ইসলামে বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য সুদ হারাম। এবার সেই সুদ ও ঘুষের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে চট্টগ্রামে চাকরি হারালেন একজন মসজিদের ইমাম।
দুঃখজনক হলেও ঠিক এমনই এক ঘটনা ঘটেছে নগরের বায়েজিদস্থ গায়েবি মসজিদের সাবেক ইমামের সাথে, যা নিয়ে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝেড়েছেন।
ঐ ইমামের নাম মাওলানা মুহাম্মদ রবিউল করিম। তিনি বায়েজিদের নয়ারহাট নেজামে হামজা এলাকার শাহ বখতিয়ার খা প্রকাশ গায়েবী মসজিদ নামক এই জামে মসজিদটিতে প্রায় দুই বছর যাবত চাকরি করে আসছিলেন।
কিন্তু হঠাৎ মাসখানেক আগে তাকে মসজিদ থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ইমামের এমন বিদায়ে মসজিদের সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মতামত সচেতন নাগরিকের। এলাকাবাসী ও মুসল্লীদের অভিযোগ, মসজিদে সুদ ও ঘুষের ভয়াবহ পরিনাম নিয়ে ওয়াজ করায় ষড়যন্ত্র করে বিদায় করা হয় তাকে।
গত জুন মাসের ২১ তারিখ রাতের অন্ধকারে মুসল্লীদের মতামত না নিয়েই ইমামকে এক প্রকার জোরপূর্বক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এসময় তাকে অগ্রিম বেতনও বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
যদিও অভিযোগ রয়েছে ঐ বেতন থেকেও ১ হাজার টাকা কমিশন নিয়েছে মসজিদ উপদেষ্টা মন্ডলীর এক সদস্য। শুধু তাই না, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুদের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্য চটে যান ঐ ইমামের উপর। ফলে দিনের আলো বাদ দিয়ে রাতেই বিদায় জানানো হয় তাকে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ও ইমাম সম্পর্কে প্রশ্ন করতে সরাসরি উক্ত স্থানে গেলে নামাজ শেষ হওয়ার ১ ঘন্টা পরেও সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে মসজিদ থেকে বের হননি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। পরে একটা সময় দুজন কৌশলে একসাথে বের হন।
ফলে সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য নিলেও নেওয়া যায়নি সভাপতি সাহেদ আলীর বক্তব্য। বক্তব্য চাওয়ায় উলটো তিনি হুমকি দেন প্রতিবেদককে। কথা বলতে হলে প্রতি মিনিটি ৫ হাজার টাকা করে লাগবে বলেও দাবী করেন তিনি।
এদিকে হুজুরকে ঠিক কি কারনে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে? এমন প্রশ্ন করা হলে কোন সদুত্তর দিতে পারেন গায়েবী মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম।
এর আগেও গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকজন ইমামকে এই মসজিদ থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মসজিদ কমিটির এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। সৎ ও মানবিক ব্যাক্তিদের দিয়ে মসজিদ পরিচালনার দাবী স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের।

