বাড্ডার ও’সি ওয়াজেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যাবশ্যক থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি

0
935

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
ডিএমপি’র বাড্ডা থানার ও’সি কাজী ওয়াজেদ আলীর বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগ থাকলেও উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা রহস্যজনক নীরব। এমনকি খোদ ডিএমপি কমিশনারসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নীরবতা পালন করে চলেছে। যদিও বিগত দিনে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য পত্র-পত্রিকায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের আলোকে তথা তার অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবুও তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নীরবতা ভাঙ্গেনি। সচেতন সমাজে তার বিষয়গুলো আলোচিত-সমালোচিত হলেও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাড্ডা থানার ও’সি কাজী ওয়াজেদ আলী রয়েছেন বহাল তবিয়তে। যদিও তিনি বেশ কয়েকবার সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। তবুও তার অনৈতিক কর্মকান্ড থেমে থাকেনি।
বিগত দিনে কাজী ওয়াজেদ আলী ডিএমপি’র বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। উক্ত থানায় যোগদানের পর থেকে থানা এলাকাটির স্বাভাবিক চেহারার ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষণীয়। থানা কম্পাউন্ডে এলাকার চিহ্নিত অপরাধীদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। এলাকার চিহ্নিত খুনি, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে তার সখ্যতা এলাকাবাসীর আতঙ্কের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement

এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্কিত হওয়ার কারন বাড্ডা থানার ও’সি কাজী ওয়াজেদ আলী। তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা হলেও তার আচরণ সন্ত্রাসীদের মতো। সভ্য মানুষগুলো মনে করে অন্ধকার জগতের বাসিন্দা কাজী ওয়াজেদ আলীর মতো মানুষ আর যায়ই হোকে পুলিশের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সেবাদানকারী সংস্থায় থাকাটাই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি এই মহান পেশাকে স্পষ্টভাবেই বিতর্কিত করছেন।
ইতোপূর্বে তিনি যখন কাফরুল থানায় কর্মরত ছিলেন তখন তিনি যে ঘৃণ্য কর্মকান্ডগুলোর জন্ম দিয়েছিলেন তা উক্ত এলাকার মানুষ এখনো ভুলতে পারেননি। তিনি প্রভাবশালী মানুষদের হয়রাণী করতে ‘নারী’কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন। তখন পত্র-পত্রিকায় এসেছে তার ‘নারী হাতিয়ার’ জনৈকা হোসনে আরা হ্যাপী। উক্ত হ্যাপী ছিলেন ও’সি কাজী ওয়াজেদ আলীর গোপন রক্ষিতা। যদিও তিনি হাসপাতালের একজন নার্স হিসেবে পরিচয় দিতেন। তখন সংবাদ মাধ্যমগুলোর অনুসন্ধানে এসেছে, হোসনে আরা হ্যাপী একজন আলোচিত দেহপসারীণি। ও’সি কাজী ওয়াজেদ আলী সে সময় চাঁদাবাজীর উদ্দেশ্যে এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হোসনে আরা হ্যাপীকে দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রাণী করতেন।
কাজী ওয়াজেদ আলী যখন কদমতলী থানাতে ও’সির দায়িত্বে ছিলেন তখনও তিনি এলাকার এক চিহ্নিত দেহপসারিণী শারমিনকে ব্যবহার করতেন। সে সময়ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এসংক্রান্তে বহু সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এধরণের অগণিত অভিযোগ তার বিরুদ্ধে পুলিশ বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা অবগত থাকলেও কেন আজও পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় বা আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এটাই রহস্য।
কাজী ওয়াজেদ আলী বর্তমানে ডিএমপি’র বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উক্ত থানায় যোগদান করার পর থেকে থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অপরাধীদের দৌরাত্ম বহুগুনে বেড়ে গেছে। এলাকার অলিগলিতে ইয়াবার ছড়াছড়ি। মিথ্যা মামলা আর মিথ্যা মামলার হুমকী দিয়ে গ্রেফতার বাণিজ্য চলছে বলগাহীনভাবে। উক্ত থানার বেশকিছু সৎ কর্মকর্তা তার অনৈতিক কর্মকান্ডে বিরক্ত। কিন্তু অধঃস্তন হওয়ায় মুখবুজে সহ্য করা ছাড়া তাদের কিছুই করার নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে তাদের এই ধরণের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের সকলেরই একই বক্তব্য, কাজী ওয়াজেদ আলীর মতো পুলিশ কর্মকর্তার অধিনে থাকলে নিজেকে সৎ রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তের ব্যাপারে পক্ষপাতিত্ব করা হয়। কোনো মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেলে ও’সি নির্দিষ্ট অংকের টাকা দাবী করে বসেন। ফলে মামলার তদন্তের দায়িত্ব নিতে অনেক চিন্তাভবনা করে নিতে হয়। ও’সির টাকার চাহিদা পূর্ণ করতে হলে মামলার গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যায়। ফলে বহু মামলার সঠিক রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয় না। একারণে থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি লক্ষণীয়।
কাজী ওয়াজেদ আলী একজন অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হলে ও’সি কাজী ওয়াজেদ আলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যাবশ্যক বলে সচেতন মহল মনে করছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here