ব্যবসায়ী নিলু’কে রড-হাতুরীপেটায় জখম! ভোলার সংখ্যালঘুদের মূর্তিমান আতঙ্ক কাউন্সিলর সোহাগের খুটির জোড় কোথায়?

0
356

বিশেষ প্রতিনিধি॥ ভোলার বোরহানউদ্দিনের সংখ্যালঘুদের আতঙ্ক উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আ’লীগদলীয় পৌর কাউন্সিলর ইবনে মাসুদ সোহাগ ফের বেপরোয়া হয়ে উঠৈছে। ওইজনপদের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর একের পর এক প্রতিনিয়ত নির্যাতনের স্টীমরোলার চালালেও কাউন্সিলর সোহাগের যেনো কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা।

Advertisement

সন্ত্রাসলীলা আর অন্যায় প্রশ্নে সোহাগ সর্বদাই যেনো ডেমকেয়ার। চোরাচালান,নারীবাজী,মাদক কারবার,দখলসন্ত্রাস,টেন্ডারবজী,খাদ্যে ভেজাল ব্যবসা এমনকি জঘন্যতম কর্মকান্ডে সর্বে-সর্বা সোহাগের শাসন আর শোষনের ভয়ঙ্কর তান্ডবলীলায় অতিষ্ঠ নির্যাতিত মানুষের কান্না যেনো শুনছেনা কেউ। অন্যায়-অত্যাচার শোষন,নিপীড়ন আর নিরীহ সংখ্যালঘুদের উপর জুলুমবাজীর শীর্ষশিখরে পৌছে দুর্ধর্ষ সোহাগ এখন নিজেকে সন্ত্রাসজগতের মুকুটহীন অধিপতি ভাবছেন। তার ভয়ানক নির্মমতার সর্বশেষ সংখ্যায় যোগ হয়েছেন-বোরহানউদ্দিনের পক্ষিয়া ইউনিয়নের ডাক্তার বাড়ীর যোগেশ ডাক্তারের পুত্র নিলু মন্ডল। এ বাহিনীর অত্যাচার সইতে না পেরে সোশ্যাল মিডিয়ায়সোহাগের অপকর্মের একটি পোষ্ট দেয়ার জের ধরে তার উপর দুইদফা হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাউন্সিলর সোহাগের নেতৃত্বে তার পোষা গুন্ডাবাহিনী হাতুরী,লাঠি আর রড দিয়ে নিলুমন্ডলকে দুইদফা পিটিয়ে জখম করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের হামলায় নিলুমন্ডলের সারা শরীর থেতলে যায়।

 তিনি এখন হাটতে পারছেনন। কথা বলতে গেলে ব্যাথায় চিৎকার দিচ্ছেন। গত শুক্রবার (২সেপ্টেম্বর) বর্বোরচিত এ হামলায় গুরুতর আহত নিলু’কে জেলাসদর ভোলা হাপাতালে ভর্তিকরা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীও ভিক্টিম নিলুমন্ডল’র মতে,ঘটনারদিন সকাল ১১টায প্রথমবার হামলা করা হয় বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের কার্যালয়ের সামনে এবং একইদিন বেলা সাড়ে ১২টায় দ্বিতীয় হামলাটি চালানো হয় সেখানকার সাবেক পৌর মেয়র মিলন মিয়ার বাড়ীর সামনের বালুমাঠে। এসময় ক্যাডাররা নিলুমন্ডলকে মেরে ফেলার চেষ্টা চালান বলে আহত নিলু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। নিলুমন্ডল জানান,ওইদিন সোহাগের নেতৃত্ব এ বাহিনীর ক্যাডার-ইকবাল,আবু কালাম’সহ ৫/৬ জনের দুর্বৃত্তদল তার উপর অতর্কিত এ হামলা চালায়। একপর্যায়ে নিজেকে রক্ষায় থানা অভ্যন্তরে প্রবেশ করেও নিলুমন্ডল পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাননি। নিলুমন্ডল জানান,সোহাগ বাহিনীর হামলার শিকার হয়ে গুরুত্বর আহত হলে পথচারীরা তাকে জেলাসদর ভোলার হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। তথ্যমতে,রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে সোহাগও নিজের জার্সি বদল করে নতুন গডফাদারের সান্নিধ্যে থেকে সংখ্যালঘুদের উপর আধিপত্য,দাপট আর নিপীড়ননের মাত্রা বাড়িয়ে দেন।

