শ্যাম্পুর দাম ১২৫ টাকা, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ২৯০ টাকায়

2
2831

রাজধানীর তেঁজগাও কলেজের ছাত্র হাবিব (নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকৃত নাম গোপন রাখা হয়েছে)। চারজন বন্ধু মিলে নাখালপাড়ায় একটি মেসে থাকেন। চুলের প্রতি যত্নশীল হওয়ায় হাবিব শ্যাম্পু একটু বেশিই ব্যবহার করেন। সাধারণত বোতলজাত শ্যাম্পু তিনি ব্যবহার করে না। মিনিপ্যাক কেনেন।

Advertisement

 

হাবিবের ভাষ্য, ‘নিজের পকেটের টাকা দিয়ে বোতলের শ্যাম্পু কিনে আনলে সবাই মিলে ব্যবহার করে। অল্প দিনেই শেষ হয়ে যায় ‘হাবিবের ভরসা তাই মিনিপ্যাক শ্যাম্পুতেই। এক প্যাকেটে ৬ মি. লি. শ্যাম্পু থাকে। একবার দিলেই শেষ হয়ে যায়। দাম ২ টাকা। সেমিস্টার পরীক্ষা শেষে সবাই যার যার বাড়ি চলে গেলেও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য যাননি হাবিব।  সামনের একমাস একাই থাকতে হবে। হাবিব একটা বোতলজাত শ্যাম্পু কেনার মনস্থির করে কাছের দোকানে যান। গিয়ে দোকানদারের কাছ থেকে  শ্যাম্পুর দাম ও পরিমাণ সম্পর্কে জানতেই তিনি চমকে যান। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারের শ্যাম্পু সানসিল্কের ১৮০ মি.লি. বোতলের দাম ১৬৫ টাকা। আর ৩৭৫ মি.লি. বিক্রি হয় ২৯০ টাকায়। হাবিব সব সময় দুই টাকার যে মিনিপ্যাক ব্যবহার করেন তাতে ৬ মি.লি. শ্যাম্পু থাকে। এখনও বাজারে দুই টাকার সানসিল্ক মিনিপ্যাকে একই পরিমাণ শ্যাম্পু পাওয়া যায়। ৬ মি. লি. শ্যাম্পুর দাম ২ টাকা হলে তার দর অনুযায়ীই ১ মি. লি.’র দাম পড়ে ৩৩ পয়সা। সে হিসাবে ১৮০ মি.লি.’র বোতলজাত শ্যাম্পুর দাম হওয়ার কথা ৬০ টাকা। কিন্তু সেটি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায়। বোতলের গায়েই এই দাম লেখা। ইউনিলিভার বেশি নিচ্ছে ১০৫ টাকা! একই ভাবে ৩৭৫ মি. লি.’র দাম আসে ১২৫ টাকা। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ২৯০ টাকায়। এখানেও সাধারণ মানুষকে বেশি গুনতে হচ্ছে ১৬৫ টাকা। হাবিব বলেন, বেশি কিনলে দামে কম পড়ার কথা। সাধারণত অন্য জিনিস কিনলে সেরকমই হয়। আর এরা কিনা বেশি কিনলে বেশি দাম নেয়!’ এর আগে ইউনিলিভারের পণ্য ফেয়ার এ্যান্ড লাভলীতেও একই প্রতারণা ধরা পড়ে। তা নিয়ে বাংলা’য় একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে- গ্রামে গ্রামে ঠকাচ্ছে ফেয়ার এ্যান্ড লাভলী একইভাবে ইউনিলিভারের আরেকটি শ্যাম্পু ক্লিয়ার-এও গ্রাহকদের ঠকানো হচ্ছে। এটির ৫ মিলি মিনিপ্যাকের দাম ৩ টাকা। সে হিসাবে প্রতি মিলির দাম পড়ে ৬০ পয়সা। ৩৫০ মিলি বোতলের দাম হওয়ার কথা ২১০ টাকা। কিন্তু তারা বিক্রি করছে ৩৩০ টাকায়। প্রতি বোতলে ১২০ টাকা বেশি নিচ্ছে। ১৮০ মিলি’র দাম হওয়ার কথা ১০৮ টাকা, তারা বিক্রি করছে ১৯০ টাকায়। ৮২ টাকা বেশি নিচ্ছে। ৯০ মিলির দাম হওয়অর কথা ৫৪ টাকা; কিন্তু ইউনিলিভার খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে ৯৫ টাকা। ৪১ টাকা বেশি নিচ্ছে। এ বিষয়ে কনজ্যুমার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বাংলা’কে বলেন, ‘আসলে এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে আমাদের নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করার নেই। এটার জন্য বিএসটিআই কোনো তদারকিই করছে না।‘আমরা শুধু বিএসটিআইকে এ অনিয়মের জন্য জানাতে পারি। ব্যবস্থা নেওয়ার কাজটা তাদেরই করতে হবে,’ বলেন নাজের হোসাইন। এ ব্যাপারে ইউনিলিভারের মিডিয়াবিষয়ক কর্মকর্তা আজরিনের সাথে যোগাযোগ করা করে তিনি প্রশ্ন শুনেই ক্ষেপে যান। বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here