স্টাফ রিপোর্টার:
ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা কাদের শিপুর সীমাহীন দুর্নীতি দুদকের নোটিশ পেয়ে আরও বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা কাদের শিপু। গত দুই মাসে প্রায় দুই শত কোটি টাকা প্রদান করা হয় ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতুর জন্য অধিগ্রহণকৃত ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিকদের। সেই টাকার ৫% টাকা বিল নিতে সমস্যা না হওয়ার অযুহাত দেখিয়ে আত্মসাৎ করেন। উল্লেখ্য যে সকল ভূমি মালিক টাকা দিতে অস্বিকার করেছেন তাদের প্রায় ১ শত কোটি টাকা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই আছে। ধারনা করা হয় এযাবৎকাল প্রায় ৭/৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন কাদের শিপু।
একসময়ের শিবির নেতা কাদের শিপু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি স্টাডিজে অধ্যায়নরত অবস্থায় ছাত্রদল কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়ে হল ছাড়া হন। এরপর তিনি ছাত্রলীগে যোগদান করেন এবং এটাকে পূজি করে বিসিএস ৩০ তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে ঢাকার নবাবগঞ্জ ও তেজগাঁও সার্কেলে এসিল্যান্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তেজগাওঁ সার্কেলে থাকা কালিন সময়ে সরকারী স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি নামজারি দিয়ে ৫৭ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণের দায়ে গত ২৫/২/১৮ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন তাকে তলব করে (দুদক নোটিশ ও অভিযোগ পত্র)। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারী জমিতে হোটেল, রিসোর্টের নামে নামজারি এবং সরকারী জমিতে অবৈধভাবে ফাইভ স্টার হোটেল নির্মানের অভিযোগ রয়েছে। নবাবগঞ্জে কর্মরত অবস্থায় ক তালিকায় থাকা অনেক সম্পত্তি নামজারি করে বিপুল পরিমানের অর্থ উপার্জন করেন তিনি। লোকমুখে জানা যায় অতি কৌশলী এ কর্মকর্তা যেখানেই কর্মরত থাকেন সেখানে প্রভাবশালীদের সাথে আতাত করে যে কোন অনিয়মকে নিয়মে রূপান্তরিত করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকেন। শিপু নিজের ব্যাচের লোকদের সাথে অনেক প্রভাব খাটিয়ে এপর্যন্ত এলএ শাখা হতে দুইজন অফিসারকে বদলি করেছেন। সর্বশেষ গত কয়েকদিন আগে রাজউক ১ নম্বর শাখায় দায়িত্বরত তারই ব্যাচের সৎ ও মেধাবী অফিসার রোমানা ইয়াসমিনকে চ্যালেঞ্জ করে সরিয়ে উক্ত শাখার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক তাকে বলেছেন শিপু এতো বেশী তদবির করিয়েছেন যে এক প্রকার বাধ্য হয়েই তাকে এ শাখার দায়িত্বভার দিতে হয়েছে। এক নম্বর শাখায় রাজউকের পূর্বাচল লেক ও গুলশান লেকের ২ হাজার কোটি টাকার পেমেন্ট বাকি আছে বলেই এ কর্মকর্তাকে এখানে যতেই হবে। ঢাকার নতুন জেলা প্রশাসকের চোখের আড়ালেই একজন প্রভাবশালী সচিবকে দিয়ে তদবির করিয়ে সে এবং তার সাথে নবাবগঞ্জ ও তেজগাওঁ সার্কেলে কর্মরত দুর্নীতিবাজ দুইজন সার্ভেয়ার আতিক ও বজলুকে উক্ত শাখায় বদলির আদেশ করিয়ে তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন। ইতিপূর্বে এই দুই সার্ভেয়ারকে ঢাকার এলএ শাখায় সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগে এলএ শাখা হতে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে। কাদের শিপু মনে করেন টাকা হলেই নাকি দুদক ম্যানেজ করা কোন ব্যপারই না।

