নারী কেলেংকারী মহা নায়ক আলী আজম বাবলা’র প্রতারণা অব্যাহত

0
1773

* প্রধানমন্ত্রীকে লেডি হিটলার উপাধি দানকারী, * ভূয়া তথ্য দিয়ে পত্রিকার ডিক্লারেশন, * ভুয়া ড. ও হাজার হাজার আবাসন গ্রাহকদের প্রতারনাকারী মাগুরার আলী আজম বাবলা যে কোন মুহুর্তে পালিয়ে যেতে পারে, * তার প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ে কক্সবাজার একটি পরিবার ধ্বংসের পথে।

Advertisement

প্রতারণাই আলী আজম বাবলার একমাত্র ব্রত। যে কারণে তার প্রত্যেকটি কাজ শুরুই হয় প্রতারণার মাধ্যমে। এভাবেই আলী আজম বাবলা বহুমুখী প্রতারণা করে  মাগুরা জেলা  বিএনপি’র প্রার্থী হতে সাবেক ভিসি এমাজউদ্দিনকে বাবা ডেকে এমপি হতে সচেষ্ট হয়েছেন। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং দু’টি মন্ত্রণালয়কে ধোঁকা দিয়ে বোঁকা বানিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির বিস্ময়কর ঘটনা ঘটিয়েছেন ওশান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও স্বাধীনমত পত্রিকার সম্পাদক খন্দকার আলী আজম ওরফে বাবলা। তার নানামুখী প্রতারণা এবং পিলে চমকানো জালিয়াতির অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দাখিলের পর জোর তদন্ত শুরু হয়েছে নতুন করে। এ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আলী আজম বাবলা  বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। মাগুরার প্রখ্যাত প্রতারক আলী আজম বাবলার বিভিন্ন প্রতারণার আংশিক চিত্র এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হল। কারণ তার জীবনের প্রতারণার কাহিনী এক সংখ্যায় লিখে শেষ করা যাবে না। আর এ জন্যই ধারাবাহিকভাবে তার প্রতারণার তুলে ধরা হলো। বিস্তারিত কাহিনী পড়তে চোখ রাখুন অপরাধ বিচিত্রা পত্রিকায়।

অবশেষে ওশান গ্রুপের এমডির বিরুদ্ধে মামলা করছে দুদক
ওশান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খন্দকার আলী আজম বাবলার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ স¤পদ অর্জন ও ভুয়া তথ্য দিয়ে পত্রিকার ডিক্লারেশন চাওয়ার অভিযোগ দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণ হওয়ায় সম্প্রতি কমিশন এ অনুমোদন দেয়। সোমবার দুদকের উপসহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মামলা অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন মামলাটি করা হবে বলেও জানান তিনি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ওশান গ্রুপের এমডি মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি পত্রিকার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। সেখানে তিনি যেসব তথ্য দিয়েছেন তা ভুয়া। এমন অভিযোগ দুদকে এলে তা যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানে এসব অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় দন্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪২০ ধারায় মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। খন্দকার আলী আজম বাবলার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত স¤পদের অভিযোগও অনুমোদন করা মামলায় রয়েছে বলেও জানান তিনি। অবৈধ স¤পদের পরিমাণ জানতে চাইলে অনুসন্ধান কর্মকর্তা জানান, মামলা করার পর তা জানানো হবে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে
লেডি হিটলার উপাধী ঃ
