রুহুল আমিন গাজীর কোন তথ্য সঠিক?

0
547

মোল্লা নাসির উদ্দিন: দৈনিক সংগ্রাম এর চীফ রিপোর্টার রুহুল আমিন গাজীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ  পত্র  বিতর্কের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ফাঁস হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

Advertisement

জানা গেছে, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক হবার উদ্দেশ্যে তার জীবন বৃত্তান্তের সঙ্গে দাখিলকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র বিশ্ব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ছয় বছর আগের। দৈনিক সংগ্রাম এর সম্পাদক হওয়ার উদ্দেশ্যে গত ১ জানুয়ারী কর্তৃপক্ষের কাছে জীবনবৃত্তান্ত দাখিল করেন তিনি । তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সরকার ও রাজনীতি বিভাগে বি এ (অনার্স) ২০০১ এবং সমাজ বিজ্ঞানে মাস্টার্স ২০০২ উল্লেখ করা হয়। অথচ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত ২০০৬ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিকতার সময় ২০০৭। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক সনদ পত্রে তার নামের সঙ্গে গাজী ছিল। কিন্তু বিশ্ব বিদ্যালয়ের দু’টি সনদপত্রে গাজী উল্লেখ নেই। এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাব সদস্য চরিতাভিধানে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। সংগ্রাম কর্তৃপক্ষ এর আগেও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র তলব করলে তিনি দাখিল করেননি।

কারচুপি এবং পেশাগত অসদাচরণের দায়ে তাকে চীফ রিপোর্টারের পদ থেকে অব্যাহতি  দেয়ার কথা জানা গেছে। দায়িত্ব দেয়া হয়েছে স্টাফ রিপোর্টার সামছুল আরেফীনকে। পদের অপব্যবহার করে  রুহুল আমিন গাজী দুরভিসন্ধিমূলক কর্মকান্ড করতে না পারেন সে জন্য ব্যুরো প্রধান এবং ৬৪ জেলা প্রতিনিধিকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে এক সার্কুলারে।

এদিকে তার আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন বিলাসী জীবন যাপন, গাড়ির মডেল পরিবর্তন এবং পাহাড় পরিমান সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে সহকর্মীদের মধ্যে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গাজীর ব্যক্তিগত আক্রমনাত্নক, অশ্লীল ও  অপেশাদার সুলভ আচরণে দৈনিক সংগ্রাম কর্তৃপক্ষ বিব্রত। তিনি অফিসের এক জুনিয়র সহকর্মীকে বেয়াদব, বেয়াদবের বাচ্চা বলে গালি-গালাজ করায় সহকর্মীরা  ক্ষুব্ধ হন। কারো কোন কথা তাঁর পছন্দ না হলেই জোর চিৎকার করেন। ব্যক্তিগত আক্রমণ, এমনকি বাবা-মা তুলে গালাগালি করতেন। সর্বোপরি তার রূঢ় আচরণ অফিসের পরিবেশকে আরও জটিল করে তোলে। এ সব অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে দৈনিক সংগ্রাম কর্তৃপক্ষ  কমিটি গঠন করে। কমিটির সুপারিশে তার ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানা গেছে।

অপর দিকে চীফ রিপোর্টার পদ ফিরে পেতে সর্বোচ্চ দৌড় ঝাঁপ করেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে দেখা করার পর অব্যাহতির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে বলে  তিনি ঘনিষ্ঠদের মধ্যে প্রচার করছেন। গত কয়েক দিনে সংগ্রাম অফিসে গেলেও দীর্ঘ দিনের সহকর্মীরা তাকে এড়িয়ে চলেছেন। অব্যাহতির সিদ্ধান্ত  এখনও বহাল আছে বলে জানা গেছে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি গত বছর মুক্তিযোদ্ধা সদস্য সাংবাদিকদের সম্মাননা প্রদান করে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে তিনি কোন প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। ফলে তাকে সংবর্ধনা দেয়া সম্ভব হয়নি। চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সভায় প্রকাশ্যে বলেছেন, রুহুল আমিন গাজীর এ দাবি ভুয়া এবং মতলবী ।

প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অভিযুক্ত রুহুল আমিন গাজীর মতামত জানতে দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদককে অপরাধ বিচিত্রার পক্ষ থেকে গত ১১ এপ্রিল এক পত্রে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এখনও জবাব মেলেনি। রুহুল আমিন গাজীর মতামত জানতে তার মোবাইল ফোনে গত শুক্রবার এক ক্ষুদে বার্তা পাঠান হয়। এখনও জবাব পাওয়া যায়নি। পত্রিকার কর্ম পরিবেশ সম্পর্কে চীফ রির্পোটার সামচুল আরেফিন কোন মন্তব্য করতে রাজজি হননি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সার্টিফিকেট জালিয়াতির এই রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোরতর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জুরি কমিশন এব্যাপারে  অবগত আছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here