তাঁতী লীগ কমিটিতে বহিরাগতরা যোগ্য নেতাকর্মীরা হতাস

0

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
SELECT meta_id FROM wp_postmeta WHERE meta_key = 'post_views_count' AND post_id = 5543

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
INSERT INTO `wp_postmeta` (`post_id`, `meta_key`, `meta_value`) VALUES (5543, 'post_views_count', '0')

0

স্টাফ রিপোর্টার : বঙ্গবন্ধু’র হাতে গড়া বাংলাদেশ তাঁতী লীগে বহিরাগতদের পদ দেয়ায় ত্যাগী-যোগ্য ও পরিশ্রমী  নেতাকর্মীরা হতাস। ফলে কমিটির ভিতরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।  জানা গেছে, বাংলাদেশ তাঁতী লীগকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে এবং বঙ্গবন্ধু’র কন্যার নির্দেশে যারা কাজ করেছেন, আজ তাদের সরিয়ে দেয়ার নতুন করে পায়ঁতারা করছে। এসব যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে বহিরাগতদের অর্থে’র বিনিময়ে দলে টানছেন বলে নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন কর্মী জানান। সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করে বলেছেন, দেশ-জাতির ও আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ তাঁতী লীগের যারা কল্যাণ চান না তারাই আসলে কমিটি করার নামে ত্যাগী ও যোগ্য নেতা-কর্মীদের বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি ও কৌশলে দূরে রাখছেন।
আর ১/১১ পরবর্তি সময়ে ক্ষমতার লোভে যারা জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে আজ তারাই মূল চরিত্রের নায়ক বনে গেছেন। এদের কারণে আজও বাংলাদেশ তাঁতী লীগে আগাছায় (কাউয়া) ভরে গেছে। জানা গেছে, কোরাইশির পিডিবিতে যোগদানের অপরাধে সেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি পদ (কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি) থেকে বহিস্কৃত জাহাঙ্গীর বিশ্বাস ও সেচ্ছাসেবক লীগ থেকে বহিস্কৃত মো: নেছার উদ্দিন, আবু সুফিয়ান এবং তার সহযোগীরা ২০১৪ সালে তাঁতী লীগে অনু প্রবেশ করেণ। এরা পরে সংগঠনটি হাতের মুঠোয় নিয়ে নেয়। এছাড়া বাংলাদেশ তাঁতী লীগে সহ-সভাপতি হাজী আবদুস সাত্তার, আবদুল লতিফ সরকার, মো: শহিদুল আমিন ভূঁইয়া এই ৩ জন বিএনপি’র নেতা ছিলেন। জানা গেছে, ১৯৯৭-২০০৮ পর্যন্ত হাজী আবদুস সাত্তার তাঁতী দলের কেন্দ্রিয় সহ সভাপতি। অন্যদিকে আবদুল লতিফ সরকার আড়াই হাজার থানার বারদী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা এবং মো: শহিদুল আমিন ভূঁইয়া রায়পুরা থানার বিএনপি নেতা। তার বাবা মাঈনুউদ্দিন ভূঁইয়া বিএনপি’র সাবেক উপমন্ত্রী ছিলেন। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মো: শহিদুল আমিন ভূঁইয়া ও তার ভাই আল আমিন ভূঁইয়া রুহেলে’র নেতৃত্বে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী সংসদ নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্য গাড়ী ভাংচুর ও আগুন লাগিয়ে দেয়ার এবং সন্ত্রাসের দায়ে দায়েরকৃত মামলায় জেল খাটেন।
সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীরা অরো বলেছেন, গত ১৪ই নভেম্বর,২০১৬ ইং তারিখে, উওরের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশ তাঁতী লীগ,ঢাকা মহানগর উওর এর সভাপতি হিসাবে শামিম আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসাবে জসিম উদ্দিনের নাম ঘোষনা করেণ। কিন্তু সুবিধাভোগীরা ও দুর্নীতিবাজ জাহাঙ্গীর বিশ্বাস ও  তার সহযোগীরা মিলে উক্ত কমিটি ভেঙ্গে তাদের আস্থাভাজন ফ্রিডম পার্টি করা হামিদ আহম্মেদকে উওর এর সভাপতি এবং পিডিবি করা আবু সুফিয়ানকে দক্ষিণের সভাপতি হিসাবে মনোনিতো করেণ। এছাড়া  বিএনপি’র তাঁতী দলের কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির বর্তমান সহ-সভাপতি হাজী আঃ ছত্তার এ বাংলাদেশ তাঁতী লীগে সহ-সভাপতি হিসাবে প্রস্তাবিত কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটিতে তার নাম