শহীদ জিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদ দুর্নীতি করে বিশাল সম্পদের মালিক

0

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
SELECT meta_id FROM wp_postmeta WHERE meta_key = 'post_views_count' AND post_id = 19889

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
INSERT INTO `wp_postmeta` (`post_id`, `meta_key`, `meta_value`) VALUES (19889, 'post_views_count', '0')

0

মোঃ আবদুল আলীমঃ
দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন রকমের অনিয়ম ও দুর্নীতি অক্টোপাশের মত ধরে রেখেছে। আর্থিক অনিয়ম যেন নিত্য নৈমিত্যিক ব্যপার। ঢাকা মহানগরির যাত্রাবাড়ি এলাকায় অবস্থিত শহীদ জিয়া স্কুল এন্ড কলেজ নিয়ে অনেক সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ও হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারনে ছাত্রী সংখ্যা দিনের পর দিন কমে আসছে। অভিযোগ রয়েছে বর্তমান অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদ এক সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি বিভিন্ন অন্যায় প্রভাব খাটিয়ে একদিকে এমপিওভুক্ত হন অপরদিকে অধ্যক্ষ পদ দখল করে বসেন। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখের আগেই তিনি ০১-১১-১৯৯৩ ইং তারিখে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে স্কুল শাখায় যোগদান করেন। অর্থাৎ তিনি শুরুতেই অনিয়মের আশ্রয় নেন। তিনি স্কুলে যোগদানের তারিখ থেকেই নিজেকে কলেজের অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নেন বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একজন সাধারন শিক্ষককে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন ফাতেমা রশিদ। নিয়োগপ্রাপ্ত এ শিক্ষকের নাম শাহীন আসমা। আর্থিক লেনদেনের কারনে শাহীন আসমা নামক এ শিক্ষককে ফাতেমা রশিদ নভেম্বর, ২০১৬ মাসের বেতনের সাথে এ লক্ষ বাষট্রি হাজার পাঁচশত ছিয়াশি টাকা বকেয়া বেতন হিসেবে পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন যা সুষ্ঠু তদন্ত করলে সত্যতা প্রমাণিত হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের একাধিক শিক্ষক এ প্রতিবেদককে জানান ফাতেমা রশিদ যখন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন তখন কলেজের ইসলাম শিক্ষার কোন ক্লাস না নিয়েও প্রতি মাসে ইসলাম শিক্ষার প্রভাষক হিসেবে কলেজ থেকে টাকা উত্তোলন করেন। তিনি ছাত্রীদের ক্লাসরুম ভেঙে নিজের কামরা প্রসারিত করেন ও সেখানে দামী টাইলস, এয়ার ফ্রেশনার, দামী পর্দা ইত্যাদি ব্যবহার করছেন। অথচ ছত্রীদের বসার কামরাগুলো ব্যবহারের অনুপযোগি। ছাত্রীদের কামরাগুলোর দরজা জানালা ভাঙা, বেঞ্চগুলো ভাঙা, টয়লেটগুলো দুর্গন্ধে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ছাত্রীদের এসব অভিযোগ কানে তুলছেন না ফাতেমা রশিদ। তার সাথে কোন ছাত্রী বা অভিভাবক কোন সমস্যা নিয়ে দেখা করতে গেলে তিনি অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। কলেজের দেয়াল সংলগ্ন চারটি দোকান নির্মান করেন কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি ছাড়া। দোকানগুলো নির্মান খরচ কলেজ থেকে তিনি তুলে নেন অথচ অদ্য পর্যন্ত কোন ভাউচার কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেননি। চারটি দাকান থেকে ভাড়া বাবদ কত টাকা অদায় হচ্ছে তার কোন হিসেব কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট নেই বলে প্রকাশ। অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদ কলেজের জন্য মাইক্রো ক্রয় করেন ৫ লাখ টাকা দিয়ে। অথচ কলেজ থেকে তিনি ১৬ লাখ টাকা তুলে নেন বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে।

Advertisement

যে শিক্ষক কোন দিন বিদ্যালয়ে আসেননি তার নাম এমপিওভুক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের নিকট পাঠিয়ে এমও্রভিুক্ত করেন। স্কুল শিক্ষকদের হাজিরা খাতায় প্রমাণ নাছিমা বেগম নামে এই শিক্ষক ২০১৭ জুলাই মাস পর্যন্ত স্কুলে যোগদান করেননি। ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসে একজন শিক্ষকের নাম ফ্লুয়িড দিয়ে মুছে এই নাছিমা বেগমের নাম লিখা হয়। তার অনিয়ম ও অপরাধের প্রতিবাদ করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন শিক্ষক বরখাস্ত হয়েছেন ও অন্যায়ভাবে সাজা পাচ্ছেন। বরখাস্তকৃত শিক্ষগণ দেড় বছর যাবত বেতন পাচ্ছেন না অথচ ফাতেমা রশিদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি থেকে অন্যায়ভাবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাদ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার সহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরশনের ৪৮ নং ওয়াড কাউন্সিলর আবুল কালাম অনু দুর্নীতিবাজ এ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনের একাধিক যায়গায় লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। অভিযোগ থেকে জনা যায় ১৯৯৩ সালে স্কুল শিক্ষক, ১৯৯৪ সালে ইসলাম শিক্ষার প্রভাষক এবং ২০০৬ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে ও সর্বশেষে অধ্যক্ষ পদে এই ফাতেমা রশিদ আজ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। ৯৩/১১/চ, পূর্ব ধলপুর, থানা: যাত্রাবাড়ি, ঢাকা ঠিকানায় তিনি আলীশান বাড়ি নির্মান করেন। পুরাতন ঢাকার দয়াগঞ্জে রয়েছে তার নিজস্ব ফ্ল্যাট। বেইলি রোডে রয়েছে নিজস্ব ফ্ল্যাট। যাত্রাবাড়ি থেকে মিরপুর-১ নং পর্যন্ত যাতায়াত করে ট্রান্স সিলভা নামক পরিবহনে তার রয়েছে মোটা শেয়ার। গুলিস্তান আন্ডারগ্রাউন্ডে রয়েছে বেশ কয়েকটি দাকান। নামে বেনামে রয়েছে মোটা অংকের ব্যাংক ব্যালেন্স। তিনি নিজস্ব দামী প্রাইভেট কারে যাতায়াত করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলে তার সম্পদের প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রী, অভিভাবক, ভুক্তভোগী শিক্ষক ও এলকাবাসি সকলে দুর্নীতিবাজ এ অধ্যক্ষের কাছ থেকে ম্ুিক্ত চান। সকলের দাবি ধুর্ত, লোভি স্বেচ্ছাচারি ও দুর্নীতিবাজ এ অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদকে না তাড়ালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচানো যাবে না। (চলবে)

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here