জালিয়াতি করে ডিক্লারেশন এবং মিডিয়াপ্রাপ্ত তার পত্রিকা ‘দৈনিক স্বাধীনমত’ এ গত ১১ মে ২০১৩ ইং তারিখে “একবিংশ শতাব্দীর লেডি হিটলার” শীর্ষক উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীসহ দেশ-জাতির ভাব মর্যাদা বিনষ্টের অপপ্রয়াসও চালিয়েছেন। পত্রিকাটির উল্লিখিত সংখ্যা বিএনপি অফিসসহ জাতীয়তাবাদী ঘরানার নেতা-কর্মীদের কাছে বিনামূল্যে পৌছে দেওয়া হয়। জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা জেলা বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র বাগিয়ে নিতে তিনি বিভিন্ন কৌঁশল কাজে লাগানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
আলী আজমকে রক্ষা করতে প্রশাসন ও আ’লীগ নেতাদের প্রচেষ্টা ঃ
সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মহাজোট সরকারের ভাবমর্যাদা ম্লান করার নীলনকশা বাস্তবায়নের মিশনে নিয়োজিত ভূয়া ডক্টর আলী আজম বাবলাকে রক্ষায় সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছে খোদ আওয়ামীলীগের বেশ ক‘জন নেতা-পাতি নেতা। এ ব্যাপারে পিছিয়ে নেই ঢাকা জেলা প্রশাসকের দপ্তর। সূত্রটি আরও জানায়, আলী আজম এর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সাংবাদিকতা পেশায় অভিজ্ঞতা না থাকা সত্বেও ডক্টরেট পরিচয়ে তিনি এ পত্রিকার সম্পাদক এবং প্রকাশক হবার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমলে নেন। একইসাথে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ঢাকার জেলা প্রশাসক পত্রিকাটির ডিক্লারেশ বাতিল এবং আলী আজমের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ আমলে নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের পদক্ষেপ নিলেও তা শুধুমাত্র তদবিরের জোরে থেমে গেছে। যার কারণে গত দেড় বছরেও জেলা প্রশাসক এর সেই চিঠির আর কোনো কার্যকারিতা দেখা যায়নি। সূত্রটি আরও জানায়, কোটি টাকার মিশন নিয়ে কালো টাকার ডিপো ওশান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্বাধীনমত সম্পাদক ও প্রকাশক আলী আজম সফলকাম হয়েছেন। সে জন্যই ভূয়া তথ্যের ভিত্তিতেই  পত্রিকাটি মিডিয়া তালিকাভুক্ত হবার পরও রাষ্ট্রীয় সকল সুবিধা এবং সম্পাদকীয় মর্যাদা ভোগ করছেন এই ভয়ঙ্কর মাফিয়া ডন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলী আজম ঢাকা জেলা প্রশাসক, তথ্য ও চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি), পুলিশের বিশেষ শাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূয়া তথ্য সরবরাহ এবং কৌঁশলে ম্যানেজ করে তদন্ত প্রতিবেদন অনুকূলে বাগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং দু’টি মন্ত্রণালয়কে ধোঁকা দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে স্বাধীনমত পত্রিকার ডিক্লারেশন, মিডিয়ালিস্ট এবং জেলা প্রশাসনের দপ্তরের ম্যানেজ হবার বিষয় তদন্তে প্রাধান্য পাচ্ছে। জানা গেছে, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তৎপরতায় ধুরন্ধর আলী আজম নানামুখী তদবিরের পাশাপাশি দেশ থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছেন। গোপনে বিদেশে পালিয়ে যাবার সুযোগ কাজে লাগাতে তার ভয়ঙ্কর অপরাধ জগতের অন্যতম সাহায্যকারী হিসেবে বহুল পরিচিত মহিউস সগীরকে নিয়োজিত করেছেন।
অপরাধ ধামাচাপার কৌশল ঃ
