প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন (খোলা চিঠি): হতভাগা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান পিন্টু এর আকুল আবেদন

0
1458

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক,আওয়ামীলীগের তৃনমুলের কর্মী এবং ৯৮ সালের ১৭ মার্চ গণভবনে শিশু-কিশোর দিবসে জননেত্রী বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর হাতে পুরষ্কার পাওয়া এক হতভাগা ও অবহেলিত প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান পিন্টু এর আকুল আবেদন।

Advertisement

বরাবর,
মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী
গণভবন, ঢাকা।
বিষয়ঃ মাননীয়া প্রধান মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত প্রার্থী প্রসঙ্গে ।
জনবা,
যথাবিহীত সম্মান পূর্বক এই যে, আমি প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান পিন্টু, পিতা মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান, গ্রামঃ চরহোগলা (মুন্সিবাড়ী) পোঃ + উপজেলাঃ মেহেন্দিগঞ্জ,জেলাঃ বরিশাল । আমার বাস্তব জীবনে, বাস্তব ঘটনা বহুল সমস্যা জড়িত ইতিহাস নিয়ে বর্তমান যুগে প্রতিযোগীতা মূলক ভাবে জীবন- যাপন করিতেছি। সব সমস্যা জড়িত ইতিহাস তো আর লিখা যাবেনা, তবে বর্তমান সমস্যা নিয়ে আলোকপাত করিবো। সমাজের অন্য মা -বাবার ৫-১০ জন সন্তানের মত আমার ও উচ্ছ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে ইচ্ছা ছিলো, সুখে শান্তিতে সমাজে বাস করতে ইচ্ছে করে, গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সুখ- দুঃখের ভাগি হতে ইচ্ছে করে। কিন্তু আমরা মধ্য বিত্ত ঘরের সন্তান হওয়াতে তা আর সম্ভব হয়নি, তবুও এ পরিসরে অনেক কষ্টে ও প্রতিকুলতার বাঁধা বিপত্তি উপেক্ষা করে ১৯৮৮ ইং সালে ডিপ্লোমা-ইন- সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করি , ইনশাল্লাহ। পাশ করার পর বিজ্ঞপ্তি অনুসারে কাষ্টমে, ঢাকা ওয়াসাতে, বি এ ডি সি, বস্ত্র মন্ত্রনালয়ে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে, বি, জি. প্রেস. জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (দুইবার), বিআইডব্লিউটিএ এবং বেসরকারী অনেক সংস্থাতে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করি। কিন্তু কোথায় ও কোন স্থায়ী একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হল না। কিন্তু কেন হল না তারও ইতিহাস আছে। তবে এরই মাঝে ১৯৯০ইং সালে ঢাকা চট্রোগ্রাম মহাসড়কে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কন্সট্রাকশন কোঃ লিঃ (ইরকন) নামে একটি কোম্পানীতে কিছু দিন কাজ করি । কাজের মাঝে ঐ কোম্পানীতে কর্মরত অবস্থায় গ্রেডারে মারাত্মক এ্যাকসিডেন্ট হই। প্রায় ৮ (আট) মাস ক্লিনিকে চিকিৎসার পর সামান্য সুস্থ্য হয়ে বিশ্রামের জন্য বাড়ি যাই, তখন আল্লাহর রহমতে ও মা-বাবার দোয়ায় বেঁচে যাই, কিন্ত প্রায় ৬ বৎসর যাবত কোন কাজ করিতে পারি নাই, তাদের কাজ শেষ আমরাও শেষ। ঐ কোম্পানীতে কাজের মাঝে মাঝে সরকারী পর্যায়ে একটা চাকুরীর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাই। যখন সকল চেষ্টাই ব্যর্থ হল এবং এক পর্যায়ে সরকারী চাকুরীর বয়স চলে যায়। তখন ঐ সোনার হরিণের আশা একেবারাই ছেড়ে দেই। বর্তমানে বেকার, তবু একটা কাজের সন্ধান করে যাইতেছি কিন্তু কোথাও কিছু হচ্ছে না । বাবা চরহোগলা গ্রামের আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ছিল বর্তমানে বৃদ্ধ-অসুস্থ বিছানায় শয্যাশায়ী আমি বেকার, কর্ম নেই, তাই অর্থের অভাব, এই অর্থের জন্য বাবার চিকিৎসা করিতে পারিতেছিনা। তাই মাননীয়া প্রধান মন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন দয়া ও অনুকম্পার সাথে আমাকে যোগ্যতা অনুসারে একটা কর্ম দিয়ে সাহায্য করিবেন, যাতে সামান্যতম হলেও বাবার চিকিৎসা করিতে পারব, ইনশাল্লাহ। তাছাড়া স্ত্রী- সন্তান, ছোট ভাই-বোন, তাদের ভরনপোষন, চিকিৎসা, শিক্ষা, সেবা ও পুষ্টিকর খাদ্য যোগার করা আমার পক্ষে আপাততঃ সম্ভব হচ্ছেনা । কারণ কাজ নেই, আয়ও নেই তাই অভাব। এই অভাবের তাড়নায় মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন, পুষ্টিকর খাদ্যোর অভাবে দিন দিন কঠিন রোগের সম্মুখীন হচ্ছে এবং তার সাথে সাথে আমিও শারিরীক দূর্বলতা ও কর্মক্ষম হারিয়ে ফেলিতেছি। দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ ২১ বছর পর যখন ১৯৯৬ইং সনে ক্ষমতায় আসে । ১৯৯৭ ইং সালের মাঝামাঝি সময় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম ”বঙ্গবন্ধুর” ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উৎসব উপলক্ষে এক রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করার জন্য আহব্বান করছেন। তাই সেই আহব্বানের সাড়া দিয়ে ”বঙ্গবন্ধুর” ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উৎসব উপলক্ষ্যে ঐ রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করি। তাতে ”গ” বিভাগে ৩য় স্থান নির্ধারণ করে মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী আমাকে ১৭ই মার্চ ১৯৯৮ইং সালে গনভবনে প্রধানমন্ত্রী পুরুস্কার গ্রহন করার জন্য আমন্ত্রণ জানান। তার আমন্ত্রনে পুরস্কার গ্রহণের জন্য ১৭ ই মার্চ ১৯৯৮ইং গনভবনে শিশু কিশোর অনুষ্ঠানে পুরস্কার প্রধান করে তা আমি গ্রহন করি। পুরুস্কার হিসাবে একটি সনদ পত্র ও ৪টি মূল্যবান বই দেন। পুরস্কার প্রদানের সময় আমি আপাকে বলি, আপা আপনার সাথে একটু কথা আছে, সে বলিল পরে, তাই এই সাক্ষাতের উদ্যেগ। প্রায় ১৯/২০ বছর যাবত আপনার সাথে সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করিতেছি, হায়রে কপাল ! প্রবীন- বৃদ্ধ- অসুস্থ্য বিছানায় শয্যাশায়ী সাবেক আওয়ামীলীগের গ্রাম সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ্যের সৈনিক এবং আওয়ামীলীগের তৃর্ণমূল কর্মীর খোজ-খবর কেউ রাখে না। আল্লাহর অসীম রহমতে মা-বাবার, আর্শিবাদে যার আদর্শে- আদর্শবাদী হয়ে এই স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা মাথা উঁচু করে বেঁচে আছি, সে আজ আমাদের মাঝে নেই ১৯৭৫ইং সালে ১৫ ই আগষ্ট কুৃচক্রী নরপশু ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্ধ এবং ১০/১১ বৎসরে শিশু রাসেল কে সহ তারা হত্যা করে । এই হত্যার ঘৃণার ভাষা আমার জানা নেই। তাই তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করিতেছি। আদর্শচ্যুত হই নাই বলে আজ প্রতি পদে পদে ঘাত-প্রতিঘাত, অন্যায় অত্যাচার, বন্ধু- বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন থেকে পাইতেছি অকথ্যভাষা , দূরব্যাবহার ও ধিক্কার । এত কিছু জ্বালা যন্ত্রনা সবই নিরবে ধৈর্য্য ও সহ্য করে যাইতেছি, কারণ আল্লাহ পাক বলেছেন ধৈয্য ও সহ্যশীলকারীর সাথে আমি সব সময় থাকি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে আমার জীবনে আমাদের মেহেন্দিগঞ্জ, পাতারহাট মুসলিম হাই স্কুলের মাঠে এক মিটিংয়ে ১৫-২০ গজ দূর থেকে একবার দেখার সুযোগ বা সৌভাগ্য হয়েছিল,এই মহান নেতাকে ।

