গাছের শত্রু আফ্রিকার জায়ান্ট মিলিবাগ বাংলাদেশে

0

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
SELECT meta_id FROM wp_postmeta WHERE meta_key = 'post_views_count' AND post_id = 27944

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
INSERT INTO `wp_postmeta` (`post_id`, `meta_key`, `meta_value`) VALUES (27944, 'post_views_count', '0')

0

বাংলাদেশের ফলদ ও বনজ গাছের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর ‘জায়ান্ট মিলিবাগ’ নামে এক ধরনের পোকার আবির্ভাব হয়েছে। এরা গাছের বাড়ন্ত ডগা এবং মুকুল থেকে রস চুষে খেয়ে ফেলে। ফলে কচি ডগা ও মুকুল শুকিয়ে ফল ধারণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

Advertisement

গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই মিলিবাগ সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছে। এ পোকা শুধু বাংলাদেশে নয়, এদের বিস্তৃতি ভারতের পাঞ্জাব থেকে আসাম অঞ্চল পর্যন্ত। ইনস্টিটিউটের পরিচালক সৈয়দ নূরুল আলম জানান, সম্প্রতি আফ্রিকা মহাদেশ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে এ পোকা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করায় এদের আক্রমণ হার বেড়েছে। এটি বিভিন্ন ফলদ উদ্ভিদ যেমন- কাঁঠাল, আম, লেবু, নারিকেল এবং বনজ বৃক্ষ রেইনট্রি, কড়ই, পাহাড়ি তুলা ইত্যাদি গাছে আক্রমণ করে থাকে। তিনি বলেন, এটা এ দেশে একদম নতুন নয়। ১৯২৩ সালে এই মিলিবাগের আবির্ভাব হয়। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আযাদ বলেন, জায়ান্ট মিলিবাগ দলবদ্ধভাবে ডগা ও মুকুলের বোঁটায় এমনভাবে গাদাগাদি করে থাকে যে, আক্রান্ত ডগাটিই আর দেখতে পাওয়া যায় না। আক্রমণ মারাত্মক হলে এদের নিঃসৃত মধুরসে স্যুটিমোল্ড রোগ হয়। ফলে পাতা কালো হয়ে যায় এবং ঠিকমতো খাদ্য তৈরি হয় না। আক্রান্ত গাছ অত্যন্ত দুর্বল প্রকৃতির হয় এবং ফলন কমে যায়। কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ পোকার আক্রমণের ফলে ফসলের ক্ষতি ছাড়াও মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার হতে পারে। তবে মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদান এ পোকাটির মধ্যে নেই। জায়ান্ট মিলিবাগের জীবনচক্র সম্পর্কে ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. দেবাশীষ সরকার বলেন, এদের জীবনচক্রে তিনটি ধাপ দেখা যায়। ধাপগুলো হলো- ডিম, অপ্রাপ্ত অবস্থা বা নিম্ম্ফ ও পূর্ণাঙ্গ। অপ্রাপ্ত অবস্থায় (নিম্ম্ফ দশা) স্ত্রী পোকা ফসলের ক্ষতি করে থাকে। ডিম অবস্থায় প্রায় ৬ মাস এবং বাকি ৬ মাস (নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত) নিম্ম্ফ ও পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় সক্রিয় থাকে। মার্চ-এপ্রিল মাসে স্ত্রী পোকা গাছ থেকে নেমে আসে এবং মাটির ৫-১৫ সেন্টিমিটার গভীরতায় গুচ্ছাকারে ৩০০-৫০০টি ডিম পাড়ে। রেশমি থলেতে ডিমগুলো আবৃত থাকে। সদ্য পাড়া ডিম দেখতে ডিম্বাকার ও উজ্জ্বল গোলাপি রঙের, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ধূসর বর্ণ ধারণ করে। অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ হতে ডিম ফুটে নিম্ম্ফ বের হয়ে আসে এবং হেঁটে হেঁটে খাদ্যের সন্ধানে পোষক গাছে উঠতে শুরু করে। জায়ান্ট মিলিবাগের হাত থেকে গাছ রক্ষার জন্য দুটি পদ্ধতির কথা বলছেন বিজ্ঞানীরা। প্রথমত, নভেম্বর মাসে সদ্য ফোটা নিম্ম্ফ ধ্বংস করা এবং মার্চ-এপ্রিল মাসে পূর্ণাঙ্গ স্ত্রী পোকা ধ্বংস করা। এ ছাড়া গাছে আক্রমণকালে যে কোনো সময় জৈব বালাইনাশক, ফাইটোক্লিন দিয়ে পোকাটি দমন করা যায়।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here