আলী আজম একজন প্রখ্যাত চাপাবাঁজ। জানা গেছে, একসময় সে সিনেমার টিকেট কালোবাজারী করতো। পরবর্তীতে সে হকারী ও মুদি দোকানদারী করতো, থাকতো ফকিরাপুল ও বাসাবো এলাকার মেসে। সিনেমার টিকেট কালোবাজারী করতো খুলনা ও যশোরে। পরে সে গার্মেন্টেস এ হেলপারের চাকরি নেয়। ফলে তার চাপার জোর মজ্জাগত।  তাই তিনি দিনরাত ২৪ ঘন্টা মিথ্যা কথার ওপর চাপা চালিয়ে যেতে পারে। সেকেন্ডের মধ্যে মিথ্যা বানিয়ে ফেলতে পারে। আর তার মিথ্যা কোনো ছোটখাটো মিথ্যা নয়, সে সব সময় বড়বড় মিথ্যা দিয়ে উপস্থিত শ্রোতাদের তাক লাগিয়ে দেয়। শুনে কেউ আশ্চর্য হয়, কেউ মিথ্যা বুঝতে পেরে মাথা নিচু করে থাকে। তিনি প্রায় বলে বেড়ায় ‘মাঝে মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কথা হয়।’ ‘টিভিতে তার টক শো ভাল হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ফোনে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’ ‘প্রধানমন্ত্রীর বাসায় রান্না হয় না, তার সরবরাহ করা মাছ না হলে।’ ‘স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টুকু তার সরবরাহ করা দুধ খেয়ে বেঁচে আছেন।’ ‘এবার খালেদা জিয়া তাকে নমিনেশন দিতে তার বাসায় এসে তার স্ত্রীর হাত ধরে অনুনয় করে হলেও তাকে তিনি রাজি করাবেন!’ তার শিক্ষাগত যোগ্যতার ফিরিস্তি যেমন পিলে চমকানো, তার চাকরি জীবনের ফিরিস্তিও ঠিক তেমনি। যেমন-বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানি ওলমার্ট, জেসিপিন, সিয়ার্স, মবিল ও ইয়াং ওয়ান। তিনি বলে বেড়ান এসব কোম্পানিতে তিনি ছিলেন টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর! চাকরিকালীসময় হলো ১৯৮৭ থেকে ২০০২ সাল। আর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘নাসা’য় চাকরি করেছে ২০০২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত!!  এছাড়াও প্রথম আলো পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার কিছুদিন পর তিনি বলতে থাকেন, সম্পাদক মতিউর রহমানের সাথে তার কথা হয়েছে। মতিউর রহমান তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। প্রথম আলো পত্রিকার মাগুরা প্রতিনিধি কবির তার পায়ে ধরে মাফ চেয়েছেন ইত্যাদি।  রবীন্দ্রনাথসহ দেশ বিদেশের এমন কোনো বড় বড় ব্যক্তি নেই যাদের জীবনের প্রতিটি ঘটনা দিন-তারিখ-মিনিট-সেকেন্ডসহ উল্লেখ করে সে বলে দিতে পারে না! শ্রোতারা তো আর তার কথা বলার সময় ডিকশনারি বা প্রামাণ্য বই নিয়ে বসে থাকেন না, যে তার ভুল ধরবে। তাই সবাই চুপ করে থাকেন, অথবা মিথ্যা বলা হচ্ছে জেনেও ভদ্রতার খাতিরে মিথ্যা হজম করেন। তার অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার বড় কৌঁশল হলো প্রথমে কালো টাকা ছড়ানো। প্রয়োজনে মেয়ে সাপ্লাই দেয়া। জানা গেছে, সাংস্কৃতিক বলয় গড়ার নামে মেয়ে ধরা এবং সাপ্লাই দেয়া তার অপরাধ করার বড় কৌঁশল। চব্বিশ ঘন্টা মেয়েদের নিয়ে তার কারবার। আরেকটি কৌঁশল হলো, টাকা দিয়ে নিজে এওয়ার্ড নেয়া এবং অন্যদের এওয়ার্ড দেয়ার ব্যবস্থা করা। আলোচনা সভা বা সেমিনার বা যে কোনো ব্যানারে অনুষ্ঠান করা। এসব অনুষ্ঠানে যে কোনো মূল্যে সমাজের উচুস্তরের লোকদের আনা। কখনও মন্ত্রী, কখনও আমলা, কখনও মানবাধিকার সংস্থার লোকজন, কখনও সাবেক বিচারপতি, কখনও পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের অতিথি করে আনা হয়। সূত্রটি জানায়, তার আরেকটি কৌঁশল হলো, ক্ষমতাশীন দলের কাউকে না কাউকে কোম্পানিতে ডিরেক্টার করে বা বড় চাকরি দিয়ে রাখা।
নিজের সাজা অন্যকে খাটালেন যেভাবে ঃ
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৫ সালের একটি অর্থ আত্মসাত সংক্রান্ত প্রতারণা মামলায় মাগুরা নালিশি আদালতে তার ২ বছর ৩ মাসের সাজা হয়। সাজা ঘোষণার ৫ বছর পর ২০১১ ইং সালের ২০ সেপ্টেম্বর উক্ত আলী আজম আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। দু’দিন পর তার পক্ষে  জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করা হয়। অথচ আপিল শুনানি শুরুর আগে রহস্যজনকভাবে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তীকালে আলী আজমের নাম-পরিচয়ে অন্য একজন