তারপর ১৯৭১ইং সাল যুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন আমার বয়স ১২-১৩ বছর হবে। আমি নানার বাড়ি থেকে লেখাপড়া করি। যুদ্ধ কি তা বুঝার তেমন বয়স হয় নাই। কিন্তু বড়রা সন্ধ্যার পর মিটিং এবং কানাগুসা করে কি যেন বলে তা টের পাই এবং তাদের চা-পান আনা নেওয়ার ব্যস্ত থাকি এরই মাঝে মেহেন্দিগঞ্জ থানার (পাতার হাট বন্ধরে) রাজাকার , আল -বদর , আল -সামস বাহীনি গঠন করা হয়েছে। তারা প্রতিদিন গ্রামে-গঞ্জে সাধারন মানুষের উপর অত্যাচার ও লুটতরাজ করিতে লাগলো। তখন তাদের কে প্রতিহত করার জন্য মুক্তিকামী মানুষ চিন্তায় পড়ে গেল। তখন গ্রামের সাধারন মানুষ,আনসার , বি ডি আর , সেনাবাহিনীর সদস্য নিয়ে মিনি মুক্তিবাহিনী গঠন করা হল। ঐ মুক্তিবাহিনী গোপালগঞ্জ জেলার কোটালী পাড়ার হেমায়েত বাহীনীর টেনিং প্রাপ্ত কুদ্দুস মোল্লার সাথে যোগাযোগ করে এক সময় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মিলে পাতার হাট বন্ধর আক্রমন করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই একদিন ১৮টি বড় সাম্পান করে কুদ্দুস মোল্লার বাহিনীর সন্ধ্যার পরে চরহোগলা ভূঁইয়া বাড়ির ঘাটে (ভূঁইয়া বাড়ী আমার নানা বাড়ি) নোঙ্গর করে। স্থানীয় মুক্তিবাহিনী তাদেরকে স্বাগত জানালো এবং তাদের চা- নাস্তা -পানির ব্যাবস্থা করা হলো। পরে রাতের খাবারের আয়োজন করা হলো। তাদের চা-পান-ভাতের আয়োজনে সহযোগীতায় আমি নিয়োজিত হলাম এবং ছোট হিসাবে যা করার প্রয়োজন তাই করতে হলো। খাওয়ার পর সামান্য বিশ্রাম এবং শেষ রাত্রে পাতার হাট বন্ধর আক্রমনের জন্য রওয়ানা দিলো। তাদের সহযোগী হিসাবে গুলির বাক্স মাথায় নিয়ে তাদের সাথে চলতে লাগলাম এবং নিদিষ্ট স্থানে পৌছে দিলাম । জীবন বাজি রেখে শত্রুর মোকাবেলা করে রাজাকারের রাইফেলের ভাটের আঘাত খাওয়া, দুপুরের খাওয়ার জন্য রান্না করা ভাত, ডাল দুধসহ রাজাকাররা ভূঁইয়া বাড়ীর সকল ঘর পোড়াইয়া দিল, দুপরে না খাওয়া এবং ঐ পোড়া মাটিতে রাত্রের বিশ্রাম ইত্যাদি অত্যাচারের পরও মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি না পাওয়া, এটাই জীবনের বড় দুঃখ! আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ্যরে সৈনিক, প্রধান মন্ত্রীর নিজের হাতে পুরস্কার দেওয়া এবং আওয়ামীলীগের তৃর্ণমূলের কর্মী হয়েও যোগ্যাতা অনুসারে একটা কর্ম পেলাম না। এটা ও কি কম দুঃখ! আমাদের তরুন প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধার মিথ্যা ইতিহাসের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে এবং স্বাভাবিক ভাবেই বিভ্রান্ত হয়েছে। কিছু কিছু তরুন প্রজন্ম সীমিত আকারে তথ্য চিত্র দেখেও মুক্তিযোদ্ধাদের কথা শুনে কিছু ইতিহাস জেনেছে। তা পর্যাপ্ত নয়। কিন্তু ব্যাপক ভাবে নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানতে হলে পুরস্কার হিসাবে আপনার দেওয়া অতি মূল্যবান যে চারটি বই প্রদান করেছেন তার সাথে আরও স্বাধীনতার বই সহ একটি ”বঙ্গবন্ধু স্মৃতি স্বাধীনতা পাঠাগার” ও একটি এতিম খানা প্রতিষ্ঠা করতে চাই, ইনশাল্লাহ। এই জন্য অপনার সার্বিক সাহায্য সহযোগীতা ও বুদ্ধি-পরামর্শ একান্ত প্রয়োজন। এর ফলে অন্তত পক্ষে ৪-৫ জন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে এবং বেকারের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। আর যদি সাহায্য সহযোগীতা নাই পাই তবে ঐ মূল্যবান বই গুলি ঘরের কোঠরে রেখেই বা কি লাভ?
পরিশেষে যুগ যুগ ধরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ্যে এবং ধৈয্য ও সহ্য করার ফলশ্রুতী হিসাবে মননীয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল অবেদন আপনার সাথে সাক্ষাতের মাধ্যমে উক্ত সমস্যাগুলির কথা ও অনুকম্পার সাথে সদয় বিবেচনা করে মা-বাবার সেবা ও চিকিৎসা এবং আমার ভবিষৎ জীবন যাপন করার জন্য স্থায়ী ভাবে একটা কিছু করার ব্যবস্থা করে দিবেন এই আশা রাখি, ইনশাল্লাহ। আমি ডিপ্লোমা-ইন-সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং সহধর্মীনি বি.এ পরীক্ষা দিয়ে ছিলো, তো ঘরে বাহিরে দু’জনেই বেকার, এমতাবস্থায় দুচিন্তায় দিনাতিপাত করেেিতছি। তার সাথে আপনার উছিলায় একটা কিছু হলে মা- বাবা, স্ত্রী-সন্তান , ভাই-বোন পাড়া-প্রতিবেশী, গরীব-দুখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাকী জীবনটা জনগনের খেদমত করে যেতে পারি, আল্লাহর কাছে সেই কামনা করি। আল্লাহ আমাদের সহায় হউন, আল্লাহ হাফেজ।

বিনীত নিবেদক

প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান পিন্টু
পিতা- মোঃ ছিদ্দিকুর রহামান
গ্রাম ঃ চরহোগলা (মুন্সিবাড়ী)
পোঃ+থানাঃ মেহেন্দিগঞ্জ
জেলাঃ বরিশাল
মোবাঃ ০১৭২৬৭৬০৫৪৯

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here