স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজধানী খিলক্ষেতে দিনে দিনে হারাচ্ছে সরকারি জমি ও মানুষের চলার রাস্তার এ যেন এক দখরের মহোৎসব। দখলবাজ, চাঁদাবাজ মিলেই গিলে খাচ্ছে খিলক্ষেতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলের জমি। প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় খিলক্ষেত বাজার রেলওয়ে সরকারি জমিতে প্রতিদিন সকাল ৬-৮টা পর্যন্ত পাইকারী কাঁচা বাজার বসে। যেখানে খিলক্ষেত থানার এলাকার নিচু গ্রামাঞ্চলে বরুয়া, ডুমনি, পাতিরা, তলনা, ঢেলনাসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে সাধারণ জনগণ ও আওমীলীগের গরীব লোকজন নিজেস্ব জমির সবজি টুকরিতে করে বাজারে বিক্রি করে। খিলক্ষেত থানার আওমীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে শ্রমিকলীগের সারোয়ার, লুঙ্গি বাহিনী খ্যাত প্রধান মাহবুবুর রহমান, কবির রাজ, ময়নাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক প্রতিদিন জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে আদায় করে।
খিলক্ষেত থানা এলাকায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা সাধারণ জনগণ প্রায় ৭/৮শ ইজি বাইকের মাধ্যমে খিলক্ষেত বাজারে চলাচল করে। প্রায় বেশিরভাগ ইজি বাইকের মালিক এবং চালক আওমীলীগের সমর্থক ও কর্মী। খিলক্ষেত থানার আওমীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসলাম বাহিনীর নেতৃত্বে ছাত্তার, স্বেচ্ছাসেবকলীগের জাহাঙ্গীর আলম রাজ, সিদ্দিক, নুরুজ্জামানের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা মাছ বাজার ও সবজি বাজার থেকে খিলক্ষেত থানার সাধারণ সম্পাদক আসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতি দোকান থেকে ১ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। তবে সরেজমিনে জানা যায় গত ২৪/০৩/২০১৮ ইং তারিখে আসলাম উদ্দিনের বন্ধু দিপুর গডফাদার মোঃ রেজাউল করিম, পিতাঃ আব্দুর রজ্জাক, গ্রাম-হারপুর, পোঃ কাটাবাড়ী, থানাঃ পতœীতলা, জেলাঃ নওগা। চোরাই ৬টি সিএনজি ও ৩ বস্তা সিএনজি পার্টস খিলক্ষেত থানার পুলিশের অভিযানে আটক করা হয়। তারপরও আসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে তা খালাস করে থানার ওসিকে ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে মাল নিয়ে যায়। যার একটি সিএনজি এখনো থানায় রয়েছে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ ৫ মাস আগে রেজাউল করিম একটি ভাড়া চালিত সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। নিল শ্রমজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর অন্তরালে গাড়ী চোর সিন্ডিকেটের এক মহোৎসব। শুধু তাই নয় মাদক, পতিতার ব্যবসা রমরমা বাণিজ্য। খিলক্ষেত থানার আওমীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসলাম উদ্দিনের নেতৃত্ব পাওয়ার পর থেকে সে অন্যায়ভাবে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের জোরপূর্বক রাস্তাঘাট বন্ধ করে রেখে খিলক্ষেত দক্ষিণ নামা পাড়া তালেরটেক নিবাসী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু তালেব গংদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জামায়াত নেতা এবং জামায়াতের বড় ডোনার আব্দুর রব, ও জামাত নেতা বরকত, কর্তৃক অবৈধভাবে দখলকৃত রাস্তার সমস্যা সমাধান করতে গেলে জামায়াত নেতা আব্দুর রবের পক্ষের মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আসলাম উদ্দিনের শক্ত অবস্থানে রাস্তার সমস্যা সমাধান করতে পারে নাই। পক্ষান্তরে আব্দুর রবকে দিয়ে গত ১৬/০৮/২০১৭ ইং তারিখে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা খিলক্ষেত থানা আওমীলীগ। এতে করে খিলক্ষেত থানার আওমীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসলাম উদ্দিনের মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজীর ফলে এলাকার সাধারণ জনগণের কাছে বাংলাদেশ আওমীলীগ তথা প্রশাসন ও সরকারের ভাব-মূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এব্যাপারে আসলাম উদ্দিনের নামে প্রধানমন্ত্রীর ক্রাইম সেল ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওমীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এ.কে.