সংবাদ বিজ্ঞপ্তি মুঠোফোনের রেডিয়েশন নিয়ে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের প্রতিবেদন

0
656

মোবাইল ফোন আমাদের একটি অতি অতি প্রয়োজনীয় ডিভাইস তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। মোটামুটি আমরা অনেকেই জানি মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যবহারে আমাদের ক্ষতি হয়। কিন্তু কি ক্ষতি হয় তা কয়জন জানি? হাতে গোনা কয়েকজন জানি এর ক্ষতিকর প্রভাব গুলো। ঐ হাতে গোনা কয়েকজনও জানা সত্ত্বেও মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে পারেনা প্রয়োজনের তাগিদে। আসুন জেনে নেই কিভাবে এবং কি কি ক্ষতি করে আমাদের সকলের প্রয়োজনীয় এই ডিভাইসটি।
মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় বার্তা আদান প্রদানের সময় ফোন থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় রশ্মির বা রেডিয়েশনের (জধফরধঃরড়হ) প্রভাবে মানব দেহের ক্ষতি হয়ে থাকে। সবাই কানে অর্থাৎ মাথার পাশে ফোন ধরে কথা বলি। কথা বলার সময় মোবাইল থেকে নির্গত রেডিয়েশন মস্তিষ্কেরে কোষগুলোর সংস্পর্শে চলে আশে। ফলে মস্তিষ্ক তথা দেহের অনন্যা অংশেও পড়বে ও নানা ধরনের স্বাস্থ্য ঝুকির সৃষ্টি হতে পারে। মৌলিক কিছু কর্মকান্ড সম্পন্ন করার প্রয়োজনে প্রতিটি মোবাইল ফোনকেই কিছু পরিমাণে বিদ্যুৎচৌম্বকীয় তেজস্ক্রিয়তা তথা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন (ঊষবপঃৎড়সধমহবঃরপ জধফরধঃরড়হ) নির্গত হয়। মোবাইল ফোন রেডিও ওয়েবে বা বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে সিগনাল প্রেরণ করে। এই রেডিও ওয়েব আছে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এনার্জি, যা আসলে এক ধরনের বিদ্যুৎচৌম্বকিয় তেজস্ক্রিয়তা (ঊষবপঃৎড়সধমহবঃরপ জধফরধঃরড়হ)। আমরা যখন মোবাইল ফোনে কথা বলি তখন ফোনের ট্রান্সমিটারটি আমাদের মুখ থেকে নির্গত শব্দকে গ্রহণ করে সেটিকে ধারাবাহিক সাইন ওয়েবে সংকেতায়িত করে। সাইন ওয়েব হচ্ছে একধরনের অনির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট তরঙ্গ যেটি ফোনের এন্টেনা থেকে নির্গত হয়ে ইথারে প্রবাহিত হয়। সাইন ওয়েবকে মাপা হয় ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে। ফ্রিকোয়েন্সি হচ্ছে একটি তরঙ্গ কত বার উঠা নামা করে তারই হিসাব। আমাদের মুখ থেকে নিঃসৃত শব্দকে সাইন ওয়েভে রাখা হয়, তখনই ট্রান্সমিটার ঐ সিগনাল বা সঙ্কেতকে এন্টেনার কাছে প্রেরণ করে, এন্টেনা আবার এই সিগনালকে অন্য প্রান্তে পাঠিয়ে দেয়। মোবাইল ফোনের মধ্যে যে ট্রান্সমিটার থাকে সেগুলো বেশ কম শক্তির হয়ে থাকে। সেলফোন ০.৭৫ থেকে ১ ওয়াট শক্তিতেই দিব্যি চলতে পারে। ফোনের নির্মাতাভেদে এর ভেতরে ট্রান্সমিটারের অবস্থান বিভিন্ন জায়গায় হতে পারে; তবে সাধারনত এটি ফোনের এন্টেনার খুব কাছাকাছি থাকে। সংকেতায়িত সিগনালকে প্রেরণ করার দায়িত্ব যে বেতার তরঙ্গের, সে তরঙ্গ গঠিত হয় এন্টেনা থেকে নির্গত বিদ্যুৎচৌম্বকীয় তেজস্ক্রিয়তা বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন দিয়ে। এন্টেনার কাজ হচ্ছে বেতার তরঙ্গকে শূন্যে ছাড়িয়ে দেওয়া। মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে এসব তরঙ্গকে গ্রহণ করা বা রিসিভ করার দায়িত্বে হচ্ছে মোবাইল ফোনের টাওয়ারে স্থাপিত একটি রিসিভারের।

Advertisement

মোবাইল রেডিয়েশনের সম্ভাব্য রোগসমূহ ঃ *ক্যান্সার (ঈধহপবৎ) *ব্রেইন টিউমার (ইৎধরহ ঃঁসড়ৎং) *আলঝেইমার’স (অষুযবরসবৎ’ং) *পারকিনসন’স (চধৎশরহংড়হ’ং) *ক্লান্তি (ঋধঃরমঁব) *মাথা ব্যথা (ঐবধফধপযবং). তার মধ্যে ক্যান্সার ও ব্রেইন টিউমারই প্রধান।

নিরাপদ থাকার উপায় ঃ
** ঘুমানোর সময় মোবাইল মাথা থেকে দূরে রাখতে হবে।
** হ্যান্ডস-ফি মোবাইল ব্যবহার করতে হবে।
** এক টানা দীর্ঘ সময় মোবাইলে কথা বলা উচিত নয়।
** যত টুকু সম্ভব বাহিরে বসে ফোনে কথা বলা ভালো।
** মোবাইল যতটা সম্ভব শিশুদের থেকে দূরে রাখা ভালো।
** মোবাইল ফোনকে যতটা সম্ভব শরীর থেকে দূরে রাখতে হবে।
** এক্সটারনাল এন্টেনা ছাড়া গাড়িতে মোবাইল ব্যবহার করা উচিত নয়।
এখানে আরো কিছু যোগ করা যায় যেমন- মোবাইলে কথা বলার সময় বাম কান ব্যবহার করা, চার্জার লাগানো অবস্থায় কথা না বলা, সম্ভব হলে হেডফোন ব্যবহার করা। কিন্তু কি ক্রেতা, কি বিক্রেতা তাঁদের কেউই মোবাইল ফোনের হ্যান্ডসেটের রেডিয়েশন এবং তার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন নন। হ্যান্ডসেটের বিকিরণের মাত্রা মাপার আন্তর্জাতিক পরিমাপককে বলা হয় ‘স্পেসিফিক অ্যাবসর্পশন রেট বা এসএআর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যানাডায় এর সর্বোচ্চ মাত্রা ১.৬ কিলোওয়াট৷ আর ইউরোপে ২ কিলোওয়াট। কিন্তু অবাক করার মতো ব্যাপার হলো যে, বাংলাদেশে এই রেডিয়েশনের মাত্রা বেঁধে দেওয়া নেই। আর বিটিআরসিতে তা পরীক্ষা করারও কোনো ব্যবস্থা নেই।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here