মুসলিম, হাদীস নাম্বার ১০০৫; (ই.ফা. ৯৯৯, ই.সে. ১০১০)]। হাদীসের মান: সহীহ্ হাদীস।

> ‘আওন ইবনু আবূ জুহাইফাহ্‌ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে থেকে বর্ণিত:

তিনি (জুহাইফাহ্‌) বলেন, আমি মাক্কায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে আসলাম। তিনি তখন আব্‌তাহ (মুহাসসাব) নামক স্থানে লাল চামড়ার তৈরি একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। রাবী বলেন, বিলাল (রাঃ) তাঁর উযূর পানি নিয়ে আসলেন। কেউ পানি পেল, কেউ পেল না- সে অন্যের কাছ থেকে সামান্য নিয়ে নিল।[১০৭] নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হয়ে আসলেন। তাঁর গায়ে লাল রং এর চাদর শোভা পাচ্ছিল। আমি যেন তাঁর পায়ের গোছার শুভ্রতা এখনো দেখতে পাচ্ছি। তিনি ওযূ করলেন এবং বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। আমি তার (বিলালের) অনুসরণ করে এদিকে-ওদিক মুখ ঘুরাতে লাগলাম। সে ডানে বাঁয়ে মুখ ঘুরিয়ে “হাইয়্যা ‘আলাস সলাহ” ও “হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ” বলল। রাবী বলেন, অতঃপর একটি বর্শা দাঁড় করিয়ে পুঁতে দেয়া হলো। তিনি সামনে অগ্রসর হয়ে যুহরের দু’রাক’আত (ফরয) সলাত আদায় করলেন। তাঁর (সুত্‌রার) সামনে দিয়ে গাধা, কুকুর ইত্যাদি যাচ্ছিল কিন্তু তিনি বাধা দিলেন না। অতঃপর তিনি ‘আস্‌রের ফরয সলাত ও দু’রাক’আত পড়লেন। মাদীনা য় ফিরে আসার সময় পর্যন্ত তিনি এভাবে দু’রাক’আত করে সলাত আদায় করেছেন। ————>[সহিহ মুসলিম, হাদীস নাম্বার ১০০৬; (ই.ফা. ১০০০, ই.সে. ১০১১)]। হাদীসের মান: সহীহ্ হাদীস। [*]নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ওযূর ব্যবহার করা পানি সহাবাগণ বারাকাত স্বরূপ ব্যবহার করতেন। সেটারই প্রতিযোগিতা ছিল এটা।

> ‘আওন ইবনু আবূ জুহাইফাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত:

তাঁর পিতা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে লাল চামড়ার তৈরি তাঁবুর মধ্যে দেখতে পেলেন। আমি (আবূ জুহাইফাহ্‌) বিলালকে তাঁর ওযূর অবশিষ্ট পানি নিয়ে বের হয়ে আসতে দেখলাম। যারা তা পেল তারা নিজেদের শরীরে তা মাখল। আর যারা তা পায়নি তারা নিজেদের সাথীদের ভেজা হাতের স্পর্শ লাভ করল। অতঃপর আমি দেখলাম, বিলাল একটি বর্শা বের করে এনে তা মাটিতে পুঁতে দিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here