ত্রিশাল সরকারি নজরুল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জয়নব রেখা ও চিকিৎসক স্বামীর বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

0
332

সালমান রহমান আশিক, নিজস্ব সংবাদদাতা :
ত্রিশাল সরকারি নজরুল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও তার অনুগত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কলেজ মার্কেটের বিভিন্ন দোকান বরাদ্দের মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক), ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন জনৈক ব্যক্তি। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় জাতীয়করণ হওয়ার পর সরকারি আদেশ অমান্য করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জয়নব রেখা মার্কেট নির্মাণ ও তার নিজের অফিসে কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তার অনুগত শিক্ষক ও স্টাফদের নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় সময় শিক্ষকরা সিগারেট ও পান খেলেও বিল পরিবর্তন করে ডিম ও রুটির নামে অবৈধ ভাউচারে অনুমোদন দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জয়নব রেখা। এ ছাড়াও বিশেষ শিক্ষককে সুবিধা দিতে কলেজে মার্কেটের দোকান বরাদ্দে ও ভাড়া উত্তোলনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ করা হয় দুদকের ওই অভিযোগে। অন্যদিকে অধ্যক্ষের আস্থাভাজন প্রভাষক আজিজুর রহমান এর মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং নিজের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করেছেন। ময়মনসিংহ নগরীতে ওই শিক্ষকের একাধিক বাড়ী রয়েছে বলে অভিযোগ। এ ছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য নিষিদ্ধ থাকলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পরই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের আস্থাভাজন প্রভাষক মোঃ রকিবুল হাসান কলেজের নতুন আইসিটি ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শুক্র ও শনিবারসহ ছুটির নিদগুলোতেও কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ সব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কলেজের কেউ কথা বললে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।ত্রিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি নজরুল কলেজটি বেসরকারীভাবে পরিচালিত হওয়ার সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে কলেজের পূর্বপ্রান্তে একটি কাঁচা বাজার ও দ্বিতল পাকা মার্কেট নির্মাণ করা হয়। মার্কেটের প্রতিটি দোকান নামমাত্র মূল্যে জামানত দেখিয়ে দোকানীদের কাছ থেকে ৭ থেকে ১০ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। কলেজের স্টাফ কাউন্সিল এর সেক্রেটারি ও মার্কেট কমিটির আহŸায়ক প্রভাষক আজিজুর রহমান (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি) এবং একাডেমিক কমিটির আহŸায়ক প্রভাষক দিলীপ কুমার সরকার (পদার্থবিজ্ঞান) বেনসন সিগারেট ও পান সুপারি খেয়ে বিল উত্তোলন করেন ডিম ও রুটির ভাউচারে। আবার সেই ভাউচার তাদের আস্থাভাজন কয়েকজন শিক্ষকদের স্বাক্ষর ও অধ্যক্ষের স্বাক্ষরেই পাশ হয়। প্রভাষক আজিজুর রহমান ও প্রভাষক দিলীপ কুমারসহ তাদের পছন্দের কয়েকজন শিক্ষকের স্বাক্ষর ছাড়া কোন বিল/ভাউচার পাশ হয়না । কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির মূলে রয়েছেন স্টাফ কাউন্সিলের সেক্রেটারি ও মার্কেট কমিটির আহবায়ক প্রভাষক আজিজুর রহমান এবং একাডেমিক কমিটির আহবায়ক প্রভাষক দিলীপ কুমার সরকার। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত দূর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোন ধরণের ব্যবস্থা নেয়নি। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো তার উপর নিপীড়ন করা হয়। তাদের আধিপত্য বিস্তার দীর্ঘ দিনের। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জয়নব রেখা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির পাহাড় গড়েছেন। গত ০৭/০৬/২০১৩ খ্রিঃ তারিখে কলেজটি বেসরকারি থাকা অবস্থায় তখনকার কলেজ পরিচালনা পরিষদ জয়নব রেখাকে একটি বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ কমিটির আহŸায়ক করেন। কিন্তু তার সীমাহীন দূর্র্নীতির কারণে ঐ সময়ের আনুমানিক ৫,০০,০০০/- (পাঁচ) লক্ষ টাকার নির্মাণ ভাউচার অবৈধ থাকার কারণে তখনকার কলেজ পরিচালনা পরিষদ ও অধ্যক্ষ তার অবৈধ ভাউচার পাশ করেননি। উল্লেখ্য যে, অত্র কলেজ বেসরকারি থাকা অবস্থায় তখনকার পরিচালনা পরিষদের রেজুলেশনে উল্লেখ আছে যে, নির্মাণ ভাউচার শুধুমাত্র অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পরিষদই পাশ করার ক্ষমতা রাখেন। জয়নব রেখা অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর নাকি ঐ ভাউচারগুলো পাশ করে কলেজ ফান্ড থেকে টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন। সুধী মহলের প্রশ্ন-এটা কিভাবে সম্ভব হলো। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জয়নব রেখা সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করার সময় নিজের ইচ্ছামত কলেজে আসতেন যেতেন। তিনি টানা এক বছর কলেজে অনুপস্থিত থাকার পরও শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জয়নব রেখা কলেজ মার্কেটে সবুজ ছায়া হোটেল, আওয়ামীলীগ অফিস থেকে কোন বকেয়া আদায় করেননি। হোটেল থেকে তার অনুগত শিক্ষকরা খাওয়া দাওয়া করে বিল পরিশোধ করেন না। সে জন্য কোন বকেয়া ভাড়া হোটেল থেকে আদায় করা হয়না বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি সূত্র জানায় হোটেলটির বর্তমান বকেয়া ভাড়ার পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকার বেশি। কলেজ মার্কেট এর আহŸায়ক ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক আজিজুর রহমান কলেজ মার্কেট এর দোকান বরাদ্দে দূর্নীতি, ভাড়াটিয়া পক্ষের সাথে চুক্তি না করে মৌখিকভাবে ভাড়া উত্তোলন, পছন্দের ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে দোকান বরাদ্দ দেন। তার পছন্দের কিছু বহিরাগত লোক দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন সরকারি নজরুল কলেজ গেইটের সামনে প্রায় ৩০০টি অবৈধ দোকানপাট বসিয়ে পথচারি ও যানবাহন এর চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে প্রতিদিন সকাল বিকাল প্রায় ৯০,০০০/- (নব্বই হাজার) টাকা উত্তোলন করছেন। এ টাকা কলেজের সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেরাই ভাগ বাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করেন। অবৈধ দোকানাপাটগুলো উচ্ছেদের ব্যাপারে মার্কেট কমিটির আহবায়ক প্রভাষক আজিজুর রহমান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর কোন আবেদনপত্র জমা দেননি বা কোন ধরণের উদ্যোগ নেননি। প্রভাষক আজিজুর রহমান কলেজে আধিপত্য বিস্তার করে দূর্নীতি-অনিয়মের পাহাড় গড়েছেন। প্রভাষক আজিজুর রহমান প্রভাব বিস্তার করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি আইন অমান্য করে বার বার কলেজের অভ্যন্তরীণ প্রায় সকল কমিটিতেই থাকেন এবং সস্মানি ভাতাসহ কলেজের বিভিন্ন খাত থেকে নামে বেনামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কলেজের পূর্বপাশের্^ ঢাকা-ময়মনসিং মহাসড়ক সংলগ্ন সরকারি নজরুল কলেজের একটি দ্বিতল মার্কেট ও কাঁচা বাজার রয়েছে। সেখানে ভিট দোকানসহ প্রায় শতাধিক দোকানপাট আছে। কলেজ মার্কেট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন প্রভাষক আজিজুর রহমান। মার্ক

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here