এম রহমত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ সাদেক খানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এদিকে অপরাধ বিচিত্রা’র অনুসন্ধানে জানা গেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের অবাধে চলছে রাজধানীর খিলক্ষেতে কয়েকজন কথিত নেতা আসলাম উদ্দিন নেতৃতে দীর্ঘ দিন ধরে মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছেন রাজনৈতিক ক্লাবে। আমাদের এখানে অনেকেই আসেন/থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আসলাম উদ্দিন এবং ৯৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুজ্জামান দরজীর মদতপুষ্ট ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ সহ-সম্পাদক মিজানুর রহমান মুকুল ওরফে ময়লা মুকুলের ছত্রছায়ায় ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং ইয়াবা সেবনকারী আক্তার হোসেন গতকাল ২৮/০৪/২০১৮ইং শনিবার আনুমানিক দুপুর ২টায় র্যাবের হাতে আটক হয়। গত দুইমাস আগেও আক্তার হোসেনকে ইয়াবা সহ খিলক্ষেত থানা পুলিশ গ্রেফতার করে পরে কোর্টে চালান দেওয়ার হয়। পর একমাস কারাভোগ করার পর ছাড়া পায়। ইয়াবা ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকে ছাড়ানোর জন্য খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আসলাম উদ্দিন মরিয়া হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে ইয়াবা ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকে খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের এর কোর্টে চালান করা হয়। সমপ্রতি মিজানুর রহমান, তানভির, রেজাউল করিম, কাজী মাসুমসহ ক্লাবে আরও অনেকেই অপরাধ মূলক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় আমরা সব শ্রেণীর মানুষকে ম্যানেজ করে চালাই। তবে এ বিষয়ে সত্যতা জানতে চাইলে এলাকাবাসী জানান এরা দীর্ঘ দিন যাবৎ এ ধরনের অসামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। পুলিশ মাঝে মধ্যে পুলিশের অভিযান চালিয়ে নিয়ে মামলা দিয়েছে। কিন্তু সিন্ডিকেট চক্রটি বার বার আইনের চোঁখের ফাক দিয়ে বেরিয়ে আবারো একই উপায়ে শক্ত ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা। চোখে পড়ে বাড়ির গেটে বিভিন্ন রকম যুবক-যুবতী ও মাদক ব্যবসায়ী চক্র। এ ব্যপারে খিলক্ষেত থানার অফিসার ইন-চার্জ ওসি শহিদুল হককে প্রায় প্রতি মাসে ২৬ লক্ষ টাকা মাসোহারা দিয়ে থাকে বলে একটি সূত্রে জানা যায়। একের পর এক হামলা, মামলা ও র্যাব অভিযান চালিয়েও বন্ধ করতে পারেনি এই অবৈধ মাদক ব্যবসা। এ ধরনের কুচক্রকে আইনের আওতায় এনে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় আনা হউক। ঐ ক্লাবের আসলামের দুই দেহ ব্যবসায়ীর (আইরিন ও মিতু) সাথে কথা বললে-তারা বলেন শুধু মাদকই নয় রয়েছে একাধিক অস্ত্র ব্যবসা। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রক এর গুলশান জোন এর কর্মকর্তার সাথে বারবার দেখা করতে চাইলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কয়েকবার অভিযান চালিয়ে খিলক্ষেত থানার ওসি অপারেশন অভিযান চালিয়ে গত ১৯/০৪/২০১৮ ই তারিখে আসলাম উদ্দিনের নাতি ৩৫০০ পিচ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী ও খদ্দরদের গ্রেফতার করেন। শুধু তাই নয়, খিলক্ষেত থানার মাদক ও পতিতা পল্লী থেকে শুরু করে সকল প্রকার অন্যায়মূলক কার্যক্রম বন্ধ করতে পারেনি ওসি শহিদুল হক। ঐ ক্লাবে অধিকাংশ মাদক সেবনকারীর কোন লাইসেন্স নেই। ক্লাবে দীর্ঘদিন যাবত মাদক, পতিতা ও মাদকের রাজা ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানে উত্তরা র্যাব-১ অভিযান চালায়। ঐ ক্লাবে নির্দিষ্ট কোন মাদকের ট্রেড লাইসেন্স নেই। এ ব্যাপারে খিলক্ষেতের সুশীল সমাজের লোকজন কুরুচিপূর্ণ কথা বলে-এখন আর আবাসিক নগরীতে বসবাস করা সম্ভব নয়। মাদকে ভাসছে দেশ, তেমনি খিলক্ষেতের অবৈধ মাদকের সিন্ডিকেট। যেখানে নিরিবিলি পরিবেশ থাকার কথা সেখানে হৈ-হুল্লোড় ও চেঁচামেচি যা বসবাসের জন্য অনোপযোগী হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন মহলের কাছে আবেদন আবাসিক নগরীতে যত্রতত্র অবৈধ মাদক স্পট ও আবাসিক হোটেলের নামে চলছে পতিতা ব্যবসা। ঢাকা মহানগর উত্তরে কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হউক।