রয়েছে। আরেক বিএনপি থেকে আসা আজিজ পাটওয়ারী তার বাংলাদেশ তাঁতী লীগের প্রস্তাবিত কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির তালিকায় সদস্য-১ এ নাম রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তাঁতী লীগের নতুন কমিটির কার্যকরী সভাপতি সাধনা দাসগুপ্তা এক পশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়েছে কি না আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। তবে তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক খগেন্দ্র চন্দ্র  দেবনাথ বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ পক্রিয়াধীন। এ প্রসঙ্গে তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে পতিদ্বন্দ্বিতা করা পার্থী খান নূর-ই খোদা মন্জু বলেন, এক যুগেরও বেশি পরে তাঁতী লীগের নতুন কমিটি হয়েছে। অথচ কমিটির মেয়াদ ৩ মাস পার হলেও এখনো তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটিই দিতে পারেনি। যারা আর পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পেতে যাচ্ছেন তাদের অনেকেই তাঁতী লীগের রাজনীতি করেননি, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেও তাদের সম্পৃক্ততা নেই। অনেককেই তাঁতী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকও  হয়তো চেনেন না। শোনা যাচ্ছে, ওইসব ব্যক্তির কাছ থেকে টাকাও নেয়া হয়েছে। এতে ভাগ বসিয়েছেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। এবিষয়ে ঢাকা মহানগর এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক টুকু সিকদারে কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তাঁতী লীগ কমিটি নিয়ে বর্তমানে যেসব কর্মকান্ড চলছে তাতে কারো মর্যাদা থাকবে বলে মনে হয়না। এখন যে নতুন কমিটি হচ্ছে তাতে ত্যাগী ও যোগ্য নেতা-কর্মীরা স্থান পাচ্ছে না। এখানে বহিরাগতদের সন্মান ও মর্যাদা দেয়া হচ্ছে। ফলে নেতাকর্মীরা হতাশা প্রকাশ করেছে। তিনি আরো বলেন, এখনও কেন্দ্রিয় পূর্ণঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। এর মধ্যে অন্যান্য কমিটি গঠন করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। ইতিমধ্যে ঢাকা জেলা ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর তাঁতী লীগের নেতাকর্মীরা কমিটির বিষয়ে প্রতিবাদ করলে কিছুটা পিছু হটেন কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ। টুকু সিকদার বলেন, বর্তমান কমিটিতে তাঁদের চাহিদা ও মন রক্ষা করতে পারিনি, তাই কমিটিতে আমার স্থান হয়নি। কিন্তু যাদের কেউ চেনেন না এবং অন্য দল থেকে এসেছেন তারা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদ দখল করেছে। সদ্য সাবেক  তাঁতী লীগের কেন্দ্রিয় কমিটি থেকে মাত্র ৭ জনকে নবগঠিত কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন ব্যবসা-বাণিজ্য নষ্ট করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আনন্দোলন করেছি তাঁতী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করেছি। কর্মীদের সংগঠিত করেছি। আজ আমাকে তাঁরা মূল্যায়ন করেনি। এ থেকে বোঝা যায় তারা আসলে ত্যাগী-যোগ্য ও পরিশ্রমী  নেতাকর্মী চান না।
উল্লেখ্য : গত ১৯ই মার্চ ২০১৭ ইং তারিখে বাংলাদেশ তাঁতী লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সম্মেলনে সভাপতি হিসাবে ইঞ্জিনিয়ার  শওকত আলী ও সাধারণ সম্পাদক হিসাবে বাবু খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ এর নাম ঘোষনা করেণ প্রধানমন্ত্রী। এর পর ১০১ সদস্যের তালিকা চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে জমা দিলেও এখনো তা ঘোষণা হয়নি। এছাড়া বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন তো দূরের কথা যাচাই-বাছাই পক্রিয়া সম্পর্কেও অবহিত নন খোদ সংগঠনটির কার্যকরী সভাপতি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিলেমিশে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here