কারাগারে যান। এ জন্য প্রতারক আলী আজম মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করেছেন বলে এলাকায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। তবে কারাগারে আসামীর নথিতে সংরক্ষিত আলোকচিত্র ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে ২০১২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো পত্রিকায় ‘প্রতারণা মামলায় প্রতারণার অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এ ঘটনায় মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ মুখ্য বিচারিক হাকিম মোঃ আবু সাঈদ জোয়ার্দারকে প্রধান করে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সামনে হাজির হতে আলী আজমকে নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি উচ্চ আদালতে রিট করে ওই তদন্ত কাজ স্থগিত করে রেখেছেন বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই দাপ্তরিক কাজে প্রতারক আলী আজম তার মাগুরার ঠিকানা ব্যবহার এড়িয়ে চলছেন বলে সূত্রটি জানায়।
পিতৃ পরিচয়ে বিভ্রাট ঃ
বহুমুখী প্রতারক আলী আজমের একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। একটি পরিচয়পত্র নং-২৬৯৭৪০৮৮৯৬০৫। এতে তার নাম খন্দকার আলী আজম, পিতা-মৃত আব্দুস সামাদ ও মাতা মৃত আমেনা বেগম। অন্য আইডি কার্ড নং-১৫৯৬৫৪০২৭৫৬৬১। এতে নাম আলী আজম হলেও পিতা ও মাতার নাম একই রয়েছে। তার সহোদর অহিদুর রহমান টগরের জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৫৫২৫৭০৯১৫৭২৩৭। পিতা-মাতার নাম একই। সূত্রমতে, তার একাধিক পাসপোর্ট থাকারও অভিযোগ রয়েছে। জালিয়াতি মামলায় ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুবিধার্থে একাধিক পাসপোর্ট নিতেই কি এই আলী আজম বাবলা ‘খন্দকার’ উপাধী ও পিতার নাম শফি উদ্দিনের পরিবর্তে ‘আব্দুস সামাদ’ ধারন করেছে। ব্যবহার করেছে একাধিক স্থায়ী ঠিকানা? যে লোক মাগুরা জেলা আদালতের সাজা থেকে বাঁচতে বিদেশে পালিয়ে যায়। আলাদ্বীনের চেরাগ পাওয়ার মত রাতারাতি ধনী (!) হয়ে বিচারক ও আইনজীবীদের নিজের পক্ষে রাখতে মাগুরা জেলা আইজীবী সমিতির ভবন নির্মাণে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেয়। সিনে-স্টাইলে নিজের পরিবর্তে অন্য আরেকজনকে আলী আজম বাবলা সাজিয়ে জেলে পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে আবার জামিনে বের করে আনে। তার পাসপোর্ট এখনো জব্দ করা হচ্ছে না কেনো? এর খুঁটির জোর কোথায়?
মুক্তিযোদ্ধা দাবী ঃ
আলী আজম নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন। অথচ তার নিজের লেখা জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ১৯৬১ সালের ৩ এপ্রিল। এ হিসেবে ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল মাত্র নয় বছর আট মাস। এতে করে তার মুক্তিযোদ্ধা দাবিটিও প্রশ্নবিদ্ধ।
নিজেকে উচ্চ ডিগ্রীধারী দাবী ঃ
প্রতারক আলী আজম নিজেকে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী দাবি করে পত্রিকার প্রিন্টারস লাইনে তা লিখছেন। তিনি ‘যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন দাবি করেন। যার প্রেক্ষিতে ২০১২ সালের শুরুতে ব্যাপক প্রচারণাও চালানো হয়। অথচ, ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় নামে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব পৃথিবীতে নেই। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা বিশ্বের অন্যতম বিদ্যাপিঠ। আলী আজম এসএসসি, উচ্চমাধ্যমিক, অনার্সসহ কোন প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় পাস নন বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বোর্ড এবং স্থানীয়দের উদ্ধৃতি দিয়ে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রথম আলো পত্রিকায় ২-১-১২ ইং এবং ২৬-২-১২ ইং তারিখে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং অপরাধ বিচিত্রা’য় তথ্যানুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পরও সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না রহস্যজনক কারণে।
