প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী-লীগ সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে

0
741
কামরুল হাসানঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী-লীগ সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ”মানুষের সুখের জন্য রাজনীতি করি।বাবার স্বপ্ন ছিল দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, তাদের পাশে দাঁড়ানো,তাই বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি। আমার নিজের কোন ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সেই উন্নয়নের ধারা যেন অব্যাহত থাকে তাই আপনাদের কাছে আমি নৌকায় ভোট চাই।
সাভার বিশ^বিদ্যালয় কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি এ কথা বলেন। সাভার পৌর মেয়র আলহাজ¦ আব্দুল গণির সভাপতিত্বে আয়োজিত পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: এনামুর রহমান, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের য্গ্মু সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির কবির নানক, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসেস হাসিনা দৌলা, সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজিব, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হাসান তুহিন, সাভার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মানিক মোল্লা প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ”শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে আমরা আটশত টাকা ন্যূনতম মজুরী থেকে আট হাজার টাকায় উন্নীত করেছি। কারও উস্কানিতে পা দিবেন না শ্রমিক সমাজ। যদি শিল্প না থাকে তাহলে আপনারা বেকার হয়ে গ্রামে ফিরে যাবেন। কাজেই শিল্প বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনাদের। ঢাকা-১৯ আসনে শ্রমিক দরদী সৎ মানুষ ডা: এনামুর রহমানকে প্রার্থী করা হয়েছে। আপনারা তাকে ভোট দিয়ে আবার পার্লামেন্টে যাওয়ার সুযোগ দিবেন। গার্মেন্টস শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কারখানা যদি চালু থাকে আপনাদের কর্মসংস্থান থাকবে। কিন্তু শিল্প বন্ধ হয়ে গেলে সবাইকে চাকুরী হারিয়ে গ্রামে চলে যেতে হবে। আমি জানি অনেক সময় অনেকে উস্কানি দেয়, কিন্তু বাস্তবতার সাথে মিল রেখে আমাদেরকে চলতে হবে। আমরা গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য হোস্টেল, ডরমেটরি ডে-কেয়ার সেন্টার নির্মাণ করে দিয়েছি। আপনাদের জীবন যাত্রা যেন উন্নত মানের হয় সে ব্যবস্থা করে দিয়েছি।তিনি আরও বলেন, ২১ বছর পর সরকার গঠন করে দেশ ও জনগণের সেবায় কাজ শুরু করি। এসময় শিক্ষা, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়ন করি। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিাবাদ ও দুর্নীতিতে দেশকে নিমজ্জিত করে। যার ফলে দেশে জরুরী অবস্থা জারি করা হলে দেশ অনেক পিছিয়ে যায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদেরকে ক্ষমতায় বসায়। আমরা সরকার গঠন করি। সরকারের ধারাবাহিকতা থাকায় আমরা আমরা দেশে উন্নয়ন করে যাচ্ছি। যার ফলে আমরা সমুদ্র বিজয় করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। মল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম, বৃত্তি দিচ্ছি। মায়েদের মোবাইল ফোনে উপবৃত্তির টাকা দিচ্ছি। কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দিয়েছি। প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী পথসভায় বলেন, আপনাদের সামনে যে প্রার্থীর জন্য ভোট চাইতে এসেছি সে রানা প্লাজা ধ্বসের সময় সবার জন্য চিকিৎসা সেবা উন্মুক্ত করে দিয়ে উদারতা দেখিয়েছেন। তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই। সেই কারণেই আমরা তাকে প্রার্থী করেছি। আমরা চাই যারা মানুষের সেবা করতে পারে, জনগণের সেবা করে, দুস্থ্য মানুষের পাশে দাড়ায় তারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করুক। আপনারা তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে সংসদে পাঠাবেন এটাই আপনাদের কাছে প্রত্যাশা। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মারা যাওয়ার পর আমি দেখতে গেলে আমাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি, বেড় করে দেয়া হয়েছে। এতো অপমান করার পরও শুধু বাংলাদেশের জনগণের কথা চিন্তা করে, তাদের সুখ শান্তির কথা ভেবে আমি আলোচনা সভায় তাদের সাথেও বসেছি। যেন একটি সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তার জন্য কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা থাকলে অধিক পরিমাণে কাজ আসবে, অধিক পরিমাণ বিনিয়োগ হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কোন কারণে যদি অশান্ত পরিবেশ সৃস্টি হয় তাহলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। আর কারখানা বন্ধ হলে মালিকদের কোন ক্ষতি হবে না। তারা এক ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসা করতে পারবে। ক্ষতি হবে শ্রমিকদের। আপনারা চাকুরী হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করবেন। সে কারণে আমি চাই প্রত্যেক শ্রমিক নিজের কারখানায় শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করেন। আমি আপনাদের পাশে আছি। আমার রাজনীতি বিত্তশালীদের জন্য নয়। আমার রাজনীতি কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের জন্য, যাদের জন্য আমার বাবা জীবন দিয়ে গেছে। আমার লক্ষ্য এদেশে শ্রমিক, কৃষক, তাঁতি, মজুরসহ সবাই ভালো থাকবে। উন্নত জীবন পাবে এটাই আমি করে যেতে চাই।তাই ২০৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করবে। উন্নত দেশ হিসেবে আমরা স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করব। তখন হয়তো আমি থাকবো না। এজন্য দু’ হাজার একশত সালের জন্য ডেলটা প্লান করে
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here