 এলাকায় রাজনৈতিকদলের সাংসদের আশীর্বাদপুষ্ট থাকার কারনে পাহাড়সম অপরাধ আর অপকর্ম করেও কাউন্সিলর সোহাগ যেনো সবসময় অধরাই থেকে যাচ্ছেন। সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানকালে বোরহানউদ্দিন উপজেলার শ্রেনীপেশার মানুষ সোহাগের অন্যায়কান্ডের বিস্তর অভিযোগ তুলে ধরেন। ওইজনপদের হিন্দুপল্লীর নানা পেশার ভুক্তভোগীরা সোহাগ ও তার বাহিনীর নির্মমতার এসব ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন,২০০১ সালে যখন বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় ছিলো তখন থেকেই এই সোহাগের উত্থান ঘটে। তখন ইবনে মাসুদ সোহাগ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদ বাগিয়ে নেন। বর্তমানে তিনি ভোল-পাল্টে স্থানীয় আ’লীগ দ্লীয় সাংসদ আলী আজম মুকুল’র ছত্রছায়ায় থেকে নিজের সন্ত্রাসকর্ম অব্যহত রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসবের সাথে এ সাংসদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সোহাগের এসব অপকর্ম আর আশীর্বাদপুষ্টে রেখে তাকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে,এধরনের অভিযোগের বিষয়ে নিজের কোনোপ্রকার সায় নেই বলে দাবী করেছেন,সাংসদ আলী আজম মুকুল। জানা গেছে,তৎকালীনসময়ে সেখানকার বিএনপিদলীয় সাংসদ হাফিজ ইব্রাহীমের আশীর্বাদ নিয়ে সন্ত্রাসী সোহাগ পুরো জনপদের সংখ্যালঘুদের উপর ত্রাসের রাজত্ত্ব চালাতো। সেইসময়ে সোহাগের নেতৃত্বে সবচেয়ে বেশী নারকীয়তা ঘটেছে হিন্দু অধ্যুসিত এলাকা পক্ষিয়ায়।

 তার স্বশস্ত্র বাহিনী স্থানীয় পক্ষিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে হিন্দুপরিবারের উপর লুটপাট চালাতো বলে অভিযোগের অন্ত:নেই। সেখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি-জমা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রন-ই ছিলো সোহাগের কব্জায়। বিএনপি জমানায় সোহাগ নিজের অন্যায়-অবিচারের কাজ সম্প্রসারন করতে ম্যাসেল ক্যাডারদের সমন্বয়ে একটি “হিটার বাহিনী” গড়ে তুলেন বলে সেখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তার এহেন কাজে প্রশাসনিকভাবে কোনো এ্যাকশান না হওয়ায় কালক্রমে সোহাগ বাহিনী যেনো আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। কোনোপ্রকার বাধা-বিপত্তি না থাকায় বর্তমানে এরা আরো সু-সংগঠিত একটি পিচাশ বাহিনীতে আবির্ভূত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

 বিএনপি জোট-জমানায় এরা পক্ষিয়া এলাকার হিন্দুসম্প্রদায়ের নেতা সর্বোজন শ্রদ্ধেয় ডাক্তার যোগেশ চন্দ্র মন্ডলের বাড়ীতে হামলা,গনলুট ও হিন্দু নারীদের সম্ভ্রমহানীরমত বর্ববরতম পৈচাশিক ঘটনা ঘটায়। ওইসময় ক্যাডাররা সেইবাড়ীর পূজো-প্রার্থনালয়সহ পুরো বসত বাড়ীতে লুন্ঠনশেষে তচনচ করে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। একই গ্রামের অপর বাসিন্দা শৈলেশ চন্দ্র মন্ডল জানান,এরা এতোটাই ভয়ঙ্কর যে, এদের হাত থেকে হিন্দু নারীরা-ও নিস্তার পায়নি। ওই এলাকার যোগেশ ডাক্তারের স্ত্রী বনোরানী মন্ডল বলেন,সোহাগের ছোবল থেকে রক্ষা পেতে আমাদের পরিবারের সকলে জেলা সদর ভোলায এসে আত্নীয়দের বাড়ীতে আশ্রয়ে থাকতাম।

একই গ্রামের বাসিন্দা- শৈলেশ মন্ডল,নিরঞ্জন,মালেক সর্দার,নবু মিজি ও রাজীব মিজিও সোহাগ বাহিনীর ক্ষমতার দাপট আর লুটপাটের চুলচেরা কাহিনী গনমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন। তারা বলেন- এভাবে ওই গ্রামের আরো বহু হিন্দুবাড়িতে হামলা ও লুটের মচ্ছব চালিয়ে উল্লাশ করতো সোহাগ বাহিনী। বোরহাউদ্দিন পৌর ৫ নং ওয়ার্ডে সোহাগের বসবাস থাকার সুবাদে সেখানকার হিন্দু পরিবারগুলোকেও জিম্মি করে ফেলেন এই সোহাগ। তার ভয়ে পৌরএলাকার কোনো হিন্দু পরিবার নির্যাতিত হলেও কেউ কোনোপ্রকার টু-শব্দ পর্যন্ত করতে সাহস করছেনা। বিএনপি ক্ষমতাকালে তখনকার সরকারদলীয় সাংসদ হাফিজ ইব্রাহিম’র

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here