নবীর যুগের ইতিহাস

0
597

অপরাধ বিচিত্রা:(সংকলন) মহানবী (স) এর জীবদ্দশায় তার তত্ত্বাবধানে প্রথম পূর্ণ কুরআন লিপিবদ্ধ হয়। কিন্তু এগুলো এক জায়গায় একত্রিত করা হয়নি। প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর রা.-এর যুগে দ্বাদশ হিজরি সালে ইয়ামামার যুদ্ধ সত্তর জন হাফেজে কুরআন শাহাদাত বরণ করেন।এতে হযরত ওমর রা. উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি খলিফা আবু বকর রা.-কে বলেন, “এভাবে জিহাদে হাফেজগন শহীদ হতে থাকলে কুরআনের অনেক অংশ বিলুপ্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। অতএব, আপনি কুরআন মাজিদ একত্রে সংকলনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।” প্রথমে আবু বকর রা. রাজি না হলেও ওমর রা. এর অনুরোধে রাজি হন। কুরআন সংরক্ষণের এ দ্বায়িত্ব রাসূল স. এর যুগের ওহি লেখক সাহাবি যায়েদ ইবনে সাবেত রা. এর উপর প্রদান করা হয়। যায়েদ ইবনে সাবেত রা. নিজে হাফেজে কুরআন ছিলেন। তিনি কুরআন সংকলন করার ব্যাপারে দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করেন। একটি হলো-কুরআনের আয়াতটি সংশ্লিষ্ট সাহাবা মুখস্থ বলবেন, অপরটি হলো তিনি মহানবী স. এর যুগে লিখিত ঐ আয়াতটি প্রদর্শন করবেন। তিনি লিখিত ছাড়া কুরআনের আয়াত সত্যায়নের জন্য যথেষ্ট মনে করেননি। তিনি বহু যাচাই বাছাই করতঃ সাহাবায়ে কেরামের নিকট রক্ষিত রাসুলুল্লাহ স. এর জীবদ্দশায় লিখিত বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি থেকে সে সময়ের আবিষ্কৃত বিশেষ কাগজে গ্রন্থাকারে কুরআন লিপিবদ্ধ (যা সউফ নামে পরিচিত) করেন। লিপিবদ্ধ কুরআনটি হযরত আবু বকর রা.-তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। তার ওফাতের পর এটি হযরত ওমর রা.-এর হেফাজতে থাকে। তার শাহাদাতের পর তারই ওসিয়ত অনুসারে কুরআনের এ প্রতিলিপিটি নবি করিম স. এর স্ত্রী বিবি হাফসা রা.-এর নিকট গচ্ছিত থাকে। তৃতীয় খলিফা উসমান রা. -এর যুগে ইসলামি সম্রাজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটে। ইসলামের এ প্রসারের ফলে বিভিন্ন জাতি ও ভাষাবাষি লোকেরা দলে দলে ইসলাম কবুল করে। তাদের অনেকেই কুরআনের গঠন পদ্ধতি অনুসরণ করে কুরআনের বিশেষ শব্দ উচ্চারণ করতে পারত না। বিশেষ করে আরমেনিয়া এবং আজারবাইজান যুদ্ধে সমবেত মুসলমানদের কুরআন পাঠ পদ্ধতির বিভিন্নতা দেখে বিশিষ্ট সাহাবি হুযাইফা রা. খলিফা উসমান রা.-কে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি অবিলম্বে এ নিয়ে নেতৃস্থানীয় সাহাবাদের সাথে পরামর্শ করে চার জন বিশিষ্ট সাহাবা সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করেন। এ চার জন সাহাবা হচ্ছেন-

Advertisement

যায়েদ ইবনে সাবিত রা.

আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা.

সাইদ ইবনুল আস রা.

আব্দুর রহমান ইবনে হারিস রা.

হযরত উসমান রা.-এর উদ্দোগে হিজরি ২৪ সালে শেষবারের মতো কুরআন সংকলনের এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ বোর্ড হযরত হাফসা রা.-এর নিকট সংরক্ষিত মূল কপিটি সংগ্রহ করেন। উক্ত বোর্ড পূর্বলিখিত প্রতিলিপিটি অনুসরণ করে পাঠ ও উচ্চারনের বিভিন্নতা দূর করার জন্য শুধু কুরাইশি উচ্চারণ ও ভাষায় তার আরও সাতটি প্রতিলিপি প্রস্তুত করেন। বর্ণিত আছে যে, সাতটি প্রতিলিপি তৈরি করে মক্কা, শাম, ইয়েমেন,বাহরাইন, বসরা ও কুফা প্রদেশে একটি করে প্রেরণ করা হয়। আর রাজধানী মদিনাতে একটি কপি খলিফার নিকট সংরক্ষিত রাখা হয়। এরপর বিভ্রান্তি নিরসনের জন্য বিক্ষিপ্তভাবে সংরক্ষিত প্রতিলিপিগুলো সকলের কাছ থেকে সংগ্রহ করে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়। এভাবে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান রা.-এর পত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পবিত্র কুরআন সংকলিত ও বিভিন্ন প্রদেশে প্রেরিত হয় বিধায় তাকে “جمع القرآن ” বা কুরআন সংগ্রহকারী বলা হয়।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here