ওশানগ্রুপ জালিয়াতির আখড়া ঃ
ওশান গ্রুপ এর আড়ালে প্রতারক আলী আজম মূলত বহুমুখী জালিয়াতি ব্যবসা রমরমাভাবে করছেন। জানা গেছে, ওশান গ্রুপের প্রজেক্ট রয়েছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, কক্সবাজার ও ঢাকার গান্দারিয়া এলাকায়। এই প্রজেক্টগুলোর বিভিন্ন জায়গায় শোভা পাচ্ছে চটকদার সাইনর্বোড। তার এ প্রজেক্টের জন্য রয়েছে শতাধিক দালাল। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সাইবোর্ডগুলোর ৯৫ ভাগ ভাঁড়ায় নেওয়া জমিতে স্থাপিত। ৩ হাজার ৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে মাসে মাসে প্রতিটি সাইনবোর্ডের জন্য জমির মালিককে দেওয়া হয়। বিনিময়ে তাদেরকেও বলতে হচ্ছে,“এই জমি ওশান গ্রুপের”। যেখানে শুধু অফিস বা কিছু কিছু স্থাপনা করা আছে শুধু সেটুকুই ওশানের জমি। প্রতিটি প্রকল্পের সিংহভাগ জমি ভাঁড়া নেওয়া। আর ওশান গ্রুপের কর্ণধর আলী আজম শত শত গ্রাহকের সাথে এভাবেই প্রতারণা করে চলেছেন। ইদানিং অবশ্য মানুষ টের পেয়ে জমি ফেরত দিয়ে টাকা তুলে নিতে মাসের পর মাস ঘুরছে। ওশান সিটির ক্যাশ চেক নিয়ে ব্যাংকে ধর্ণা দিয়ে পাওনাদারা টাকা পাই না।
সাংবাদিক-কর্মচারীদের বহিস্কার ঃ
প্রতারক আলী আজমের দৈনিক স্বাধীনমত পত্রিকার সাংবাদিক ও কর্মচারীরাও বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। জানা গেছে, পত্রিকাটিতে ৭১ জন সাংবাদিক কর্মচারি ছিলেন। মিডিয়াভুক্তির পর ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ ছাড়াই তাদের বিদায় করে দিয়েছেন। শুরু থেকে এ পর্যন্ত সরকারী বিধান অনুযায়ী ওয়েজবোর্ড অনুসরণ তো দূরের কথা, ঠিকভাবে বেতন দেন না। এমনকি কোন কারণ ছাড়াই সাংবাদিকদের মৌখিক নির্দেশে চাকুরিচ্যুত পত্রিকাটির স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। যার ফলে বর্তমানে স্বাধীনমত পত্রিকায় পেশাদার কোন সাংবাদিক নেই বললেই চলে। সূত্রটি আরও জানায়, আলী আজম তার প্রতারণা ধামাচাপা দিতেই ‘স্বাধীনমত’ পত্রিকার মালিক ও সম্পাদক হয়েছেন। এমনকি ১২৩ নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করে পত্রিকাটি হাতেগোনা কয়েকটি কপি বর্তমানে প্রকাশ করলেও উল্লিখিত ঠিকানায় এ পত্রিকা অফিসের কোন অস্তিত্ব নেই। ওয়ার্ল্ডজিম নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ভাড়াটিয়ার নিকট থেকে সাবলেট নিয়ে পত্রিকাটির অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হতো। দু’মাস আগে তারা সেখান থেকে চলে গেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। সূত্রটি আরও জানায়, আলী আজমের এসব অপকর্মের প্রধান সহযোগী হচ্ছেন মহি-উস-সগীর। তিনি বহুমুখি প্রতারক আলী আজমের সব অপকর্মের প্রধান সহযোগী। সুষ্ঠুভাবে অপকর্মে সহযোগিতার পুরস্কার হিসেবে এ পত্রিকার মহা-ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। জানা গেছে, যদি কোন পাওনাদার অফিসে যায়, তাহলে তাদেরকে উক্ত মহা-ব্যবস্থাপক মহি-উস-সগীর ভয় দেখান এই বলে যে, ডিএমপির একজন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পত্রিকার সম্পাদক এর ব্যাপক ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।
কাজ ফুরালেই পাজি ঃ
গ্রাম বাংলায় একটি প্রবাদ আছে যে, কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালেই পাজি। আলী আজম এর দর্শনও তাই। এসব লোকদের যাকে যতক্ষণ কাজে লাগানো প্রয়োজন ততক্ষণ কাজে লাগাবে, কাজ যখন শেষ তাকে আর তার দরকার নেই। মিনিটের মধ্যে তাকে সে ভুলে যাবে। শুধু তাই নয়, তার কোম্পানিতেও ১ জন ডিরেক্টর ও ২ জন কর্মকর্তা ছাড়া পুরাতন কোনো লোক নেই বলে জানা গেছে। কোম্পানিকে মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য যখন যাকে আনা দরকার তাদের কাউকে চেয়ারম্যান বানিয়ে, কাউকে ডিরেক্টরও বানিয়ে নিয়ে আসবে। সেই সব ব্যক্তিদের কাছ থেকে তার নিজ স্বার্থ উদ্ধার হয়ে গেলে,  অপমানজনকভাবে তাদেরও বিদায় করে দেওয়া হয়। যেমন জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীকে ডিরেক্টরও বানিয়ে আনা হলো, যেই তাদের কাছ থেকে স্বার্থ শেষ তারাও শেষ। মানিকগঞ্জের পৌর চেয়ারম্যান রমজান আলীকেও স্বার্থসিদ্ধির জন্য নিয়ে আসেন। কিন্তু যেই স্বার্থ শেষ রমজান আলীও শেষ। এ ধরনের আরও অনেক উদাহারণ আছে।
তার নারী কেলেঙ্কারির
সহযোগী সগিরও ক্ষুব্ধ ঃ
আজমের নারী কেলেংকারির শেষ নেই। আজমের অবৈধ শয্যাসঙ্গী নৃত্যশিল্পী (নামের আধ্যক্ষর ‘ই-এবং তার মাকে গুলশানের একটি বিলাসবহুল বাড়িতে দেখাশুনা করেন সগির নামের তার এক সহযোগী। সগির এখন স্বাধীনমত পত্রিকার জিএম। রাজধানীর গুলশানের একটি ব্যয়বহুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত এ শিল্পী এবং তার মা আজমের যৌনসঙ্গী বলে জানা গেছে। একইভাবে ‘জঁ-আধ্যক্ষরের একজন কণ্ঠশিল্পীকে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর একটি বিলাসবহুল ভাঁড়া বাসায় রেখে বেলেল্লাপনায় মেতে থাকছেন আজম। এ বাসার সব খরচ তিনি দেন সগিরের মাধ্যমে। গুলশান, মিরপুর ও বনানীসহ রাজধানীর বেশ কয়টি এলাকায় সে নারীদের রাখেন। তাদের সব ব্যয় বহন করেন আলী আজম। আজমের নারী কেলেঙ্কারি নিয়ে তার পরিবারে অশান্তিও কম নয়। তার নারী কেলেঙ্কারির ভিডিও অনেকের হাতেই আছে। দেশের বাইরে বা ঢাকার বাইরে গেলেই পরিবারসহ সকলেই ফিসফাঁস করেও খবর নেয় ‘মাল’ কটা সঙ্গে নিয়েছে। তার টার্গেট মেয়ে একটা থাকলেও লোক দেখানোর জন্য নিয়ে যায় ২/৩টা মেয়ে। এগুলো সব তার ‘ঐ’ কাজের পাহারাদার। আর অন্যদের বুঝানো হয় ২/৩টা মেয়ে নিয়ে তো আর সবার সামনে আকাম করা যায় না!
এদিকে সগিরের ঘনিষ্ঠজন সূত্রে জানা গেছে, তার ক্ষোভের কথা। সগির তাদের বলেছেন যে, ওশান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস পদ থেকে তাকে স্বাধীনমত পত্রিকায় বিশেষ এসাইনমেন্ট দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। শর্ত ছিল কর্মরত ৭১ জন সাংবাদিক, কর্মকর্তা শ্রমিককে পাওনা পরিশোধ ছাড়াই বিদায় করে দিতে পারলে পুরস্কার স্বরুপ তাকে কোম্পানির পরিচালক করা হবে। প্রাথমিকভাবে নিয়োগ দেয়া হবে পত্রিকাটির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে। সগির শর্তানুযায়ী সবাইকে খালি হাতে বিদায় করে দিতে পেরেছে সফলভাবে। এমনকি স্বাধীনমত পত্রিকার সাবেক মালিক আসাদুজ্জামানের বিশেষ অনুরোধ সত্বেও আনিসুর রহমান নামের একজন সাবএডিটর (মফস্বল) কেও বিদায় করে দেয়া হয়েছে। পত্রিকাটিতে এখর আর কোন সাংবাদিক কর্মচারি নেই। কিন্তু আলী আজম ওয়াদা রক্ষা করেননি। ফলে সগির এ পত্রিকায় আর সেবাদান করতে আগ্রহী নন বলে সূত্রে জানা গেছে। আগামী সংখ্যায় কক্সবাজার প্রতারণা করে বিয়ে অপকর্মের বিষয়ে তুলে ধরা হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here